বৃহস্পতিবার-২১শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং-৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: সকাল ১১:২৯, English Version
বাজার অস্থিতিশীলকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে -রমেশ চন্দ্র সেন গোবিন্দগঞ্জে আগ্নিকান্ডে ৩০০ দোকান পুড়ে ছাই পরিবহন ধর্মঘটের প্রভাব পড়েছে হিলি স্থলবন্দরে গোবিন্দগঞ্জে ট্রাকে ঝরল বৃদ্ধের প্রাণ রুদ্ধদ্বার বৈঠক : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাসে সড়কে ধর্মঘট প্রত্যাহার পলাশবাড়ীতে বাস থেকে পড়ে হেলপারের মৃত্যু ক্রেডিট কার্ড: গ্রাহকরা কী করতে পারেন, কী পারেন না

“কলাপাড়ায় স্বাধীনতা দিবসেও উচ্ছাস নেই ওদের চোখে মুখে”

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ মার্চ, ২০১৮ , ৩:৫৯ পূর্বাহ্ণ , বিভাগ : ঢাকা,সারাদেশ,

মিলন কর্মকার রাজু, কলাপাড়া(পটুয়াখালী)।।
ওদের স্বপ্ন আগামীর সুন্দর ভবিষৎ। পাঠ্য বইয়ের গন্ডি পেরিয়ে আবিস্কার করার স্বপ্ন নতুন প্রযুক্তি। প্রশ্ন ফাঁসের রাহুমুক্ত হয়ে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে দেশ গড়ার কাজে অংশ নেওয়ার। রাস্তায় ঘুরে বেড়াবে না কোন পথ শিশু। ক্ষুধার জ্বালায় কৈশোরেই ঝুঁকিপূর্ণ পেশা বেছে নিবে না কোন স্কুলগামী শিশু। স্বাধীনতার ৪৭ বছরে এ স্বপ্ন নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে এসে এ নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন উপস্থাপন করেন। কিন্তু বিপরীত চিত্র কলাপাড়ার জেলে পল্লী ও চরাঞ্চলের শিশুদের।
বঙ্গবন্ধু মানে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের এই দেশে কিশোর অটোচালক রিয়াদুলকে দেখে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী রিয়া মনির জানতে চাওয়া-তুমি (রিয়াদুল) কেন আমাদের সাথে যাবে না স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে। তুমি কি স্কুলে পড়ো না। তুমি কেন অটোচালাও।
মেয়ের কথা শুনে পাশে বসা পিতা মনির হোসেন কোন উত্তরই দিতে পারেণি। উত্তর পাওয়া যায়নি রিয়াদুলের কাছ থেকেও। ওর নিরবতাই রিয়াদুলের অসহায়ত্ব এ কথা রিয়ামনির পিতা বুঝতে পারলেও রিয়ামনি বুঝতে পারেণি।
কলাপাড়ার সাগর তীরবর্তী ধুলাসার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যখন স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান চলছে কয়েক কিলোমিটার দূরেই ফেলন ডাল ক্ষেতে ডাল তুলছে কিশোরী রাবেয়া(১৩)। লেখাপড়া বন্ধ না করলে হয়তো রাবেয়া এখন সপ্তম শ্রেণিতে পড়তো। কিন্তু দারিদ্রতার কারণে আজ সে ডাল কুড়ানী। প্রতিবেশী খেলার সাথী ফাতেমা, তানিয়া, লাবনী এখন পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। তারা যখন স্কুল পোষাক পড়ে একই পথ দিয়ে যাচ্ছিলো তখন ডাল কুড়াতে ভুলে গিয়ে শুধু ওদের দিকেই তাকিয়ে আছে রাবেয়া।
স্কুল ছাত্রী তানিয়া জানায়, আমরা স্কুলে যাচ্ছি, আর রাবেয়া যাচ্ছে না এটা কেন। আমাদের বাবা-মা স্কুলে পাঠায় তাহলে ওকে কেন পাঠায় না। ও কেন ডাল তুলে। আজ তো ছুটি। আমরা স্কুলে গিয়ে খেলা করবো। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। রাবেয়া কি জানে না আজ স্বাধীনতা দিবস। কিশোরী তানিয়ার এ প্রশ্নের উত্তর াদতে পারেণি তার সাথে দাদা আতাহার মিয়া।
কলাপাড়ার দুই শতাধিক প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং মাদ্রাসায় সোমবার দিনভর মহান বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান হয়েছে কিন্তু এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন হাজারো শ্রমজীবি শিশু-কিশোরের কাছে এ দিবসের গুরুত্ব ছিলো না। মাঠে,ক্ষেতে, নদী, সাগর কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ কাজে আজও তারা ব্যস্ত ছিলো।
নবম শ্রেণির ছাত্রী ন¤্রতার প্রশ্ন-সরকার আইন করে যেমন সব অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারে তাহলে এই ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় শিশুদের কাজ করানো কেন বন্ধ করতে পারে না। কেন সব শিশুকে বাধ্যতামূলক বিনা খরচে স্কুলে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে না।
একাদশ শ্রেণির ছাত্র রাফিদুল জানতে চায়-স্বাধীনতা মানে কি শুধু একটা গোষ্ঠী বা শ্রেণির বিলাসিতা নাকি গোটা বাংলাদেদের মানুষের স্বাধীনতা। এই কি ছিলো বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন। আজ স্বাধীনতা দিবস অথচ হাজারো শিশু-কিশোর শ্রম বিক্রির পেশায়।
দশম শ্রেণির ছাত্র সিয়াব জানায়, আমার স্বপ্ন নতুন প্রযুক্তি আবিস্কার করে সারা বিশ্বকে তাকলাগানো। বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করাতে চাই। কিন্তু তার বয়সী ছেলে-মেয়েদের যখন দেখেন লেখাপড়া বন্ধ করে পথে পথে ঘুরছে তখন সব স্বপ্ন ভেঙ্গে যায়।
এইচএসসি পরীক্ষার্থী রুবেল হোসেনের স্বপ্ন পথ শিশুদের নিয়ে কাজ করায়। পারিবারিক অস্বচ্ছলতার মধ্যেও সে টিউশনি করে উপার্জণ করে এবার পরীক্ষা দিবেন। রুবেল জানায়- পারিবারিক অসচ্ছলতায় কেন স্কুলের গন্ডি না পেরোতেই শিক্ষার্থীরা ঝড়ে পড়ে তা বুঝতে পেরেছেন নিজের জীবন থেকে। তাই পড়া লেখা শেষ করে এই ঝড়ে পড়া শিশুদের শিক্ষজীবন গড়তে কাজ করার ইচ্ছা তার।
স্কুল শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান বলেন, চরাঞ্চলের এখনও ৩০-৪০ ভাগ শিশু ১২-১৫ বছর বয়সেই স্কুলের গন্ডি না পেরোতেই পারিবারিক অস্বচ্ছলতায় বাধ্য হচ্ছে লেখাপড়া ছেড়ে দিতে। গত কয়েক বছরে এ ঝড়ে পড়ার হার কমলেও বাড়েনি চরাঞ্চলের শিশু-কিশোরদের উচ্চ শিক্ষার হার। সরকারি বিভিন্ন দিবসে যখন স্কুল-কলেজে অনুষ্ঠান হয় তখন এই ঝড়ে পড়া শিক্ষার্থীরা কখনও কখনও হাজির হয় স্কুলে। কিন্তু তাদের মধ্যে স্কুল শিক্ষার্থীদের মতো সেই উচ্ছাস দেখা চোখে পড়ে না।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ