বৃহস্পতিবার-১৪ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং-২৯শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ৮:৩২
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিভিন্ন মেয়াদে ৪ জনকে কারাদণ্ড প্রদান বিএনপি একটি ব্যর্থ রাজনৈতিক দল : সেতুমন্ত্রী চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে পুলিশের আয়োজনে ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষা শুরু ১৭ নভেম্বর উল্লাপাড়ায় ট্রেনের ৯ বগি লাইনচ্যুত, পুড়লো ৪ বগি চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুলিশ সুপার অতিরিক্ত (এডিশনাল ডিআইজি)। অভিযুক্ত ২৫ জন

ঈশ্বরদীতে তলিয়ে গেছে দুই হাজার একর জমির আখ

প্রকাশ: বুধবার, ৩১ আগস্ট, ২০১৬ , ১:২৯ অপরাহ্ণ , বিভাগ : বরিশাল,

Ishurdi Photo 01
রাহেনুল ইসলাম মিঠু ॥
ঈশ্বরদীতে নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চলে রোপন করা প্রায় দুই হাজার একক জমির আখ বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। ভারতের ফারাক্কা বাঁধের সবগুলো গেট খুলে দেওয়ার কারণে সৃষ্ট বন্যায় এমনটি হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে একেবারেই পানির নিচে ডুবে গেছে প্রায় তিন’শ একর জমির আখ এবং বাকি প্রায় সতের’শ একর জমির আখ বন্যার পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে পদ্মা নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চল লীকুন্ডা, কামালপুর, চর কামালপুর, পাকশী, সাহাপুর ও সাঁড়া এলকা ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।
ঈশ্বরদীস্থ পাবনা সুগার মিলের আওতাধীন বিভিন্ন সাব জোনের অধিনে কৃষকরা মিল থেকে ঋণ ও বীজ নিয়ে নদীর তীরবর্তী ওই সমস্থ চরে আখ রোপন করেছিলেন। বন্যার পানিতে তিগ্রস্থ ডোবা আখের তে দেখতে গতকাল বুধবার এসেছেন বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের উপ-মহাব্যবস্থাপক মোঃ লিয়াকত আলী। তিনি সরেজমিন ওই সমস্থ এলাকা পরিদর্শন করেন।
পাবনা সগার মিলের কৃষি বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে পাবনা সুগার মিলের অধিনে ৪১১৫ একর জমিতে আখ রোপন করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় দুই হাজার একর জমির আখ সম্প্রতি বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। বন্যার পানিতে বেশি তিগ্রস্থ হয়েছে লীকুন্ডা ও সাহাপুর ইউনিয়নের শত শত একর জমির আখ। কৃষি বিভাগ আরও জানায়, পানি স্থায়ী হলে আখের গাছ পচন ধরে নষ্ট হয়ে যাবে। আর যে সমস্থ জমির আখ পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে সেগুলোও ফলনের েেত্র নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ইতিমধ্যেই পানিতে নিমজ্জিত আখের গাছ লালচে রং ধারণ করেছে। সপ্তাহ খানেক পানি স্থায়ী হলে গাছ গুলো মারা যাবে বলেও জানায় কৃষি বিভাগ। অতিরিক্ত পানির কারণে প্রকৃত তির পরিমানও নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি বলেও জানায় কৃষি বিভাগ।
পাবনা সুগার মিলের মহা-ব্যবস্থাপক (কৃষি) কৃষিবিদ মোঃ সায়েদুর রহমান জানান, এই মিলের চাহিদার অর্ধেক আখ আসে লীকুন্ডা ও সাহাপুর এলাকার নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চল থেকে। কিন্তু এবার ফরাক্কার বাঁধ খুলে দেওয়ার কারণে সৃষ্ট বন্যায় ওই সমস্থ এলাকার শত শত একর জমির আখ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পানি কমলেও আখের ব্যাপক তি হবে। সে েেত্র আগামী মৌসুমে আখের অভাব প্রকট আকার ধারণ করবে এবং মিলের তির পরিমান বৃদ্ধি পাবে।
লীকুন্ডার তিগ্রস্থ কৃষক নাসিম উদ্দিন প্রাং জানান, পাবনা সুগার মিল থেকে বীজ ও ঋণ নিয়ে চরের প্রায় এক’শ বিঘা জমিতে আখ রোপন করেছেন। ফলনও ভাল হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ বন্যার কারণে তার সমস্থ জমির আখ পানিতে তলিয়ে গেছে। তিনি আরও জানান, তার রোপন করা আখ যদি মিলে সরবরাহ করতে না পারেন তাহলে চরম ভাবে আর্থিক তির সম্মুখিন হবেন। একই কথা জানান কৃষক আতিয়ার রহমান, নজরুল ইসলাম, মুক্তার হোসেন, আব্দুল মান্নান ও আনিসুর রহমান। তারা বলেন, ভারতের ফারাক্কা বাঁধের সবগুলো গেট খুলে দেওয়ার কারণে তাদের সমস্থ্য জমির আখ সৃষ্ট বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। মিলের ঋণ তারা কিভাবে পরিশোধ করবো তা নিয়ে চরম দুঃচিন্তার কথাও জানান তারা।
এবিষয়ে পাবনা সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৗশলী এ কে এম তোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী জানান, ভারতের ফারাক্কা বাঁধ খুলে দেওয়ার কারণে অতিরিক্ত বন্যার পানিতে এই অঞ্চলের আখ চাষীদের যে তি হয়েছে তা পূরণ হবার নয়। এই তি শুধু আখ চাষীদের নয়, পুরো মিলের তি। বিষয়টি হেড অফিসে জানানো হয়েছে। তবে অনাকঙ্খিত এই তি কৃষক এবং মিল কর্তৃপ কিভাবে পূরণ করবে তা নিয়ে সবাই বেশ দুঃচিন্তায় রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

বরিশাল বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ