বুধবার-৮ই এপ্রিল, ২০২০ ইং-২৫শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ১২:৩৯, English Version
ঠাকুরগাঁওয়ে অসহায় মানুষদের পাশে যুবলীগ নেতা আপেল প্রাথমিকসহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হচ্ছে ঈদ পর্যন্ত ঠাকুরগাঁওয়ে ঠেঙ্গামারা এনজিওর কিস্তি আদায়, ম্যানেজারসহ আটক ১৫ রাজারহাটে করোনা সন্দেহে তিন জনের নমূনা পরীক্ষাগারে প্রেরণ টেস্ট বাড়ানোর জোর তাগিদ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ফকিরহাটে অজ্ঞাত বৃদ্ধের মৃতদেহ উদ্ধার লালমনিরহাট এসিল্যান্ড অফিসের সহকারী কর্তৃক স্বামী ও স্ত্রীকে মারপিটসহ শ্লীলতাহানীর অভিযোগ

সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী বটবৃক্ষ সংরক্ষণের সরকারি উদ্যোগ নিলে গড়ে উঠবে বিনোদন কেন্দ্র

মীর খায়রুল আলম, সাতক্ষীরা :
সুনিবিড় মনোমুগ্ধকর সাতক্ষীরা জেলা। আর কোথাও আছে কি এমন সুন্দর মায়াভরা শান্ত শহর। জেলা শহর হতে মাত্র ২৫ কিলোমিটার গেলেই বাংলাদেশ ভারত সীমান্তের দেবহাটা উপজেলা। যে উপজেলাতে আছে অতীত আর ঐতিহ্যতে ভরা। আছে হৃদয় ছোয়া শত বছরের বটবৃক্ষ। স্থানীয়ভাবে বটতলা কিংবা বনবিবিতলা নামে পরিচিত। প্রায় সাড়ে তিন বিঘা জমির ওপর বিস্তৃত এই বটতলা। গাছের শাখা প্রশাখা শিকড় থেকে বিরাট রূপ লাভ করেছে। অনেকে মনে করেন, অতীতে সাধু সন্যাসীরা এখানে ধ্যানে মগ্ন থাকতেন। দেবদেবীর পূজা অর্চনা করতেন। আবার অনেকে মনের কামনা পূরনে নির্জনে এখানে এসে বনবিবিকে মনের কথা শোনাতেন। কিন্তু কালের বিবর্তনে এখন আর কোন সাধূ সন্যাসী এসে এখানে বসেনা, থাকেনা কেউ ধ্যানে মগ্ন। শুধু প্রতিদিন বিনোদনের জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নারী পুরুষ ভিড় জমায়। এখানে গাছের শিকড় ও প্রশাখা আছে, যেখানে বসে অনেকে সময় কাটায়। বর্তমানে সাধু সন্যাসীদের ধ্যান, পূজা-অর্চনা না হলেও উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে প্রতিবছর পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে জমে ওঠে বৈশাখী মেলা। স্থানীয় জনসাধারনের উদ্যোগে বিরাট বটগাছের নিচে প্রতিবছর পহেলা মাঘে হাজত মেলার আয়োজন করা হয়। বৃহৎ বটগাছে আবার পরষ্পর বেড়ে চলেছে। আবার এর চারপাশে জনবসতি গড়ে উঠতে শুরু করেছে। এতে নিজের সৌন্দর্য হারাচ্ছে বনবিবি। স্থানীয়দের বিশ্বাস, হাজার বছরের এই বৃক্ষটির কোন অংশ যখনি কেউ কাটতে চেষ্টা করে, তখন তার কোন না কোন বড় বিপদ হয়। তাই আর কেউ কাটতে যায়না। ঐতিহাসিক এই জনপ্রিয় বটতলা প্রিয় জনকে সাথে নিয়ে অনেক মানুষ আজও আসে। বৃক্ষ ছায়ায় সুনিবিড় পাখির কুজন, নয়নাভিরাম এই স্থানে বসে থাকলে মনের কান্তি অবসর হয়ে যায়। প্রাকৃতির এই পরিবেশে কেই বা না আসতে চায়। কিন্তু আসলে এতো সুন্দর যায়গায় কোন বসার স্থান নেই। পিকনিক করার সুযোগ থাকলেও, এখানে নেই কোন সু-ব্যবস্থা। এছাড়া আশে পাশে নজর ভরে কোন নিরাপদ খাওয়ার পানির উৎস্য নেই। দেবহাটার বটতলার মতো স্থান থাকলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন উদ্যোগ নেই। স্থানটি একটি গুরুত্বপূর্ন স্থান হিসেবে পরিচিত থাকলেও ধীরে ধীরে তার স্বাধীনতা হারাচ্ছে। বটতলাকে আরো সন্দর করে তুলতে ও উপজেলার সুনাম অর্জন করতে সরকারীভাবে পদক্ষেপ বা সু-ব্যবস্থা নেই। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় এই ঐতিহ্যবাহী স্থানটিকে পার্কে পরিনত করে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করা যেতে পারে বলে মনে করেন সুধীজনরা।

আপনার মতামত লিখুন

কিশোরগঞ্জ,কুমিল্লা,কুষ্টিয়া,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ