বুধবার-২০শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং-৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: সকাল ১০:১৬, English Version
বেশী দামে লবন বিক্রির অপরাধে চার দোকানে ১ লাখ টাকা জরিমানা কলাপাড়ায় দুই লবন ব্যবসায়ীসহ ছয় ব্যবসায়ীকে অর্থদন্ড, গুজব ঠেকাতে প্রশাসনের মাইকিং।। সৈয়দপুরে লবন নিয়ে তুলকালাম সুন্দরগঞ্জে চড়ামূল্যে লবণ বিক্রিতে ৫ ব্যবসায়ীর জরিমানা লবনের দাম বেশি বিক্রির দায়ে ১৬ ব্যাবসায়ীকে জরিমানা ২ জনের সাজা শিবগঞ্জের মনাকষায় লবণের গুজবে আটক-১ জন পার্বতীপুরে অতিরিক্ত দামে লবন বিক্রির অভিযোগে ৩০ হাজার ৫শত টাকা জরিমানা

দিনাজপুর জেলায় ১ লক্ষ ৭৩ হাজার ৪৬৪ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা

প্রকাশ: বুধবার, ১ মার্চ, ২০১৭ , ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ , বিভাগ : কৃষি,দিনাজপুর,

দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি ॥ দিনাজপুর জেলার ১৩টি উপজেলায় এ পর্যন্ত ১ লক্ষ ৭৩ হাজার ৪৬৪ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অতিরিক্ত অর্জিত করতে আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত ইরি-বোরো চারা রোপন করা হবে।
দিনাজপুর জেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ গোলাম মোস্তফা জানান, ১ ফেব্রুয়ারী থেকে জেলায় ইরি-বোরো চাষ শুরু হয়। কৃষকেরা ফেব্রুয়ারী মাসের প্রথম থেকে জমি চাষযোগ্য করে ইরি-বোরো ধানের চারা রোপনের কাজ শুরু করেছে। চলতি বছর কৃষি অধিদপ্তর জেলায় ১ লক্ষ ৭৩ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী চাল উৎপাদন নির্ধারণ করা হয় ৬ লক্ষ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ১৮৬ হেক্টর জমিতে বোরো চারা রোপন করা হলেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে। গত বছর জেলায় ১ লক্ষ ৭৮ হাজার ৮৯৭ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ অর্জিত হয়েছিল। অর্জিত বোরো চাষে ফলন হয়েছিল ৬ লক্ষ ৮৪ হাজার ২১৮ মেট্রিক টন চাল।
সুত্রটি জানায়, ধানের জেলা হিসেবে পরিচিত এ অঞ্চলে অনুকুল আবহাওয়া ও কৃষি অধিদপ্তরের সহযোগীতায় বোরো চাষের প্রয়োজনীয় উপকরণ, সেচ কাজে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, সার, কীটনাশক ও ডিজেল সরবরাহ সঠিক থাকায় লক্ষ্যমাত্রা অতিরিক্ত জমিতে বোরো ধানের চারা রোপন অর্জিত সম্ভব হবে। এবারে প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ না থাকলে জেলায় বাম্পার বোরো চাষ উৎপাদন হলে চাল উৎপাদন হবে ৭ লক্ষ মেট্রিক টনের অধিক। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে কৃষি অধিদপ্তর কৃষকদের সব ধরনের সহযোগীতা দিয়ে যাচ্ছে।
দিনাজপুর কৃষি অধিদপ্তরের গবেষণা কর্মকর্তা আতিকুর রহমান জানান, এবারে জেলায় ভালো ফলনের জন্য হাইব্রিড জাতের অধিক ফলনশীল ধানের ভ্যারাইটি এসিআই, আফতার, জিরা, জাগরণ, এরাইস, টিয়া ও নীলসাগর ধানের চারা রোপন করতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। এই ভ্যারাইটির ধান প্রতি হেক্টরে ৪ দশমিক ৭৫ মেট্রিক টন থেকে ৫ মেট্রিক টন পর্যন্ত ফলন উৎপাদন করা সম্ভব হবে। দেশী উফশী জাতীয় ধানের মধ্যে ব্রি-২৮, ২৯, ৫৮, ৪৫, ৫৫, বিআর-১৬ ও কোটরা পারি ধানের ফলন বেশি ও বালাইমুক্ত হওয়ায় কৃষকদের এই ধানের বীজ রোপনে উদ্বুদ্ধ করা হয়। এসব দেশী উফশী জাতীয় ধান প্রতি হেক্টরে ৩ দশমিক ৮৬ মেট্রিক টন থেকে ৪ মেট্রিক টন পর্যন্ত ফলন অর্জিত হয়। এবারে হাইব্রিড ও উফশী উন্নত জাতের এসব বোরো ধানের চারা রোপন বেশি হয়েছে।
দিনাজপুর বিআরডিবি সার বিভাগের উপ-পরিচালক দিদার হোসেন জানান, জেলায় বোরো চাষে কৃষকদের পর্যাপ্ত সার সরবরাহের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। চলতি বছর বোরো চাষের ১৩ হাজার ৮১০ মেট্রিক টন ইউরিয়া, ১ হাজার ৭৫৯ মেট্রিক টন টিএসপি, ১ হাজার ৪৩ মেট্রিক টন ড্যাব ও ২ হাজার ১৯ মেট্রিক টন এমওপি রাসায়নিক সার চাহিদা রয়েছে। চাহিদার বিপরীতে দ্বিগুন পরিমাণ সার বিআরডিবির গুদামে মজুদ রয়েছে। জেলার ১২৬ জন রাসায়নিক সার ডিলার ও ৩৭৮ জন সাব ডিলারের মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে সার বিক্রির সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কৃষকেরা সহজে সার ক্রয় করে বোরো চাষে ব্যবহার করছেন।
দিনাজপুর কৃষি অধিদপ্তরের যান্ত্রিক বিভাগের সহকারী পরিচালক ইকবাল হাসান জানান, জেলায় কৃষি কাজে ব্যবহার্য বিদ্যুৎ চালিত ২ হাজার ৮৫৭টি গভীর ডিপ টিউবওয়েল, ১৩ হাজার ৪৬৬টি বিদ্যুৎ চালিত অগভীর ডিপ টিউবওয়েল, ৬২ হাজার ৬৬৯টি ডিজেল চালিত ডিপ টিউবওয়েল ও ৩৮৬টি ললিত পাওয়ার পাম্প বোরো চাষের সেচ কাজে ব্যবহারের জন্য চালু রয়েছে। বোরো মৌসুমে চেক কাজে ব্যবহারের জন্য যন্ত্রগুলো যাতে স্বাভাবিক থাকে সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ দিতে দিনাজপুর অঞ্চলে ২টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে তৎপর রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে জেলায় বাম্পার ইরি-বোরো চাষ উৎপাদন সফল করতে কৃষি অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগ প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে।

আপনার মতামত লিখুন

কৃষি,দিনাজপুর বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ