বুধবার-১লা এপ্রিল, ২০২০ ইং-১৮ই চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ৩:৪৬, English Version
সাধারণ ছুটি ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ল চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে খাবার তুলে দিলেন লেনিন প্রামাণিক চাঁপাইনবাবগঞ্জে সাবেক এমপি আব্দুল ওদুদের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ পার্বতীপুরের পত্রিকা বিক্রেতাদের হাতে তুলেন দিলেন খাদ্য সামগ্রী- উপজেলা সমাজসেবা অফিসার পলাশবাড়ীতে পৌরসভার উদ্যোগে জিবানুনাশক স্প্রে কার্যক্রম শিবগঞ্জেমৃত ব্যক্তির করোনা ভাইরাস ছিলনা ১৫ বাড়ী লক ডাউন প্রত্যাহার পলাশবাড়ীতে কর্মহীন ভাসমান বেদে পরিবারের মানবেতর জীবনযাপন

বাগাতিপাড়ায় প্রথম ‘সততা স্টোর’ দোকানি ছাড়াই চলবে দোকান

প্রকাশ: শুক্রবার, ২১ জুলাই, ২০১৭ , ৭:১৪ পূর্বাহ্ণ , বিভাগ : ঢাকা,রাজশাহী,সারাদেশ,

নাটোর জেলা প্রতিনিধি,
নেই কোনো দোকানি, নেই নজরদারি ক্যামেরা। জিনিসপত্রের গায়ে দাম লেখা রয়েছে। সেই দাম অনুযায়ী খাতা-কলম বা অন্য কোনো শিাসামগ্রী নিয়ে নির্ধারিত বাক্সে রাখতে হবে টাকা । এভাবে কোনো দরদাম ছাড়াই শিার্থীরা কেনাকাটা করতে পারবে ‘সততা স্টোর’ থেকে। এই দোকান থেকে শিার্থীরা যেমন সহজে নিজেদের প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে পারবে, তেমনি রাখতে পারবে সততার স্বার।
নাটোরের বাগাতিপাড়ার তমালতলা আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিার্থীদের সততা অনুশীলনের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ওই স্কুলের একটি কে উপজেলার প্রথম ‘সততা স্টোর’ নামে এমন ব্যতিক্রমী দোকানের উদে¦াধন করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত আলী সেখ প্রধান অতিথি থেকে ওই দোকানের উদ্বোধন করেন। এসময় সেখানে সংপ্তি আলোচনা সভায় স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আঃ কাদের এর সভাপতিত্বে এবং প্রধান শিক খন্দকার মোখলেছুর রহমানের পরিচালনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আহসান হাবিব জিতু, উপজেলা দুর্ণীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারন সম্পাদক ও প্রেস কাব সভাপতি মাহাতাব উদ্দিন, প্রেস কাব সাধারন সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম মাসুম প্রমুখ।
এই অভিনব উদ্যোগের বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক খন্দকার মোখলেছুর রহমান জানান, মুলত শিার্থীদের মাঝে সততার চর্চার উদ্দেশ্যেই দোকানটি প্রশাসনের সহযোগীতায় করা হয়েছে। এটিকে সততার প্র্যাকটিক্যাল কাসও বলা যেতে পারে। নির্দিষ্ট কিছু নির্দেশনা মেনে ওই বিপণি থেকে তাদের প্রয়োজনীয় যেকোনো পণ্য কিনতে পারবে শিার্থীরা। দোকানের চারপাশের থাকে সাজানো আছে কলম, পেনসিল, খাতা, রাবারসহ বিভিন্ন রকমের শিাসামগ্রী। দোকানের একটি পণ্য অতিরিক্ত নিলে বা টাকা না দিলে দেখার কেউ নেই। তবু সবাই সততার পরীায় পাস করতে পারে কিনা তাই দেখার পালা। তিনি বলেন, প্রতিদিন স্কুল চলাকালীন সময় পর্যন্ত ওই দোকানটি খোলা থাকবে। আর কেবলমাত্র স্কুলের শিার্থী-শিকরাই এ দোকান থেকে পন্য ক্রয় করতে পারবে। দিন শেষে হিসেব নিকেশ করা হবে। এছাড়াও সকল শিার্থীদের ক্রয় করার পদ্ধতি সম্পর্কে শিকদের পাশাপাশি ক্যাপ্টেনের সহযোগীতা নিতে পারবে। তিনি আরও বলেন, এমন কিছুতে অংশ নিতে পেরে শিার্থীরা আনন্দিত, উজ্জীবিত।
এক শিার্থীকে জিজ্ঞেস করা হয়, সুযোগ থাকার পরও তারা কেন আরেকটি জিনিস নিবে না? ক্যাশবাক্সে কম টাকা কেন ফেলবে না? কেউ তো আর দেখবে না। তার বক্তব্যের সারকথা বিশ্বাসে মেলায় বস্তু, তর্কে বহুদূর। ‘স্যাররা আমাদের বিশ্বাস করেন তাই,’ ওই শিার্থীর সোজা উত্তর। শিার্থী তানিসা বলল, ‘আমি সততা চর্চার সুযোগ জীবনে এই প্রথমবার পেয়েছি, কেন আমি সে সুযোগ কাজে লাগাব না?’এই চর্চা শিার্থীদের ওপর সুপ্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন ওই স্কুলের জীব বিজ্ঞান বিষয়ের শিকিা নাজনীন সুলতানা। তিনি বললেন, সততা স্টোরের মাধ্যমে দূর্ণীতির প্রতি ঘৃণা আর সততার প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টি করবে নতুন প্রজন্মের মাঝে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা,রাজশাহী,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ