বৃহস্পতিবার-২৪শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং-৯ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: সকাল ৭:২৭
তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ ইতিহাস হয়ে থাকবে —বিমান প্রতিমন্ত্রী রংপুর রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ এস আই’র সম্মাননা পেলেন সৈয়দপুর থানার সাহিদুর রহমান সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ২০৪০ সাল নাগাদ তামাকমুক্ত বাংলাদেশ -তথ্যমন্ত্রী গোবিন্দগঞ্জে মৎস্যজীবি সম্ভু জেলেকে মারধর ঘটনার মূল অভিযুক্ত গ্রেফতার ডোমারে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী যাত্রাপালা অনুষ্ঠিত। ফুলবাড়ীতে তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির বিক্ষোভ ও নির্বাহী অফিসার বরাবর স্বারকলিপি প্রদান। কলাপাড়ায় সড়ক দূর্ঘটনায় পিতা নিহত, আহত দুই ছেলে।।

আ.লীগ সরব, অর্থমন্ত্রীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২০ জুলাই, ২০১৭ , ১০:০৬ পূর্বাহ্ণ , বিভাগ : রাজনীতি,

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক:  সিলেট-১ আসনে যে দলের প্রার্থী জেতেন, সে দলই নাকি ক্ষমতায় যায়। ১৯৯১ সালে বিএনপি, ৯৬-তে আওয়ামী লীগ, ২০০১ সালে আবার বিএনপি এবং ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ। মর্যাদার এই আসনে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থী হবেন কারা? এ নিয়ে প্রতিবেদন লিখেছেন উজ্জ্বল মেহেদী ও সুমনকুমার দাশ

সিলেট-১ আসনে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের প্রার্থী হওয়া না-হওয়া নিয়ে কিছুটা দোদুল্যমান পরিস্থিতি তৈরি হলেও তাঁর পক্ষে বিশেষ দলীয় প্রচারণা শুরু হয়ে গেছে। গত ঈদুল ফিতরের সময় অর্থমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ভোটারদের শুভেচ্ছা জানান দলীয় নেতা-কর্মী থেকে শুরু করে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন, এমন ব্যক্তিরাও। শুভেচ্ছা বিলবোর্ডে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে শোভা পায় তাঁর বড় ছেলে সাহেদ মুহিতের ছবিও।

সিলেট নগরের কেন্দ্রস্থল চৌহাট্টা ও রিকাবীবাজার এলাকা। রাজনৈতিক প্রচারণা তাই ওই এলাকা ঘিরে বেশি চোখে পড়ে। নগরবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়ে অর্থমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সাংসদ আবুল মাল আবদুল মুহিতের ছবিসংবলিত একাধিক বিলবোর্ড সাঁটানো হয় ও তোরণ নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে চৌহাট্টা এলাকায় বিলবোর্ড সাঁটানোসহ নগরের বিভিন্ন দর্শনীয় এলাকায় তোরণ নির্মাণ করেছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাহি উদ্দিন আহমদ।

অন্যদিকে রিকাবীবাজার এলাকার বিলবোর্ডটি মহানগর আওয়ামী লীগের কর্মী এ কে এম লায়েক সাঁটালেও সেখানে থাকা অর্থমন্ত্রীর ছেলে সাহেদ মুহিতের ছবিটিই মূলত আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জাতীয় নির্বাচনে সিলেট-১ আসন (মহানগর-সদর) বিশেষ মর্যাদার বলে সমাদৃত। এ আসনে গত প্রায় পাঁচটি নির্বাচনী ফলাফল থেকে একটা ধারণা তৈরি হয়েছে। সেটা হলো, এ আসনে যে দলের প্রার্থী জেতেন, সেই দলই ক্ষমতায় যায়। বর্তমান অর্থমন্ত্রী ২০০১ সালে প্রয়াত অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যান। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি জয়ী হন। ২০১৪ সালে অবশ্য তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হন।

আগামী নির্বাচনে অর্থমন্ত্রী মুহিত আর প্রার্থী হচ্ছেন না—এ কথা তাঁর মুখ থেকেই বিভিন্ন সময় শোনা গেছে। প্রায় দুই বছর ধরে সিলেটে অর্থমন্ত্রীর উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনায় অংশ নিতে দেখা গেছে তাঁর ছোট ভাই জাতিসংঘে সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি এ কে আবদুল মোমেনকে। আগামী নির্বাচনে মুহিত প্রার্থী না হলে মোমেন প্রার্থী হচ্ছেন, এ রকম প্রচারও ছিল। তবে তাঁর পক্ষে এখনো কোনো পোস্টার বা অন্য প্রচারণা দেখা যায়নি।

এ অবস্থায় গত ২২ মার্চ তৃণমূলের সমাবেশে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের উপস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহউদ্দিন সিরাজ সিলেট-১ আসনে নিজে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন। এরপর থেকে অর্থমন্ত্রীর মুখ থেকে আর নির্বাচন করবেন না, এ রকম কথা শোনা যায়নি।

তৃণমূল সমাবেশের প্রায় আড়াই মাসের মাথায় জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী ‘আমি আছি’ বলে জানান। গত ৮ জুন সিলেটে এ কথা বলে তিনি সাংবাদিকদের তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করেন। এর সপ্তাহখানেক পর ঢাকায় সচিবালয়ে নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বয়স হয়েছে আমার। আর নির্বাচন করার ইচ্ছে নেই। তবে দল যদি প্রয়োজন মনে করে, আমি বিবেচনা করব। তখন নির্বাচন করতেও পারি।’

সাহেদ মুহিতের ছবি যে বিলবোর্ডে রয়েছে, সেটি মূলত সাঁটানো হয়েছে মহানগর আওয়ামী লীগের কর্মী ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এ কে এম লায়েকের সৌজন্যে। এ ব্যাপারে লায়েক বলেন, অর্থমন্ত্রীর ছেলে হিসেবে সাহেদকে নগরবাসীর কাছে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এমনটি করা হয়েছে। তা ছাড়া একজন ভালো ও সৎ মানুষের ছেলে হিসেবে যদি সাহেদ মুহিত কখনো রাজনীতিতে আসেন, তাহলে সিলেটবাসীই উপকৃত হবেন। বৃহত্তর স্বার্থে সিলেটের রাজনীতিতেও তাঁর মতো শিক্ষিত মানুষের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

সাহেদ মুহিত নির্বাচন করবেন কি না, সে বার্তাও তিনি কখনো দলের কর্মীদের কাছে দেননি। সিলেটে অর্থমন্ত্রীর নানা কর্মসূচিতে ছেলের সরব পদচারণ থাকলেও কখনোই তিনি নির্বাচন কিংবা রাজনীতিতে প্রবেশের আভাস দেননি। তাই আচমকা এভাবে প্রকাশ্যে আসার বিষয়টি নগরবাসী চমক হিসেবেই দেখছেন। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন সাহেদ মুহিত, তা অবশ্য জানা যায়নি।

জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাহি উদ্দিন আহমদ অর্থমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। তিনি অর্থমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ঈদ শুভেচ্ছার বিলবোর্ড ও একাধিক তোরণ বানিয়ে দিয়েছেন। নিজের পছন্দ তুলে ধরেছেন জানিয়ে মাহি উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘অর্থমন্ত্রীকে আমি পছন্দ করি, তাই তাঁর পক্ষ থেকে নগরবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছি। এতে অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই।’

এদিকে সিলেট-১ আসনে আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহউদ্দিন সিরাজের পক্ষেও প্রচারণা চলছে। ঈদ শুভেচ্ছার পোস্টারে ‘সংসদে দেখতে চাই’ উক্তি শোভা পাচ্ছে। মিসবাহও দলীয় কর্মসূচির বাইরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁর প্রার্থিতার বিষয়ে সরাসরি বলছেন।

অবশ্য অর্থমন্ত্রীর ‘আমি আছি’ বলে ফের প্রার্থিতার ইঙ্গিত দেওয়ার পর মিসবাহ কিছুটা বিব্রত বলে তাঁর অনুসারীরা জানিয়েছেন। তবে মনোনয়ন চাওয়ার ব্যাপারে অনড় মিসবাহ প্রথম আলোকে বলেন, ‘কারও ইচ্ছা-অনিচ্ছায় নয়, তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা চাচ্ছেন আমি প্রার্থী হই, তাই সিলেট-১ আসনে দলীয় মনোনয়ন চাওয়ার ব্যাপারে আমি অবিচল আছি। অবশ্য দলীয় সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।’

আপনার মতামত লিখুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ