সোমবার-২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং-৮ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: সন্ধ্যা ৬:৫৮
মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের জবাবে তথ্যমন্ত্রী সমালোচনা করার আগে আয়নায় নিজের মুখ দেখেন পার্বতীপুরে ফেন্সিডিলসহ গ্রেফতার- ১ সৈয়দপুর কম্পোস্ট ব্যবহারের প্রয়োজনীতা শীর্ষক অবহিতকরণে কর্মশালা অনুষ্ঠিত ফুলছড়িতে ৪ ঘন্টার ব্যবধানে বয়োবৃর্দ্ধ স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু ফুলছড়িতে ৪ দিনব্যাপী কৃষি মেলার উদ্বোধনে ডেপুটি স্পিকার ছন্দাকে সভাপতি, পারুলকে সাধারন সম্পাদক করে ১৩ সদস্য বিশিষ্ঠ কমিটি গঠন আসক এর নির্বাহী পরিচালক শীপা হাফিজা’র সাথে সংবাদকর্মীদের সৌজন্য স্বাক্ষাত

আদিবাসী শিশুদের মাছ বাজার

প্রকাশ: সোমবার, ১৬ জুলাই, ২০১৮ , ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ , বিভাগ : রংপুর,সারাদেশ,

পার্বতীপুর(দিনাজপুর)প্রতিনিধি
দ্বিতীয় শ্রেনীর ছাত্রী জুঁই রানী। পড়ে স্থানীয় মুজিবাবাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। স্কুল ছুটির পর প্রচন্ড রোদ উপেক্ষা করে কৃষি জমিতে দেশিয় প্রজাতীর মাছ ধরতে যায় সে। ধৃত মাছ অস্থায়ী বাজারে এনে বিক্রি করে। পঞ্চম শ্রেনীর ছাত্রী রতœা রানী । সেও একই বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেনীতে পড়াশোনা করে। স্কুল শেষে বাড়ী ফিরে চলে যায় মাছ ধরার কাজে। পড়ন্ত বিকেলে কাদা মাখা শরীরে সেই মাছ বাজারে এনে বিক্রি করে। শুধু জুঁই আর রতœা নয় পার্বতীপুর পৌর এলাকার আদিবাসী পল্লী মুসাহার সম্প্রদায়ের অর্ধশত শিশু এখন মাছ ধরার কাজে নেমে পড়েছে। তাদের ধরা মাছ তারা নিজেরাই বিক্রি করছেন পল্লীর সামনে নিজেদের গড়ে তোলা অস্থায়ী বাজারে। মাছ বিক্রির টাকায় খাতা-কলম কেনার পাশাপাশি নিজেদের প্রয়োজনীয় চাহিদা মেঠাচ্ছেন।
পার্বতীপুর পৌর সভার তিলাই নদী ঘেঁষে রয়েছে আদিবাসী পল্লী। ওই পল্লীতে বসবাস করেন মুসাহার সম্প্রদায়ের দেড় শতাধিক আদিবাসী পরিবার। দরিদ্র পল্লীর আদিবাসীরা সাধারনত কুঁচে ও মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করাই তাদের মূল পেশা। বর্তমানে অবশ্য অনেকেই বিভিন্ন স্থানে দিন মজুরের কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন। দারিদ্রতার পরেও তারা তাদের সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যপারে সজাগ।
গতকাল রোববার আদিবাসী পল্লীতে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের সামনে দিয়ে চলে গেছে পার্বতীপুর-দিনাজপুর পাকা সড়ক। ওই সড়কের ধারেই তারা গড়ে তুলেছে দেশি মাছের বাজার। বাজারে উঠেছে কই, মাগুর, টাকি, পুটিসহ নানা প্রজাতীর ছোট মাছ। গায়ে কাদা-মাটি মেখেই মাছ বিক্রি করছেন শিশুরা। অনেক অভিভাবক তাদের শিশুদের মাছ বিক্রি করতে সহযোগিতাও করছেন। মজার বিষয় হচ্ছে এখানে কোন ওজন নেই। শিশুদের কাছ থেকে অনুমান করেই মাছ কিনতে হয়।
মাছ বিক্রি করতে আসা স্কুল ছাত্রী জবা রানী বলে, সে মুজিবাবাদ বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেনীতে পড়ে। স্কুল ছুটির পর তারা দুই বোন প্রতিদিন কৃষি জমিতে মাছ ধরতে যায়। সেই মাছ রস্তার ধারে এনে বিক্রি করে। প্রতিদিন তারা ৩-৪শ টাকার মাছ বিক্রি করে থাকে। ওই টাকা দিয়ে নিজেদের লেখাপড়ার খরচসহ পরিবারকে সহযোগিতা করে।
আদিবাসী পল্লীর কমলা কান্ত বলেন, তার গ্রামের অর্ধশত ছেলে মেয়ে এখন মাছ ধরার কাজে নেমে পড়েছে। স্কুল থেকে ফিরেই তারা মাছ ধরতে যায়। প্রতিদিন শিশুদের ধরা ৪-৫ মন মাছ বিক্রি হয় এই সড়কের ধারে। বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ক্রেতা ছাড়াও পথচারীরা এখানে মাছ কিনে থাকে। শিশুরা নিয়মিত মাছ ধরলেও কেউই স্কুল ফাঁকি দেয় না।
মাছ কিনতে আসা পার্বতীপুর বালিকা পাইলট স্কুলের শিক্ষক মোখলেছুর রহমান বলেন, এই অস্থায়ী বাজারে দেশী মাছ পাওয়া যায়। তা ছাড়া শিশুদের কাছ থেকে মাছ কিনতে ভালই লাগে। দাম একটু বেশি হলেও কষ্ট লাগে না শিশুদের মুখের দিকে তাকিয়ে।
মুজিবাবাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকা রওশন আরা বলেন, আদিবাসী শিশুরা এখন আগের চেয়ে অনেক ভাল পড়া শোনা করে। তারা পরিশ্রমী, মাছ ধরে বাড়তি রোজগার করলেও স্কুল ফাঁকি দেয় না শিশুরা।

আপনার মতামত লিখুন

রংপুর,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ