শুক্রবার-১৩ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং-২৮শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: সকাল ১০:৫২, English Version
বিএড প্রশিক্ষণবিহীন এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের খসড়া তালিকা প্রকাশ খালেদার জামিন আবেদন খারিজ নতুন আকর্ষণ নিয়ে শাকিব খানের ‘বীর’ সৈয়দপুরে টিসিবি’র মাধ্যমে খোলা বাজারে মিশরীয় পেয়াজ ৪৫ টাকা কেজি বিক্রি শুরু পলাশবাড়ীতে জাতীয় রিক্সা ভ্যান শ্রমিকলীগের ৪১ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত গোবিন্দগঞ্জে জাতীয় কৃষক সমিতির মানবন্ধন অনুষ্ঠিত বরিশালে ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবসের র‌্যালি

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের স্বেচ্ছাচারিতা এবং ছাত্র রাজনীতি

প্রকাশ: শনিবার, ১৫ জুলাই, ২০১৭ , ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ , বিভাগ : রাজনীতি,

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্মলগ্ন থেকে আজ অবধি আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে যা কিছু অর্জিত হয়েছে, তার মূল কারিগর ছাত্র রাজনীতি।

৫২ এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং সর্বশেষ তথাকথিত ১/১১ এ গণতন্ত্র মুক্তি আন্দোলন এর জলন্ত উদাহরণ। আর এইসব ছাত্র আন্দোলনের সাথে যে ছাত্র সংগঠনটির নাম সবার উপরে উঠে আসে, সেই সংগঠনটির নাম বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

বাংলাদেশে ৯৩ টির মতো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। বর্তমানে, এ সকল প্রতিষ্ঠানে লক্ষাধিক ছাত্র-ছাত্রী অধ্যায়ন করছে। কিন্তু তাদেরকে বঞ্চিত করা হচ্ছে প্রগতিশীল ছাত্র রাজনীতি চর্চার সুযোগ থেকে।

সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ একটি ইউনিটে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যায় শাখা। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় জঙ্গী হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই ইউনিটের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতারকৃতদের অধিকাংশই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী। বিষয়টি নিয়ে টনক নড়েছে সরকারের নীতি-নির্ধারক মহলেরও।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অনেকেই এখন নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহরীর এবং ইসলামী ছাত্র শিবিরের প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে মনে করছেন। মূলত, প্রগতিশীল ছাত্র রাজনীতির উপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কড়াকড়িকেই মূল কারণ হিসেবে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এছাড়া, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে রয়েছে সাধারন শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পাহাড়। আর এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনে রয়েছে, দেশের বিশিষ্ট শিল্পপতি, আমলা এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালীরা।

কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রগতিশীল ছাত্র রাজনীতির চর্চা হোক এটা প্রশাসন চাই না। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতির চর্চা হলে প্রশাসনের একক কর্তৃত্ব খর্ব হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

এই সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করার লক্ষ্যে ২০১২ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি-সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নামে সুপার জেলা ইউনিটের মর্যাদা দিয়ে নতুন একটি কমিটি ঘোষণা করেন। কমিটি তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে নানাবিধ প্রতিবন্ধকতার স্বীকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন অনেকেই।

পরবর্তীতে সাংগঠনিক কাজে গতিশীলতা আনার লক্ষ্যে ২০১৬ সালের আগস্ট মাসে কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ উক্ত কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে। কিন্তু, দীর্ঘ প্রায় ১ বছর পার হয়ে গেলেও দেখা মেলেনি কাঙ্ক্ষিত নতুন কমিটির। এ নিয়ে চরম হতাশা বিরাজ করছে প্রগতিশীল ছাত্র রাজনীতি চর্চা করতে উদ্বুদ্ধ অনেক শিক্ষার্থী।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইন জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কমিটিকে প্রধান্য দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে আমরা কেন্দ্র থেকে যেসকল শিক্ষার্থী বন্ধুরা প্রগতিশীল ছাত্র রাজনীতি চর্চা করতে আগ্রহী, তাদের সাথে যোগাযোগ করছি।

সাধারণ শিক্ষার্থীরা যাতে কোন প্রকার প্রতিবন্ধকতা ছাড়া ছাত্র রাজনীতি চর্চা করার সুযোগ পায়, সে ব্যাপারে আমরা উচ্চ-পর্যায়ে যোগাযোগ করেছি। তিনি প্রত্যেকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের উপর ১০০ নম্বর রেখে একটি বই সংযোজনের দাবী জানান।

মূলত, সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন যৌক্তিক দাবি নিয়ে কথা বলা এবং দেশের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের অংশীদার হওয়াকে গুরুত্ব দিচ্ছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। দেশ সেবার কাজে অন্যদের থেকে পিছিয়ে থাকতে চায় না বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

আপনার মতামত লিখুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ