বুধবার-১লা এপ্রিল, ২০২০ ইং-১৮ই চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ৪:৩২, English Version
সাধারণ ছুটি ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ল চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে খাবার তুলে দিলেন লেনিন প্রামাণিক চাঁপাইনবাবগঞ্জে সাবেক এমপি আব্দুল ওদুদের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ পার্বতীপুরের পত্রিকা বিক্রেতাদের হাতে তুলেন দিলেন খাদ্য সামগ্রী- উপজেলা সমাজসেবা অফিসার পলাশবাড়ীতে পৌরসভার উদ্যোগে জিবানুনাশক স্প্রে কার্যক্রম শিবগঞ্জেমৃত ব্যক্তির করোনা ভাইরাস ছিলনা ১৫ বাড়ী লক ডাউন প্রত্যাহার পলাশবাড়ীতে কর্মহীন ভাসমান বেদে পরিবারের মানবেতর জীবনযাপন

শ্রীপুরে তৈরী হচ্ছে যাত্রী মরণ ফাঁদ!

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ আগস্ট, ২০১৮ , ৯:১৩ পূর্বাহ্ণ , বিভাগ : ঢাকা,সারাদেশ,

আলফাজ সরকার আকাশ, শ্রীপুর (গাজীপুর)ঃ
বর্তমানে সারাদেশে সড়ক-মহাসড়ক যখন মৃত্যুর কূপ তখনও অনেক স্থানে তৈরী হচ্ছে যাত্রীদের মরণ ফাঁদ। বিশেষজ্ঞদের মতে, যে সকল কারনে মহাসড়কে দুর্ঘটনা বেশি ঘটছে তার মধ্যে অন্যতম হলো তিন চাকার অযাচিত যান। যেগুলোর নেই কোন ফিটনেছ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। আর চালকের নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স। তবুও যেন চলছে দেদারছে। আইগত ভাবে যদিও এগুলো মহাসড়কে বৈধ নয় তথাপিও অনিয়ম এখন যেন নিয়মেই পরিণত হয়ে গেছে। বলা হচ্ছিল ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সার কথা। নি¤œ ও হালকা মানের সামগ্রী দিয়ে উৎপাদন হচ্ছে মরণ ফাঁদের ওই যানগুলো। পরিসংখ্যাণ বলছে সারাদেশের ন্যায় গাজীপুরেও গত এক বৎসরে এসকল যান দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা সার্বাধিক।
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কোন প্রকার নিয়ম নিতির তোয়াক্কা না করে এসকল মরণ ফাঁদ জাতীয় ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা তৈরি করা হচ্ছে। এসকল যানবাহনগুলো সড়ক মহাসড়কে চলাচল করায় নিয়মিতই ঘটে চলেছে দুর্ঘটনা।
২৯ আগষ্ট বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় শ্রীপুর চৌরাস্তা বরমী রোড, টেংরা রোডের মোড়, শাপলা সিনেমা হল মোড়, লোহাই বাজার সহ একাধিক স্থানে উৎপাদন কাজে ব্যস্ত মরণ ফাঁদ তৈরির শ্রমিকরা। নিয়মিত প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এ যানগুলো উৎপাদন ও রাস্তায় নামানো হচ্ছে বলে জানায় ব্যবসায়ী এবং চালকেরা। যদিও প্রশাসন এ বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নি¤œ মানে ইসপাত, লোহা, মটর ও ব্যাটারী ব্যবহার করে রাস্তায় নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে এসকল মরণ ফাঁদ যানগুলো। এছাড়াও আগের প্যাডেল চালিত রিক্সাগুলোর মধ্যে মটর বসিয়ে দ্রুত গতিতে কোন প্রশিক্ষণ ছাড়াই চালাচ্ছে চালকেরা। এতে যে কোন মুহুর্তে উল্টে গিয়ে হাত-পা ভাংছে যাত্রীদের। অন্যদিকে আবার দেখা যায় শিশুদের দ্বারাও চালানো হচ্ছে এসকল যান।

এ ব্যাপারে অটোরিক্সা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান মক্কা ইঞ্জিনিয়ার ওয়ার্কসপ এর স্বত্তাধীকারী মোঃ সইব্রাহিম পুলিশকে টাকা দেয়ার কথা মোবাইল ফোনে স্বীকার করেন।তবে এ ব্যাপারে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হয়নি ।
অটোরিক্সা চালক শরীফ বলেন, বর্তমানে মাওনা-শ্রীপুর রোডে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় লেগুনা, সিএনজি ও ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা দিয়ে নিয়মিত ভাবে যাত্রী আনা-নেওয়া করা হচ্ছে। কিন্তু জিপি দিতে দিতে আমাদের জান শেষ, তারপরেও আবার মহাসড়কে যাইতে দেয় না পুলিশ।

আরেক অটোরিক্সা চালক পঞ্চাশোর্ধ জহির মিয়া বলেন, “জাগায় জাগায় জিপির ট্যাহা, নেতার ট্যাহা, পৌরসভার ট্যাহা ও পুলিশরে ট্যাহা দিয়ে রাইতে ২ কেজি চাল নিয়ে বাড়ি যাইতে অয় তাইলে আমরা চলমু ক্যামনে”?

এ বিষয়ে মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন জানান, মহসড়কে ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আমরা নিয়মিত সভা-সেমিনার করে যাত্রী ও চালকদের এ বিষয়ে সচেতন করে থাকি। তারপরও যদি কোন ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা মহাসড়কে উঠে তবে তাদেরকে প্রয়োজনীয় আইনের আওতায় আনা হয়।
গাজীপুর জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর জানান, দুর্ঘটনা রোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সচেতনতা মূলক বিভিন্ন সভা-সেমিনার করা হয়। সড়কে দুর্ঘটনা রোধে যাত্রী ও চালকের সহযোগীতা প্রয়োজন।

(বক্ত: ১। স্থানীয় অটোরিক্সা চালক,বক্ত-৩ অটোরিক্সা চালক শরীফ, বক্ত: ৪। অটোরিক্সা চালক জহির মিয়া বক্ত: ৫। মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন)

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ