বৃহস্পতিবার-২১শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং-৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: সন্ধ্যা ৭:২০, English Version
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিশ্ব এন্টিবায়োটিক সচেতনতা সপ্তাহ উপলক্ষে র‌্যালি পরিবহন ধর্মঘটে সৈয়দপুরসহ নীলফামারী জেলায় চরম জনদূর্ভোগ নাচোলের অন্যতম প্রয়াত নেতা আবু রেজা মোস্তাফা কামাল শামীম বাজার অস্থিতিশীলকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে -রমেশ চন্দ্র সেন গোবিন্দগঞ্জে আগ্নিকান্ডে ৩০০ দোকান পুড়ে ছাই পরিবহন ধর্মঘটের প্রভাব পড়েছে হিলি স্থলবন্দরে গোবিন্দগঞ্জে ট্রাকে ঝরল বৃদ্ধের প্রাণ

কঠিন পথে চলতে সাহায্য করবে হুইলচেয়ার!

প্রকাশ: বুধবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৬ , ৯:৪৩ পূর্বাহ্ণ , বিভাগ : তথ্য-প্রযুক্তি,

wheelchairমুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: পায়ে হেটে চলাফেরায় অক্ষম ব্যক্তিরা সাধারণত হুইলচেয়ার এর মাধ্যমে সমতল জায়গায় চলাফেরায় সীমাবদ্ধ থাকেন। সম্প্রতি একজন ব্রিটিশ উদ্ভাবক বিশ্বের প্রথমবারের মতো সব ভূখন্ডে চলতে সক্ষম এমন একটি হুইলচেয়ার উদ্ভাবন করেছেন। যেটি জঙ্গল কিংবা মরুভূমির কঠিন পথে চলাচলের উপযোগী।

সাফারিসিট নামক এই হুইলচেয়ার উদ্ভাবন করেছেন ‍২৩ বছর বয়সী জন্না ডিবল। তিনি একটি দূর্ঘটনায় মাসের পর মাস হুইলচেয়ারে আবদ্ধ ছিলেন। কেনিয়াতে বেড়ে ওঠা জন্না উপলব্ধি করেছেন, গ্রামীণ আফ্রিকায় এবং উন্নয়নশীল বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে বসবাসকারী শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য এটা কতটা কঠিন ব্যাপার। সেজন্যই তিনি তাদের সাহায্য করার জন্য এই হুইল চেয়ার উদ্ভাবন করেছেন।

বিশেষ এই হুইলচেয়ার মৌলিক সাইকেলের অংশ থেকে তৈরি এবং চারপাশে ঘোরাতে লেভার ব্যবহার করা হয়। এটার চারটি চাকার আছে। প্রতিটি চাকার সঙ্গেই নিজস্ব স্থগিতাদেশ আছে। এটি যেকোনো খারাপ ভূখন্ড মোকাবেলা করতে পারে।

তহবিল গঠনের একটি ওয়েবসাইট ব্যবহার করে জন্না এখন আশা করছেন, যথেষ্ঠ পরিমান টাকা তোলা যাবে যাতে তারা যতটা সম্ভব অনেক চেয়ার তৈরি করতে পারেন এবং পরে উন্মুক্ত হস্তচালিত সোর্স বিকিশিত করবেন যাতে স্থানীয়রা তাদের সম্প্রদায়ের জন্য চেয়ার তৈরি করতে পারেন। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে তিনি এখন তার লক্ষ্য পঞ্চাশ হাজার ডলার সংগ্রহের কাছাকাছি আছেন।

জন্না বলেন, ‘হুইলচেয়ার তৈরির নতুন এই ধারণাটি যেকেউ বজায় রাখতে এবং ঠিক করতে সক্ষম হবেন, এমনকি যারা জীবনে হুইলচেয়ার দেখেননি তারাও। টুকিটাকি কাজ জানে এমন যেকেউ এটি তৈরি করতে পারবেন, যন্ত্রাংশ থাকলেই এটি তৈরি করা যাবে।’

জন্না তার বাল্যকালের বন্ধু লেটুর কাছ থেকে চেয়ারটি তৈরির অনুপ্রেরণা পেয়েছে, যে বাল্যকাল থেকেই বিকলাঙ্গ। স্কেটবর্ডিং দূর্ঘটনায় যখন জন্নার পা ভেঙে যায়, তখন তিনি উপলব্ধি করতে পারেন, আফ্রিকার সাব সাহারান এলাকার অসমতল রাস্তায় হুইলচেয়ার ব্যবহার করাটা কতোটা কঠিন ছিল। তিনি বলেন, ‘এটি ছিল অবিশ্বাস্যভাবে হতাশাজনক, আমি প্রায়ই আটকে গিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘এ ঘটনা আমাকে এটাই ভাবিয়েছিল যে, একটি দামী অথচ বাজে চেয়ারে চড়ে আমি যে কষ্টকর অভিজ্ঞতা অর্জন করছি, সেখানে লেটু তাহলে কী ধরনের অভিজ্ঞতার অর্জন করছে, যেখানে তার কোনো সহযোগিতা নাই এবং বিস্তৃত ভূখন্ডে সে পরিস্থিতিতে কিভাবে সে মানিয়ে চলে?’

সাফারিসিট কম দামে তৈরি করা যাবে এবং বিশ্বের সব জায়গায় এর যন্ত্রাংশ সহজে পাওয়া যাবে। জন্নার অনলাইন তহবিল সংগ্রহের এই উদ্যোগটা ১৯ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে। তহবিল গঠনের উদ্দেশ্য যতটা সম্ভব অনেক চেয়ার তৈরি করা এবং একটি উন্মুক্ত ম্যানুয়্যাল সোর্সের বিকাশ ঘটানো।

তারা তাদের পঞ্চাশ হাজার ডলার লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি আছেন। যা তাদের উৎপাদন শুরু করতে সাহায্য করবে। উৎপাদিত ম্যানুয়্যাল বিনা মূল্যে গ্রামীণ সম্প্রদায়ের মধ্যে তাদেরকে দেওয়া হবে, যারা নিজেদের জন্য সাফারিসিট তৈরি করতে পারবে। সাফারিসিট হচ্ছে, জন্না এবং তার তিন বন্ধুর প্রতিষ্ঠান উজির প্রথম প্রকল্প। এটি প্রতিষ্ঠানটির একটি সামাজিক উদ্যোগ। যারা ভিন্ন কিছু করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

 

আপনার মতামত লিখুন

তথ্য-প্রযুক্তি বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ