রবিবার-২৯শে মার্চ, ২০২০ ইং-১৫ই চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ১১:২৪, English Version
উমাদিনী ত্রিপুরার মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক ডোমার পৌর শহরে চলছে জীবাণু নাশক ছিটানো কার্যক্রম। লালপুরে দুস্থদের মাঝে নিজ উদ্যোগে খাবার সামগ্রী বিতরণ পার্বতীপুরে করোনা ঠেকাতে আদা, লং, কালিজিরার চা খাওয়ার গুজব! চাঁপাইনবাবগঞ্জে খেটে খাওয়া গরীব দুঃখি মানুষের মাঝে চাল বিতরণ শুরু ‘করোনা চিকিৎসায় ২৫০ ভেন্টিলেটর প্রস্তুত’ সংবাদপত্র সংক্রান্ত সকল ধরনের কাজ পরিচালনায় কোনো বাধা নেই

কাপড় সেলাইয়ের ফাঁকে আঁখি মনি ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখে

প্রকাশ: শুক্রবার, ৫ মে, ২০১৭ , ৩:১৪ অপরাহ্ণ , বিভাগ : রংপুর,শিক্ষা,সারাদেশ,

মোঃ লাভলু শেখ, লালমনিরহাট থেকে ঃ ৫ মে
মায়ের সাথে পুরাতন কাপড় সেলাই করে আঁখি মনি এবারের এসএসসিতে গোল্ডন এ প্লাস পেয়েছে। জন্মের পর মায়ের মুখে শুনেছে তার বাবা আলী আজম জ্বরে অসুস্থ্য হয়ে চিৎকিসার অভাবে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে নিরুদ্বেশ হয়ে গেছে। তখন থেকে মা জয়নব নেছা বাড়ির পাশে বাজারে পুরাতন কাপড় সেলাই করে সংসার চালায়। বাবা হারানোর সেই কষ্ট থেকে জীর্ণশীর্ণ কুটিরে জন্ম নিয়ে আঁখি মনি এবার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। যদিও সেই স্বপ্ন পূরণে পথে রয়েছে নানা বাঁধা ও সংশয়। তারপরও এগিয়ে যেতে চায় আঁখি মনি। তার মতে, চা বিক্রিতা থেকে যদি নরেন্দ্র মোদী ভারতের প্রধানমন্ত্রী হতে পারে, তাহলে আমি আঁখি মনি ডাক্তার হতে পাবো না কেন? আঁখি মনি লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসিতে গোল্ডন এ প্লাস পেয়েছে। মা’সহ আখি মনি মধ্য গড্ডিমারী গ্রামের জনৈক সফিয়ার রহমানের বাড়িতে আশ্রিত থাকেন। আঁখি মনি’র মা জয়নব নেছা বলেন, বাড়ির পাশে গড্ডিমারী হাটখোলা’তে পুরাতন কাপড় সেলাই করে দুই মেয়েকে নিয়ে কোন রকম বেচেঁ আছি। মেয়ের ইচ্ছা লেখাপড়া করা কিন্তু আমার সেই আর্থিক সমর্থন নেই। কিছু টাকা পেলে ওই টাকা দিয়ে নতুন কাপড় কিনে ছোট বাচ্চা ও মেয়েদের কাপড় তৈরী করে গ্রামে গ্রামে ঘুরে বিক্রি করে যে লাভ হবে তা দিয়ে মেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালাতে পারবো। কিন্তু সেই অর্থ আমার নেই। আঁখি মনি বলেন, যত বাঁধাই হোক, আমি এগিয়ে যাবো। আমার মত আর কেউ যেনো চিকিৎসার অভাবে বাবা হারা না হয়। সেই লক্ষেই আমাকে এগিয়ে যেতে হবে। গড্ডিমারী দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক আতোয়ার রহমান বলেন, মেয়েটি পিএসসি ও জেএসসিতে গোল্ডন এ প্লাস ও বৃত্তি পেয়েছিল। যদি সে সুযোগ-সুবিধা পায় তাহলে তার স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে। এত কিছুর মাঝেও এগিয়ে যেতে চলছে আঁখি মনি’র নিরন্তর চেষ্টা। কিন্তু জীবনের ফুল ফোঁটাবে কি ভাবে ? এই ভাবনা তাকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে প্রতিনিয়ত। হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুল লতিফ বলেন, আঁখি মনি একজন মেধাবী ছাত্রী কিন্তু তারা খুবই গরীব। তার মা অন্যের বাড়িতে আশ্রিত। তার লেখাপড়ার জন্য সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, সমাজের কোন স্ব-হৃদয়বান মানুষ তার পাশে দাড়ালে সে তার লক্ষ্যে পৌছেতে পারবে। এজন্য তিনি আঁখি মনির জন্য সকলের সহযোগীতা কামনা করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন

রংপুর,শিক্ষা,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ