বুধবার-১লা এপ্রিল, ২০২০ ইং-১৮ই চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ১২:৫৫, English Version
সাধারণ ছুটি ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ল চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে খাবার তুলে দিলেন লেনিন প্রামাণিক চাঁপাইনবাবগঞ্জে সাবেক এমপি আব্দুল ওদুদের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ পার্বতীপুরের পত্রিকা বিক্রেতাদের হাতে তুলেন দিলেন খাদ্য সামগ্রী- উপজেলা সমাজসেবা অফিসার পলাশবাড়ীতে পৌরসভার উদ্যোগে জিবানুনাশক স্প্রে কার্যক্রম শিবগঞ্জেমৃত ব্যক্তির করোনা ভাইরাস ছিলনা ১৫ বাড়ী লক ডাউন প্রত্যাহার পলাশবাড়ীতে কর্মহীন ভাসমান বেদে পরিবারের মানবেতর জীবনযাপন

জমি অধিগ্রহন আতংকে কলাপাড়ার তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঁচ শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী।।

প্রকাশ: শনিবার, ২৮ অক্টোবর, ২০১৭ , ৫:৩৮ পূর্বাহ্ণ , বিভাগ : বরিশাল,সারাদেশ,

মিলন কর্মকার রাজু, কলাপাড়া(পটুয়াখালী)থেকে।।
আর চারদিন পর জেএসসি পরীক্ষা। কিন্তু বই খাতা ফেলে আন্দোলনে নেমেছে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী নুরজাহান ও তার ভাই একই কাসের রবিউল ইসলাম। বসত ভিটা ও সহায় সম্বল হারানোর শংকায় তাদের মতো পাঁচ শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকরাও এখন চরম উদ্বিগ্ন।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ার ধানখালী ইউনিয়নের গন্ডামারি ও উত্তর নিশান বাড়িয়া গ্রামের বসত ভিটাসহ তিন ফষলী জমি বিভিন্ন সংস্থার নামে অধিগ্রহন প্রক্রিয়া শুরু করায় এ ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষাজীবন পড়েছে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে। নিজেরদের শেষ সম্বল ও মাথাগোঁজার আশ্রয়টুকু রক্ষার দাবিতে এলাকার হাজার হাজার মানুষ ও অভিভাবকদের সাথে স্কুল বন্ধ হলেও শুক্রবার সকালে এ আন্দোলনে অংশ নেয় স্কুল-মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীরা। নিশানবাড়িয়া দাখিল মাদ্রাসা কাম সাইকোন সেল্টার এর সামনে এ মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রায় সাড়ে চারশ একর তিন ফষলি জমিতে এখন সবুজের সমারোহ। আর কয়েকদিন পরই ফষল ঘরে তুলবেন চাষীরা। কিন্তু তাদের মুখের হাসি মিলিয়ে গেছে শেষ সম্বলটুকু হারানোর শংকায়। হয়তো এবারই শেষ চাষাবাদটুকু তারা করে ফেলেছেন। কেননা গত ২০ দিন আগে তাদের এ গোটা গ্রামের মানুষকে জমি অধিগ্রহনের জন্য তিন ধারায় নোটিশ করা হয়েছে। আর এ নোটিশ পেয়েই হতবাক গোটা এলাকার মানুষ। তাই নিজের শেষ সম্বল রক্ষায় আন্দোলনে নেমেছে গোটা এলাকার কৃষক, শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রীসহ সাধারণ মানুষ। তাদের একটাই দাবি, ঘর হারা কইরো না মোগো, এইডাই আমাগো শেষ ঠিকানা।
উত্তর নিশানবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতিয় শ্রেণির ছাত্রী সিফাত (রোল- ২২) সহপাঠীদের সাথে এসেছেন মানববন্ধনে। চোখে মুখে নিজের প্রিয় স্কুল, খেলার মাঠ ও ঘর হারানোর আশংকা। আর কয়েকদিন পরই ফাইনাল পরীক্ষা। কিন্তু পড়াশোনায় মন নেই। সিফাত জানায়, মোগো নাকি ঘর-বাড়ি সব লইয়া যাইবে। এইহানে আর মোরা থাকতে পারমু না। আমাগো তো আর ঘর নাই, ঘর লইয়া গেলে মোরা থাকমু কই। বই-খাতা রাকমু কই।
মানববন্ধনে উপস্থিত অস্টম শ্রেণির ছাত্রী নুরজাহান জানায়, চাইর দির পর জেএসসি পরীক্ষা। কিন্তু পড়ায় মন নাই। হগল মানুষ রাস্তায় নাইম্মা আইছে। মুই ঘরে বইয়া পড়ি কেমনে। চোখে মুখে হতাশার ছাপ নিয়ে জানায়, এইরহম টেনশনে রাখলে আমরা যারা পরীক্ষা দিমু হেরা পড়ি কেমনে কন। সব ঘরের মানুষই টেনশনে। কেউ সুখে নাই। মোগো সব সুখ কাইরা নিছে ওই নোটিশে।
অস্টম শ্রেণির ছাত্রী বিথী এসেছেন ছোট বোনকে নিয়ে এই মানববন্ধনে। বাবা বেল্লাল তালুকদারের দুধ বেঁচা টাকায় চলে তাদের পাঁচজনের সংসার। কিন্তু এখন তাদের পরিবারে ঘোর অমানিশা। এলাকার সব মানুষকে যদি ঘর-জমি ছাড়তে হয় তাহলে তাদের সংসার চলবে কিভাবে এই আশংকায় জমির অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া ঠেকাতে আন্দোলনে এসেছের পরীক্ষার পড়া বন্ধ রেখে। একই ভাবে স্কুল-মাদ্রাসা পড়ুয়া হাবিবা, হামিদা,আন্না, নাঈম, আফরোজাসহ শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী এই জমি অধিগ্রহন ঠেকাতে আন্দোলনে একাত্ব হয়েছেন পরিবারের সাথে।
অভিভাবক গন্ডামারি গ্রামের মোমেলা বেগম জানায়, মোর মাইয়া মীম কাস সেভেনে পড়ে। পোলাডা ছোড। এই সময় যদি হগল জায়গা-জমি লইয়া যায় তাইলে বুড়া কালে মোরা কই থাকমু। মোগো তো বাপ-দাদার কবরডাও থাকবে না।
স্কুল শিক্ষিকা মাহাবুবা বেগম মালা বলেন, পাঁচ শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে গন্ডামারি ও উত্তর নিশান বাড়িয়া গ্রামে। এই সময়ে জমি অধিগ্রহণ করা হলে তাদের শিক্ষাজীবন শেষ হয়ে যাবে। কেননা আর কয়েকদিন পরই জেএসসি ও স্কুল-মাদ্রাসার ফাইনাল পরীক্ষা।
মানববন্ধন শেষে প্রতিবাদ সমাবেশে কৃষক আব্দুর রশিদ তালুকদার বলেন, দুই কৃষক আব্দুর রশিদ তালুকদারের পাঁচ শতাধিক বসত ঘর, দুই শতাধিক কবর, সাড়ে চারশ একর চাষের জমি, দুইটি সাইকোন সেল্টার, ছয়টি মসজিদ ও তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এগুলো অধিগ্রহণ করা হলে প্রায় আট হাজার মানুষ তাদের শেষ সম্বলটুকু হারাবে। তাই তারা এ জমি অধিগ্রহণ ঠেকাতে কঠোর আন্দোলন করবেন বলে সমাবেশে ঘোষনা দেন।

আপনার মতামত লিখুন

বরিশাল,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ