রবিবার-২৯শে মার্চ, ২০২০ ইং-১৫ই চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ২:৫৬, English Version
এবার রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ করোনায় আক্রান্ত সৈয়দপুরে পৌরসভার উদ্যোগে জীবাণুনাশক দিয়ে শহর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত  করোনায় নতুন করে কেউ আক্রান্ত হয়নি, আরও ৪ জন সুস্থ গুজব সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান ফকিরহাটে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা শিবগঞ্জে করোনা ভাইরাস সন্দেহে এক জনের মৃত্যু ১৫ বাড়ী লক ডাউন গাইবান্ধায় হোম কোয়ারেন্টাইনে ২২৫ ॥ নতুন ২ জনসহ আক্রান্ত ৪ ॥ বাড়ি ফিরে গেছে ১৩ জন

লবণের কেজিও ৪০ টাকা!

প্রকাশ: বুধবার, ৫ জুলাই, ২০১৭ , ৬:০১ পূর্বাহ্ণ , বিভাগ : অর্থনীতি,

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: উৎপাদন ঘাটতির কারণে দেশের মানুষকে ভালো মানের লবণ কিনে খেতে হচ্ছে ৩৮ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে। অথচ সাধারণ মানুষ প্রতি কেজি লবণ ২৫ টাকার কাছাকাছি দরে কিনতে অভ্যস্ত। লবণের বাজারে এই চড়া অবস্থা দুই বছর ধরে। কিন্তু দাম আগের পর্যায়ে নামিয়ে আনতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যের চড়া দামের কারণে শহরের মানুষের চেয়ে বিপাকে পড়েছেন গ্রামের মানুষেরা। নিজেদের পাশাপাশি গবাদিপশুর জন্যও তাঁদের উচ্চ দামে লবণ কিনতে হচ্ছে। উৎপাদন খরচ বেড়েছে চামড়া, পশুখাদ্য ও অন্যান্য পণ্য উৎপাদনকারীদের।

বাজারে সংকটের সুযোগ নিয়ে একটি গোষ্ঠী শিল্প লবণ ও কস্টিক সোডার নামে ভোজ্য লবণ আমদানি করে বিপুল মুনাফা করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। কারণ, বাজারে এখন অপরিশোধিত লবণের কেজিপ্রতি দর উঠেছে ১৫ টাকা, যা সাধারণত ৬ টাকার কাছাকাছি থাকে। অন্যদিকে বাজারে এখন সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তি (ভ্যাকুয়াম ইভাপোরেশন) পদ্ধতিতে পরিশোধিত লবণ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৩৮ থেকে ৪০ টাকা দরে। এ ছাড়া মেকানিক্যাল পদ্ধতিতে পরিশোধিত লবণ ৩৪-৩৫ টাকা ও সাধারণ লবণ ২২-২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) হিসাবে, ২০১৫ সালেও সেরা মানের লবণের কেজি ২৫ টাকা ছিল।

দেশের লবণ বিপণনকারী কোম্পানিগুলো বলছে, ভালো মানের লবণের দামই কেজিপ্রতি ২০ টাকায় নামিয়ে আনা সম্ভব। এ জন্য অন্তত দুই মাস লবণ আমদানির সুযোগ দিতে হবে। এখন লবণের মৌসুম শেষ, এতে চাষির কোনো ক্ষতি হবে না। এ বিষয়ে পুবালি সল্টের চেয়ারম্যান পরিতোষ কান্তি সাহা প্রথমআলোকে বলেন, দুই মাসের জন্য লবণ আমদানির সুযোগ দেওয়া হোক, ক্রেতারা ১৪ থেকে ২০ টাকা কেজির মধ্যে লবণ কিনতে পারবেন। তিনি বলেন, এক কেজি অপরিশোধিত লবণ উৎপাদনে চাষির খরচ হয় ২ টাকা, জমির ভাড়া নেয় ৪ টাকা। সেই লবণ ১৬ টাকায় কেন বিক্রি হয়? লবণ মালিক সমিতির সাবেক এই সভাপতি আরও বলেন, সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই বলেই দেশের মানুষকে ৪০ টাকা কেজিতে লবণ কিনে খেতে হচ্ছে।

সরকারের হিসাবে দেশে বছরে প্রায় সাড়ে ১৬ লাখ টন লবণের প্রয়োজন হয়। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, এ পরিমাণ লবণ উৎপাদনে অপরিশোধিত লবণের প্রয়োজন হয় প্রায় ২৪ লাখ টন। কারণ, অপরিশোধিত লবণ পরিশোধনকালে ৩০ শতাংশ ঘাটতি হয়।

বৈরী আবহাওয়ার কারণে চলতি বছরও দেশে অপরিশোধিত লবণের উৎপাদন কমেছে। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) হিসাবে, জুন মাসে শেষ হওয়া মৌসুমে লবণ উৎপাদন হয়েছে ১৩ লাখ ৬৪ হাজার টন, যা গত বছরের চেয়ে প্রায় ২ লাখ টন কম। সব মিলিয়ে সরকারের হিসাবে অপরিশোধিত লবণের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় আড়াই লাখ টন, মিলমালিকদের হিসাবে ঘাটতি প্রায় ১০ লাখ টন।

বাংলাদেশে ভোজ্য লবণ আমদানি নিষিদ্ধ। মিলমালিক পরিতোষ কান্তি সাহা লবণের শুল্ক দ্বিগুণ করে আমদানি উন্মুক্ত করে দেওয়ার দাবি করেন। এখন লবণ আমদানিতে ৯৩ শতাংশ শুল্ক ও কর দিতে হয়।

গত বছর উৎপাদন ঘাটতি হওয়ায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আড়াই লাখ টন লবণ আমদানির সুযোগ দিয়েছিল। তবে অনেক ছোট ও বন্ধ মিল লবণ আমদানি করে তা বড় মিলের কাছে বিক্রি করেছিল। এতে বাজারে লবণের দাম কমেনি বলে অভিযোগ রয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, লবণ আমদানি নিয়ে সম্প্রতি একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে লবণের আমদানির বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

ক্যাবের সভাপতি গোলাম রহমান প্রথম আলোকে বলেন, লবণের ক্ষেত্রে কৃষকের স্বার্থের পাশাপাশি ভোক্তার স্বার্থও দেখতে হবে। যদি ঘাটতি থাকে, তাহলে অবশ্যই আমদানির অনুমতি দেওয়া দরকার।

আপনার মতামত লিখুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ