রবিবার-১৯শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং-৬ই মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: দুপুর ১:০৩, English Version
ছাতকে বিল্ডিংয়ের ছাদ থেকে পড়ে কলেজ ছাত্রীর মৃত্যু ছাতকে আচ্ছা মিয়া স্মরণে শোকসভা ও দোয়া মাহফিল জিয়া, এরশাদ ও খালেদা জিয়ারা ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করেছে —নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে বাংলাদেশের সগৌরব উপস্থিতি থাকবে — অর্থমন্ত্রী চিরিরবন্দরে ট্রাক্টরের ধাক্কায় ভ্যান চালকের মৃত্যু শার্শায় ট্রেন-ইজিবাইক মুখোমুখি সংঘর্ষ সিরাজগঞ্জে একই রাতে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পেল ২ স্কুলছাত্রী

খালেদা বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালে চিকিৎসা নিতে রাজি!

প্রকাশ: শনিবার, ৬ অক্টোবর, ২০১৮ , ৬:২১ পূর্বাহ্ণ , বিভাগ : জাতীয়,সারাদেশ,

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক:  কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অবশেষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে রাজি হয়েছেন। পছন্দের ব্যক্তিগত তিনজন চিকিৎসকই সেখানে তাঁকে চিকিৎসা দেবেন। আজ শনিবার অথবা কাল রবিবার তাঁকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে ভর্তি করা হতে পারে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান গতকাল শুক্রবার রাতে কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন।

কারা সূত্র জানিয়েছে, হাইকোর্টের রায়ের কথা জানিয়ে গতকাল দুপুরে কারা কর্মকর্তারা খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালে যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি যেতে রাজি হননি। তবে তিনি দু-এক দিনের মধ্যেই যেতে চান বলে জানিয়েছেন। সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছে কারা কর্তৃপক্ষ। তাঁকে ভর্তি করে চিকিৎসা দিতে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল। হাসপাতাল সূত্র জানায়, তাঁকে একটি ভিআইপি কেবিনে রাখা হবে।

এর আগে সরকারের তরফ থেকে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল ও সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু খালেদা জিয়া ওই দুটি হাসপাতালে যেতে রাজি না হওয়ার কারণে তাঁকে ওই দুটির কোনোটিতেই নেওয়া সম্ভব হয়নি।

জানতে চাইলে গতকাল রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছেন তাঁকে (খালেদা) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য। সেখানে তাঁর ব্যক্তিগত তিনজন চিকিৎসক চিকিৎসা দেবেন। তাঁকে শনিবার অথবা রবিবার চিকিৎসা দেওয়ার জন্য নিয়ে যাওয়া হবে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সরকার সব সময়ই আন্তরিক তাঁর চিকিৎসার ক্ষেত্রে। অনেক আগে থেকেই তো আমরা বলছি বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য। এবার হাইকোর্ট রায় দিয়েছেন।’

কারা চিকিৎসক মাহমুদুল হাসান শুভ গতকাল সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তিনি (খালেদা জিয়া) বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালে গিয়ে চিকিৎসা নিতে রাজি হয়েছেন। তাঁকে দু-এক দিনের মধ্যেই সেখানে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হবে।’

এক কারা কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানান, গত বৃহস্পাতিবার রাতেই আদালতের নির্দেশনা তাঁদের কাছে পৌঁছেছে। এরপর গতকাল খালেদা জিয়াকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। ওই সময় কারা কর্মকর্তারা তাঁকে শুক্রবারই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানান। কিন্তু খালেদা জিয়া রাজি হননি। কারা কর্মকর্তারা হাইকোর্টের দেওয়া রায়টি তাঁকে শোনানোর সময় তিনি মনোযোগ দিয়ে শোনেন।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার আদেশ দেন। গত ৯ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়া একটি রিট দায়ের করেন। ওই আবেদনের ওপরই গত বৃহস্পতিবার আদালত আদেশটি দেন। আদেশে খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করতে এবং চিকিৎসাসেবা শুরু করতে পাঁচ সদস্যের একটি বোর্ড গঠন করার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। বিএসএমএমইউয়ের চিকিৎসক আবদুল জলিল চৌধুরী ও বদরুন্নেসা আহমেদ এ বোর্ডে থাকবেন। অপর তিনজন সদস্য সরকার মনোনয়ন করবে। তবে ওই তিনজনের কেউই স্বাচিপ ও ড্যাবের বর্তমান বা অতীত কার্যনির্বাহী সদস্য হতে পারবেন না। বোর্ড ও কারা কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউতে ভর্তি ও চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা করতে বলেছেন। আদালত এও বলেছেন, আবেদনকারী (খালেদা জিয়া) তাঁর পছন্দ অনুসারে ফিজিওথেরাপিস্ট, গাইনোকলজিস্ট ও টেকনিশিয়ান নিতে পারবেন। তবে বোর্ডের অনুমোদন সাপেক্ষে তিনি বাইরে থেকেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আনতে পারবেন। ইউনাইটেড বা বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা দিতে নির্দেশনা চেয়ে গত ৯ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়া রিট করেন, যার ওপর গত মঙ্গল ও বুধবার শুনানি হয়। গত বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে আদেশ দেন আদালত।

এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সঙ্গে দেখা করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সাত সদস্য। তাঁরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পৌনে এক ঘণ্টা বৈঠক করেন। তাঁরা খালেদা জিয়াকে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করার আবেদন জানান। তাঁদের বৈঠকের সময়ই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইজি প্রিজনস ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিনকে ডেকে পাঠান। তাঁর কাছ থেকে খালেদা জিয়ার অসুস্থতার বর্তমান অবস্থা জানে দুই পক্ষই। ওই দিনই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছিলেন ‘তাঁদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রসচিব ও আইজি প্রিজনসকে দায়িত্ব দিয়েছি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে একটি বোর্ড গঠন করে তাঁর স্বাস্থ্যর বিষয়টি দেখার জন্য। আগেও এমন বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তাঁকে যাঁরা চিকিৎসা করেন এবং সরকারি চিকিৎসকদের সুপারিশ অনুযায়ী আমরা সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেব।’

এর পাঁচ দিন পর ১৩ সেপ্টেম্বর একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়। এই বোর্ডে ছিলেন বিএসএমএমইউয়ের কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক হারিসুল হক, অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু জাফর চৌধুরী বীরু, চক্ষু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. তারিক রেজা আলী ও ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বদরুন্নেসা আহমেদ। গত ১৫ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত পাঁচ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে। পরদিন ১৬ সেপ্টেম্বর সেই স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন দাখিল করা হয়; যেখানে স্বাস্থ্যগত পরিস্থিতি বিবেচনায় খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়ার মত দেয় মেডিক্যাল বোর্ড। তবে যে হাসপাতালে সব ধরনের চিকিৎসা সুবিধা রয়েছে সেই হাসপাতালের কথা সুপারিশ করা হয়। সে বিবেচনায় বিএসএমএমইউ হাসপাতালের কথাই উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। তবে খালেদা জিয়া রাজি না হওয়ায় তাঁকে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালে নিয়ে যাওয়া যায়নি বলে জানায় কারা কর্তৃপক্ষ। অবশেষে হাইকোর্টের নির্দেশের পর তিনি রাজি হয়েছেন বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন বিচারিক আদালত। এর পর থেকে তাঁকে নাজিমুদ্দীন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে।সূত্র: কালের কন্ঠ

আপনার মতামত লিখুন

জাতীয়,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ