শুক্রবার-১৩ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং-২৮শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: সকাল ১০:৩৭, English Version
বিএড প্রশিক্ষণবিহীন এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের খসড়া তালিকা প্রকাশ খালেদার জামিন আবেদন খারিজ নতুন আকর্ষণ নিয়ে শাকিব খানের ‘বীর’ সৈয়দপুরে টিসিবি’র মাধ্যমে খোলা বাজারে মিশরীয় পেয়াজ ৪৫ টাকা কেজি বিক্রি শুরু পলাশবাড়ীতে জাতীয় রিক্সা ভ্যান শ্রমিকলীগের ৪১ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত গোবিন্দগঞ্জে জাতীয় কৃষক সমিতির মানবন্ধন অনুষ্ঠিত বরিশালে ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবসের র‌্যালি

ছয় শর্তে ১০% কর ছাড়ের প্রজ্ঞাপন

প্রকাশ: রবিবার, ৪ নভেম্বর, ২০১৮ , ৬:২৮ পূর্বাহ্ণ , বিভাগ : অর্থনীতি,

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক:  শেয়ার হস্তান্তরজনিত মূলধনী মুনাফার ওপর ১০ শতাংশ কর ছাড়ে ছয়টি শর্ত জুড়ে দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়, ১০ শতাংশ কর ছাড় পেতে হলে নতুন ব্যাংক হিসাব ও বেনিফিসিয়ারি ওনার্স অ্যাকাউন্টের (বিও) মাধ্যমে অর্থ পাওয়ার ছয় মাসের মধ্যেই স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করতে হবে। আর বিনিয়োগের দিন থেকে তিন বছর কোনোভাবেই মূলধন তুলতে পারবে না। তবে বিনিয়োগ থেকে আয় বা লভ্যাংশ তুলতে পারবে বিনিয়োগকারীরা।

সরকারের এই সিদ্ধান্তে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের শেয়ারহোল্ডার ব্রোকার্সরা বা ২৫০ জন সদস্য ৯৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা বেশি পাবে। আর প্রত্যেক সদস্যের হিসাবে ৩৭ লাখ ৮৭ হাজার ৯৩০ টাকা বেশি পাচ্ছে। পুঁজিবাজারে তারল্য সংকট কমাতে এই করছাড় সুবিধা দিল সরকার।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের আয়কর থেকে জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে ছয়টি শর্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ছয়টি শর্ত পালন না করলে নিয়মিত করহার প্রযোজ্য হবে বলেও উল্লেখ করা হয়। সিনিয়র সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনটি গত ১ নভেম্বর জারি করা হয়।

উল্লেখ্য, চীনের শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জ ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের কাছে ২৫ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করেছে ডিএসইর শেয়ারহোল্ডার ব্রোকারেজ হাউস। ১৮০ কোটি ৩৭ লাখ ৭৬ হাজার ৫০০ শেয়ারের ২৫ শতাংশ বা ৪৫ কোটি ৯ লাখ ৪৪ হাজার ১২৫টি শেয়ার ক্রয় করে চীনা জোট। প্রতিটি শেয়ারের দাম ২১ টাকা ধরে দাম দাঁড়ায় প্রায় ৯৪৭ কোটি টাকা। ১৫ কোটি টাকা স্ট্যাম্প ডিউটিসহ গত ৪ সেপ্টেম্বর ৯৬২ কোটি টাকা পরিশোধ করে চীনা জোট।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেডের ২৫ শতাংশ শেয়ার শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জ ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের কাছে বিক্রির ফলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের শেয়ারহোল্ডার কর্তৃক অর্জিত শেয়ার মূলধনী মুনাফার ওপর আরোপযোগ্য করহার ৫ শতাংশ ও ওই অর্ডিন্যান্সের সেকশন ৫৩এন অনুযায়ী মূলধনী মুনাফার ওপর আরোপযোগ্য উৎসকর ৫ শতাংশ করা হলো। এই ক্ষেত্রে ছয়টি শর্ত উল্লেখ করা হয় প্রজ্ঞাপনে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত শর্তগুলো হচ্ছে শেয়ার বিক্রয়লব্ধ সমুদয় অর্থ বাংলাদেশে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোনো সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করতে হবে, প্রত্যেক শেয়ারহোল্ডারকে একটি নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাব ও নতুন বিও হিসাব খুলে শেয়ার বিক্রির সমুদয় অর্থ নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করতে হবে। ব্যাংক হিসাবে অর্থ জমা হওয়ার পর থেকে ছয় মাসের মধ্যেই নতুন বিও হিসাবের মাধ্যমে সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করতে হবে। এই অর্থ বিনিয়োগের তারিখ থেকে তিন বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ থাকতে হবে।

৫ নম্বর শর্তে বলা হয়, বিও হিসাবের মাধ্যমে শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে উদ্ভূত অর্থ তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজেও বিনিয়োগ করতে হবে। তবে শর্ত থাকে যে ‘বর্ণিত বিনিয়োগ হইতে উদ্ভূত লভ্যাংশ আয় বা ডিভিডেন্ড আয় নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে স্থানান্তর করা যাইবে।’ প্রতিবছর ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে নতুন বিও হিসাব ও ব্যাংক হিসাবের তথ্য বিবরণীয় উপকর কমিশনারের কাছে জমা দিতে হবে। ওই শর্তাবলির কোনোটি পরিপালন না করলে প্রজ্ঞাপনের নির্ধারিত করহার প্রযোজ্য হবে না বরং অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী নিয়মিত করহার প্রযোজ্য হবে বলে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্র জানায়, প্রজ্ঞাপন জারি হতে দেরি হলেও ১০ শতাংশ কর ছাড়ের প্রজ্ঞাপনে সরকারের সমর্থন বুধবারই জানতে পারে ডিএসইর শেয়ারহোল্ডার ব্রোকার্সরা। তারা ওই দিন থেকে চেকের মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করছে। সর্বশেষ ১৪০ জনের মতো সদস্য মূলধন সংগ্রহ করছে।

পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচনের বছরে নতুন অর্থ সরবরাহে সরকার ব্রোকার্সদের এই কর ছাড় সুবিধা দিচ্ছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তে প্রত্যেক সদস্য প্রায় ৩৮ লাখ টাকা করে বেশি অর্থ পাবে। অন্যদিকে নির্বাচনের বছরে পুঁজিবাজারে নতুন করে ১০০০ কোটি টাকা ফান্ডও আসছে।

হিসাবে দেখা যায়, ২৫ শতাংশ শেয়ার বিক্রি থেকে প্রায় ৯৪৭ কোটি টাকা অর্থ পেয়েছে ব্রোকারেজ হাউস। এই টাকা থেকে ১৫ শতাংশ গেইনট্যাক্স বাদ দিলে মূলধন দাঁড়ায় ৮০৪ কোটি ৯৩ লাখ ৫২ হাজার ৬৩১ টাকা। অর্থাৎ ১৪২ কোটি টাকা পাবে সরকার। আর ব্রোকারেজ হাউস বা সদস্যরা পাবেন তিন কোটি ২১ লাখ ৯৭ হাজার ৪১০ টাকা।

ঘোষিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ৫ শতাংশ করে সরকারি কোষাগারে রাজস্ব পাবে ৪৭ কোটি ৩৪ লাখ ৯১ হাজার ৩৩১ টাকা। আর ১০ শতাংশ কর ছাড়ে ব্রোকার বা সদস্যরা পাবেন ৮৯৯ কোটি ৬৩ লাখ ৩৫ হাজার ২৯৭ টাকা। অর্থাৎ ৯৪ কোটি ৬৯ লাখ ৮২ হাজার ৬৬২ টাকা বেশি পাচ্ছে ব্রোকাররা। কর ছাড়ের পর ব্রোকার্সরা বা ২৫০ জন প্রত্যেকেই পাবে তিন কোটি ৫৯ লাখ ৮৫ হাজার ৩৪১ টাকা। অর্থাৎ প্রত্যেক সদস্য ৩৭ লাখ ৮৭ হাজার ৯৩০ টাকা করে বেশি পাবেন।সূত্র: কালের কন্ঠ

আপনার মতামত লিখুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ