বৃহস্পতিবার-৯ই এপ্রিল, ২০২০ ইং-২৬শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ৩:১৪, English Version
অঘোষিত লকডাউন মধ্যে দিয়ে নশিপুর ঘোষ পাড়াতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ বাংলাদেশ চ্যালেঞ্জ ক্যাম্পেইন উদ্বোধন করলেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী পার্বতীপুর উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতির উদ্যোগে খাদ্য সহায়তা নীলফামারীর ডোমারে সর্দি-জ্বরে এক ব্যক্তির মৃত্যু, পুলিশ ছাড়া কেউ এলো না দাফনে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীর মৃত্যু সৈয়দপুরে দেড়শ কর্মহীন পরিবারের সহায়তায় হাত বাড়ালো গোলামে মুস্তফা কমিটি অসহায়দের ঘরে ঘরে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা এ্যাপোলো

যেখানে পাথর ঘিরে ঘুরছে জীবন

প্রকাশ: বুধবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০১৮ , ৭:২৬ পূর্বাহ্ণ , বিভাগ : সারাদেশ,সিলেট,

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক:  জাফলং। নামটা শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে স্বচ্ছ পানির পিয়াইন নদ। তীরে বিছানো নানা আকারের পাথর। আর সীমান্ত ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা ভারতের মেঘালয়ের বড় বড় সবুজ পাহাড়। এমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেখানে, সেখানে পর্যটকদের ভিড় খুবই স্বাভাবিক। সিলেট থেকে ৬২ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলংয়ে তাই ছুটে যান অনেক পর্যটক।

জাফলংয়ে পৌঁছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি একটা জিনিসের উপস্থিতি দেখা যায় চারপাশে। সেটা হলো পাথর। হঠাৎ করে মনে হতে পারে, পাথরের রাজ্যে চলে এলাম নাকি!

এখানকার বাসিন্দাদের জীবন চলে পিয়াইন নদী ও আশপাশের পাথর ঘিরে।এখানকার বাসিন্দাদের জীবন চলে পিয়াইন নদী ও আশপাশের পাথর ঘিরে।এমন ভাবনা খুব একটা ভুল নয়। জাফলংয়ে নেমেই চোখে পড়ে নানা আকৃতির পাথর স্তূপ করে এদিক-সেদিক রেখে দেওয়া। পাশে পাথর ভাঙার যন্ত্র। বিকট শব্দে যন্ত্রগুলোতে পাথর ভাঙা চলছে। মনে হয়, শান্ত প্রকৃতির মধ্যে যেন দানবের চিৎকার চলছে। এখানেই শেষ নয়। ভাঙা পাথরগুলো চাহিদা অনুযায়ী বিক্রেতার কাছে পৌঁছে দিতে ক্রমাগত ছুটে চলছে বহু ট্রাক।

ট্রাকে করে পাথর পৌঁছে দেওয়া হয় বিক্রেতার কাছে।ট্রাকে করে পাথর পৌঁছে দেওয়া হয় বিক্রেতার কাছে।ভেঁপু, হাঁকডাক, চিৎকার আর কোলাহল কাটিয়ে সামনে গেলেও পাথর আর পাথর। শীতকাল বলে পিয়াইন নদের পানি এখন বেশ কম। তাই এর আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় চলছে পাথর তোলার কাজ। নারী-পুরুষ-শিশু সবাই মিলে এ কাজ করছে। কাজের ফাঁকে এখানেই গোসল সেরে নিচ্ছে কেউ কেউ। নদীর পাশে পাথরের গায়ে শুকাতে দিয়েছে ভেজা কাপড়গুলো। আবার কেউ কেউ দুপুরের খাবারটা খেয়ে পাথরে মাথা রেখে জিরিয়ে নিচ্ছে।

পিয়াইন নদী থেকে পাথর তুলে নৌকায় জড়ো করা হচ্ছে।পিয়াইন নদী থেকে পাথর তুলে নৌকায় জড়ো করা হচ্ছে।নৌকায় করে ঘুরে বেড়ানোর সময় আশপাশের শ্রমজীবীদের যেসব কর্মকাণ্ড চোখে পড়ে, পুরোটাই পাথরকে ঘিরে। নৌকাভ্রমণ শেষে ফিরে যাচ্ছে পর্যটকের দল। পর্যটক দলে থাকা এক শিশুর কথায় কানটা খাড়া হয়ে গেল। নাম না জানা শিশুটি তার বাবার কাছে প্রশ্ন করল, ‘বাবা, এখানে যারা কাজ করছে, তারা কি সবাই স্টোনম্যান?’ বাবা কোনো উত্তর দিলেন না। ছেলে তখন আবার প্রশ্ন করল, ‘আচ্ছা বাবা, এখানে কত পাথর আছে? এভাবে পাথর তুলতে তুলতে যদি একদিন সব পাথর শেষ হয়ে যায়, তখন ওরা কী করবে?’

নৌকায় করে পাথরগুলো নিয়ে জড়ো করা হয় তীরে।নৌকায় করে পাথরগুলো নিয়ে জড়ো করা হয় তীরে।বাবা কী উত্তর দিয়েছিলেন, সেটা শোনা হয়নি। তবে ছোট শিশুটি নির্মম সত্য কথা বলেছে। আসলেই এসব শ্রমজীবী মানুষের জীবন পাথরকে ঘিরে। পাথরের পাহাড়ে ছোট ছোট ঘিঞ্জি ঘরে তাদের বাস, সকালে উঠে পাথর তোলার কাজ শুরু, এখানেই গোসল-খাওয়া-বিশ্রাম, সন্ধ্যায় কাজ শেষে আবার পাথরের পাহাড়ের ছোট ঘরে ফিরে যাওয়া।

পর্যটক যে চোখে পাথরে ঘেরা এই স্থানের সৌন্দর্য দেখেন; তা দেখতে পারেন না হোসেন, করিম, ঝুমুসহ এখানকার শ্রমজীবীরা। তাঁদের কাছে জীবন মানেই এই পাথর। যত বেশি পাথর তুলতে পারবেন, তত বেশি মজুরি, আর একটু ভালো থাকার সম্ভাবনা।

সূএ: প্রথমআলো

আপনার মতামত লিখুন

সারাদেশ,সিলেট বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ