শুক্রবার-১০ই এপ্রিল, ২০২০ ইং-২৭শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: দুপুর ২:২৯, English Version
পলাশবাড়ীতে এক যুবকের গলায় ছুড়িকাঘাত নাটোরে গৃহবধুর মৃত্যু, গ্রাম লকডাউন সৈয়দপুরে করোনাভাইরাসে যুবক আক্রান্ত ২০ বাড়ি লকডাউন ফুলবাড়ীতে  জ্বর,বুক ব্যাথা ও শ্বাসকষ্টে এক নারীর মৃত্যু মূল গেটে তালা দিয়ে ভেতরে বেচাকেনা, ইউএনও-ওসি দেখেই ভোঁ দৌড় করোনার মধ্যে বিয়ে করা সরকারি কর্মকর্তা বরখাস্ত করোনার ঝুকিতে বাংলাদেশের শিশুরা

অ্যান্টার্টিকার বরফের নিচে আগ্নেয়গিরি!

প্রকাশ: বুধবার, ১৬ আগস্ট, ২০১৭ , ৭:০৭ পূর্বাহ্ণ , বিভাগ : আন্তর্জাতিক,

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: পশ্চিম অ্যান্টার্টিকার বরফের আস্তরণে নিচে কিছু আগ্নেয়গিরির অস্তিত্ব আগেই পেয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু এবার অঞ্চলটির বরফের নিচে যে পরিমাণ আগ্নেয়গিরির অস্তিত্বের খোঁজ মিলেছে তা দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে বিজ্ঞানীদের।

ডেইলি মেইলের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের এডিনবার্গ ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি পশ্চিম অ্যান্টার্টিকার বিশাল অঞ্চলজুড়ে ২ কিলোমিটার পুরু বরফের নিচে প্রায় ১০০টি আগ্নেয়গিরির সন্ধান পেয়েছেন, যার মধ্যে সবচেয়ে বড়টির উচ্চতা প্রায় সুইজারল্যান্ডের ইগার আগ্নেয়গিরির (৩ হাজার ৯৭০ মিটার) সমান।
ভূতত্ত্ববিদরা মনে করছেন, পশ্চিম অ্যান্টার্টিকার বরফের ২ কিলোমিটার নিচে অবস্থিত এই অঞ্চলটি পূর্ব আফ্রিকার আগ্নেয় পর্বতমালাকে পেছনে ফেলবে, যেটিকে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি আগ্নেয়গিরির ঘনত্ব অঞ্চল হিসেবে গণ্য করা হয়।
হিমবাহ বিশেষজ্ঞ রবার্ট উইলিয়াম যিনি গবেষণায় সহায়তা করেছিলেন তিনি বলেন, আগ্নেয়গিরির এই সারি উদ্বেগজনক ফলাফল তৈরি করতে পারে। যদি এই আগ্নেয়গিরিগুলোর মধ্যে একটিও বিস্ফোরিত হয় তাহলে এটি পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকার বরফের আস্তরণকে আরো অস্থিতিশীল করে তুলবে। আর এতে করে সাগরে বরফ গলে পড়ার হার বাড়বে।
তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে: এই আগ্নেয়গিরিগুলো কতটা সক্রিয়? এটা আমাদেরকে যত দ্রুত সম্ভব নির্ধারণ করতে হবে।’
নতুন আবিষ্কৃত আগ্নেয়গিরিগুলো ১০০ থেকে ৩ হাজার ৮৫০ মিটার পর্যন্ত উচ্চতার, যার সবই বরফে ঢাকা। কোথাও কোথাও এই বরফের স্তর ৪ কিলোমিটার পর্যন্ত পুরু। শক্তিশালী রাডার ব্যবহার করে সারি সারি আগ্নেয়গিরির অস্তিত্ব নিশ্চিত হয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ পৃথিবীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। যদি এর মধ্যে একটি বিস্ফোরিত হয় তা হলে তা এই অঞ্চলের বরফের আস্তরণগুলোকে আরো অস্থিতিশীল করে তুলবে, যেখানে বৈশ্বিক উষ্ণতা ইতোমধ্যেই একটি প্রভাব ফেলেছে।
বর্তমানে বিশ্বের যেসব অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি অগ্ন্যুৎপাত চলছে, সেসব অঞ্চল ইতিমধ্যে হিমবাহ হারিয়েছে। এর কারণ হচ্ছে, আগ্নেয়গিরির ওপর বরফের আস্তরণ না থাকলে, ওই অঞ্চলের আগ্নেয়গিরির ওপর চাপ সৃষ্টি হয় এবং আগ্নেয়গিরি আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট উষ্ণতা ইতোমধ্যে পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকার বরফের আস্তরণে প্রভাব ফেলেছে। যদি উষ্ণতার কারণে উল্লেখযোগ্য হারে বরফ হ্রাস হতে থাকে, তাহলে বরফের আস্তরণের নিচে থাকা আগ্নেয়গিরির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলে অগ্ন্যুৎপাতের সৃষ্টি হতে পারে, যা বরফের আস্তরণকে আরও বেশি অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়িয়ে তুলতে পারে।
আপনার মতামত লিখুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ