সোমবার-২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং-৮ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ১১:২৩
গোবিন্দগঞ্জ  ফেন্সিডিলসহ ১ জন গ্রেফতার  লালপুরে ৪ ভেজাল গুড় কারখানা মালিকের জরিমানা আসন্ন দূর্গাপূজা উপলে শিবগঞ্জ থানার মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত সৈয়দপুর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে টাকা ছাড়া ডেলিভারী সেবা মেলেনা শৈলকুপায় পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু পদ্মফুল এখন গাইবান্ধার বিল জলাশয়ে শারদীয় দুর্গা পুজার প্রতিমা তৈরী ও মন্ডপ সাজানোর কাজে ব্যাস্ত হিন্দু সম্প্রদায়ের

বিবর্তনেও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৪ অক্টোবর, ২০১৮ , ৪:০৭ পূর্বাহ্ণ , বিভাগ : জাতীয়,সারাদেশ,

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক:  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুইজন ও যুক্তরাজ্যের একজন রসায়নবিজ্ঞানী ২০১৮ সালে রসায়নবিদ্যায় নোবেল পেয়েছেন। গতকাল বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে দ্য রয়েল একাডেমি অব সায়েন্সের স্থায়ী সেক্রেটারি গোরান হ্যান্সন এ ঘোষণা দেন। প্রাণিদেহের রসায়নঘটিত সমস্যা সমাধানে বিবর্তনের ক্ষমতা ব্যবহার করে প্রোটিন উন্নয়নে কাজ করায় এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

গোরান হ্যান্সন জানান, এনজাইমের বিবর্তন নিয়ে কাজ করার স্বীকৃতি হিসেবে ফ্রান্সেস এইচ আরনল্ড পুরস্কারের অর্ধেক এবং অ্যান্টিবডি ও পেপটাইডের ধাপ প্রদর্শন করার জন্য যৌথভাবে বাকি অর্ধেক পুরস্কারের জন্য স্যার গ্রেগরি পি উইন্টার ও জর্জ পি স্মিথের নাম ঘোষণা করা হয়। সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে আগামী ১০ ডিসেম্বর তাঁদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।

গোরান হ্যান্সন বলেছেন, বিবর্তন ঘটায় যে শক্তি, তা উদ্ঘাটন সম্ভব হয় জীবনের বহুধা বৈচিত্র্যের ধারাবাহিকতা পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার মাধ্যমে। এই দিন বিজ্ঞানী ‘জীবন বিবর্তনের’ নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয়েছেন এবং তা থেকে লব্ধ জ্ঞানের সম্যক ব্যবহার করেছেন মানব জাতির সর্বোচ্চ কল্যাণ সাধনে। এনজাইম পরিচালিত বিবর্তনের মাধ্যমে নতুন যা কিছু উৎপাদন হয়েছে, তা সরাসরি ব্যবহার করা সম্ভব হয়েছে জৈব জ্বালানি থেকে শুরু করে ওষুধপত্র তৈরিতে। অ্যান্টিবডি বা রক্তে রোগ প্রতিরোধ সৃষ্টিকারী প্রোটিন উৎপাদনের যে প্রক্রিয়াটি রয়েছে, তা একটি ‘ফেজ (চযধমব) প্রদর্শন’ পদ্ধতি অনুসরণ করে, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনাক্রম্য রোগ প্রতিরোধ করতে পারে। এমনকি তা ক্ষেত্রবিশেষে মেটাস্ট্যাটিক ক্যান্সার নিরাময়েও সক্ষম হতে পারে।

প্রায় ৩৭০ কোটি বছর আগে পৃথিবীতে যখন প্রথম ‘জীবনের জন্ম’ হয়েছিল, তখন ভূমির প্রায় প্রতিটি ছিদ্রই পূর্ণ ছিল অর্গানিজম বা জৈবদেহে। সে সময় ‘বিবর্তন’ মেকানিজমের কারণে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য রাসায়নিক সমস্যা সমাধানের কারণে ‘জীবন’ ছড়িয়ে পড়েছিল বিভিন্ন উষ্ণ এলাকায়, গভীর সাগরের তলদেশে এবং শুষ্ক মরুভূমিতে। ক্রমান্বয়ে দেহের ‘টুলস’ হিসেবে পরিচিত ‘প্রোটিন’ বিভিন্ন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার জন্য নিজেকে নিখুঁত, পরিবর্তন, পরিবর্ধন করা ছাড়াও সাজিয়েছিল বিভিন্ন বৈচিত্র্যে। এ বছরের নোবেল বিজয়ীদের গবেষণার মূল অনুপ্রেরণার কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই বৈচিত্র্যময় ‘বিবর্তনের শক্তি’। ‘জেনেটিক পরিবর্তন ও নির্বাচন’—এই দুটি বিষয়ের পেছনে যে ক্রিয়াশীল শক্তিগুলো (প্রোটিন) কাজ করে, সেগুলো বিবর্তন বা সৃষ্টির নীতিমালাগুলো অনুসরণ করে নতুন নতুন প্রোটিন উদ্ভাবন ও সেগুলোর উন্নয়ন সাধনের মাধ্যমে মানবজাতির দেহাভ্যন্তরীণ রাসায়নীয় সমস্যাগুলোর সমাধানে সচেষ্ট হয়েছেন এই তিন বিজ্ঞানী।

ফ্রান্সেস এইচ আরনল্ড ১৯৯৩ সালে প্রথম তাঁর নিজস্ব নির্দেশনায় রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া অনুসরণকারী প্রোটিনের এনজাইমগুলোর বিবর্তন পরিচালনা করেছিলেন। সেই থেকে তিনি নিয়মিতই বিক্রিয়া বা অনুঘটকে ব্যবহৃত পদ্ধতিগুলোর পরিমার্জন ঘটিয়ে নতুন নতুন প্রোটিনের জন্ম দিয়েছেন। অরনল্ডের নতুন নতুন এনজাইম ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব রাসায়নিক পদার্থ উৎপাদন, বিশেষ করে ওষুধপত্র এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন খাতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে।

১৯৮৫ সালে জর্জ স্মিথ চমৎকার একটি পদ্ধতির উন্নয়নসাধন করেন, যা ‘ফেজ ডিসপ্লে’ নামেও পরিচিতি লাভ করে। গবেষণায় তিনি পর্যবেক্ষণ করেন, ভাইরাস যখন কোনো ব্যাকটেরিয়ায় সংক্রমিত হয় (ব্যাকটেরিয়াফেজ), প্রক্রিয়ার ঠিক সেই সময় সম্পূর্ণ নতুন ধরনের প্রোটিন সৃষ্টি করা সম্ভব হয়।

গ্রেগরি উইন্টার নতুন ধরনের ফার্মাসিউটিক্যাল বা ওষুধ উৎপাদনের জন্য অ্যান্টিবডি পরিচালিত বিবর্তনের ক্ষেত্রে ‘ফেজ ডিসপ্লে’ পদ্ধতি ব্যবহার করেন। ২০০২ সাল থেকে ‘ফেজ ডিসপ্লে’ পদ্ধতির মাধ্যমে নতুন নতুন ‘অ্যান্টিবডিজ’ উৎপাদন করা হচ্ছে, যা বিষক্রিয়াকে প্রতিরোধ করে, স্বয়ংক্রিয় ইমিউন সিস্টেমকে বাধা দেয় এবং মেটাস্ট্যাটিক ক্যান্সার নিরাময় করে।

ফ্রান্সিস এইচ আরনল্ড ১৯৫৬ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পিটার্সবার্গে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বের্কলি, ইউএসএ থেকে পিএইচডি লাভ করেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পাসাডেনে ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে লিনুস পাউলিং প্রফেসর অব কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং হিসেবে কর্মরত আছেন।

জর্জ পি স্মিথ ১৯৪১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নরওয়াকে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭০ সালে তিনি কেমব্রিজের হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি, ইউএসএ থেকে পিএইচডি লাভ করেন। বর্তমানে তিনি কলম্বিয়ার ইউনিভার্সিটি অব মিসরি, ইউএসএতে প্রফেসর ইমেরিটাস অব বায়োলজিক্যাল সায়েন্স হিসেবে কর্মরত আছেন।

স্যার গ্রেগরি পি উইন্টার ১৯৫১ সালে যুক্তরাজ্যের লেইচেস্টারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭৬ সালে ইউনিভার্সিটি অব কেমব্রিজ থেকে পিএইচডি লাভ করেন। বর্তমানে তিনি কেমব্রিজের ‘এমআরসি ল্যাবরেটরি অব মলিকুলার বায়োলজি’তে রিসার্চ লিডার ইমেরিটাস হিসেবে কর্মরত আছেন।সূত্র: কালের কন্ঠ

আপনার মতামত লিখুন

জাতীয়,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ