সোমবার-১৮ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং-৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: সকাল ৬:৩১, English Version
সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ মিয়ানমারের পেঁয়াজ টিসিবিতে বিক্রি শুরু, কেজি ৪৫ টাকা লালপুরে নিজের পাওয়ার ট্রলির চাপায় চালক নিহত! আরামকোর দাম দেড় লক্ষ কোটি ডলার ছাড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর গ্রান্ড দুবাই এয়ারশো ২০১৯-এ যোগদান পার্বতীপুরে গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়নে ৫৬ প্রকল্পের কাজ শুরু ৩ হাজার ২ জন অতিদরিদ্র নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার শিবগঞ্জ আদর্শ হাসপাতালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ডা: মাহাফুজ জামান এমবিবিএস এমডি

লক্ষ্য একটাই দেশ ও দেশের মানুষের উন্নয়ন: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: রবিবার, ৪ মার্চ, ২০১৮ , ৩:৪৯ পূর্বাহ্ণ , বিভাগ : জাতীয়,সারাদেশ,

খুলনা : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য একটাই তা হচ্ছে দেশ ও দেশের মানুষের উন্নয়ন। আমরা উন্নয়নে বিশ্বসী। দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। অপরদিকে বিএনপির কাজ হল উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করা।

আজ শনিবার বিকালে খুলনা সার্কিট হাউস মাঠে মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দুর্নীতি করে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দুর্নীতি করেছেন বলেই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আজ কারাগারে। আদালতের রায়ে সাজা হয়েছে।এতে আওয়ামী লীগ সরকারের কোনো হাত নেই।

বক্তৃতার শুরুতেই তিনি বলেন, মার্চ আমাদের জন্য ঐতিহাসিক মাস। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের দিন। ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন। ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আমাদের বাঙালি জাতির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারপর আমাদের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। আমরা বিজয়ী হই।

‘বিজয়ী জাতি হিসেবে আজ বাংলাদেশ বিশ্বসভায় মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। আমাদের সরকার দেশের উন্নয়নে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আপনারা জানেন, পদ্মাসেতু থেকে যশোর, খুলনা, বাগেরহাট হয়ে মোংলা বন্দর পর্যন্ত রেলসেবা চালুর উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছি আমরা।’

আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের ফিরিস্তি তুলে ধরার পাশাপাশি বিএনপি-জামায়াত সরকারের হত্যা-লুটপাট কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

বিএনপির সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, তাদের কাজ জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস সৃষ্টি করা, মানুষকে পুড়িয়ে মারা। আওয়ামী লীগ কঠোর হাতে জঙ্গিবাদ দমন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে কেউ কুঁড়েঘরে থাকবে না। নিদেন পক্ষে একটা টিনের ঘর হলেও আমরা করে দেব। সেই ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি। ২০২১ সালের মধ্যে প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়া হবে। দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে, জনসভায় নৌকার পক্ষে ভোট চান শেখ হাসিনা।

তিনি আরও বলেন, আপনাদের এখন বই কিনতে হয় না, আমি বইয়ের দায়িত্ব নিয়েছি। জানুয়ারির ১ তারিখ বই উৎসব হয়। বই কিনতে বাবা-মাকে একটা টাকাও খরচ করতে হয় না। স্বাস্থ্যসেবা দিতে খুলনায় বিশেষায়িত হাসপাতাল করেছি।

তিনি বলেন, আজকে আমি আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। খুলনার উন্নয়নের দায়িত্ব নিয়েছিলাম। ১০টি নয়, ২০টি নয় আজকে ১০০টি প্রকল্প নিয়ে খুলনায় হাজির হয়েছি। এর মধ্যে ৪৮টি উদ্বোধন ও ৫২টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে দিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, আমরা যা ওয়াদা দিয়েছিলাম তার বাইরে যেসব কাজ করলে জনগণের কল্যাণ হয়- সেগুলোও আমরা করেছি। আমাদের লক্ষ্য উন্নয়ন। বিএনপি ক্ষমতায় ছিল, তখন ওই মোংলা বন্দর বন্ধ করে দিয়েছিল। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে মোংলা বন্দর চালু করে দিয়েছি।

এ সময় খুলনাবাসীকে একটা সুখবরও দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, খুলনাবাসীকে একটা সুখবর দিতে চাই। ভোলায় অনেক গ্যাস পাওয়া গেছে। সেই গ্যাস আমরা পাইপলাইনে করে বরিশাল ও খুলনা যেন আসে সেই ব্যবস্থা আমরা করে দেব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বিজয়ী জাতি, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা বিজয় অর্জন করেছি। সে ধারাতেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, বিএনপির আমলে খুলনা নগরী ছিল জঙ্গি-খুনির অভয়ারণ্য। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে জঙ্গি খুনিদের কঠোর হাতে দমন করেছে। খুলনা এখন শান্তির নগরী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ। এখন সবার হাতে মোবাইল ফোন। মোবাইলে ইন্টারনেটের মাধ্যমে এখন জনগণের হাতের মুঠোয়ে পৌঁছেছে কৃষিসেবা, চিকিৎসাসেবা।

এর আগে শনিবার দুপুরে খুলনার খালিশপুরের ঈদগাহ ময়দানে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশের (আইইবি) জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সরকার দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। জাতির জনকের নির্দেশিত পথ মেনেই আমরা চলছি। আমাদের সরকার দুর্নীতি, সন্ত্রাস, মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। মানুষ যেন আইনের শাসনের সুযোগ-সুবিধা পায়, সেজন্য যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছি।

মুক্তিযুদ্ধের পর ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু দেশ গড়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, জাতির পিতা মাত্র সাড়ে তিন বছর পেয়েছিলেন। এই স্বল্প সময়ে তিনি রাস্তাঘাট নির্মাণ থেকে রাষ্ট্রের সার্বিক উন্নয়নে মনোনিবেশ করেছিলেন। পিছিয়ে থাকা একটি প্রদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্রে উন্নত করেছিলেন। তখন তাকে বাংলাদেশ বিনির্মাণে সহযোগিতা করেছিলেন প্রকৌশলীরা।

বক্তৃতার শেষ দিকে নৌকায় ভোট চেয়ে প্রধানমন্ত্রী নেতাকর্মী ও সমর্থকদের দুই হাত তুলে সাড়া দিতে বলেন। জবাবে তারাও শেখ হাসিনাকে নৌকায় ভোট দেওয়ার অঙ্গীকার দেন।

সরকারের উন্নয়নের ফল জনগণ ভোগ করছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এত বড় বাজেট আমরা নিয়েছি, বাজেটে এত উন্নয়ন প্রকল্প আর কোনো সরকার নিতে পারেনি। গ্রামপর্যায়ে আমরা উন্নয়নের পরিকল্পনা নিয়েছি। যেন তৃণমূল থেকে উন্নয়নটা উঠে আসে। আমরা জনগণের সেবক, এ বিষয়টি মাথায় রেখে উন্নয়নের কাজ করছি।

খুলনা সফরে প্রধানমন্ত্রী ১০০টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

আপনার মতামত লিখুন

জাতীয়,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ