বৃহস্পতিবার-২১শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং-৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: দুপুর ২:৩৬, English Version
নাচোলের অন্যতম প্রয়াত নেতা আবু রেজা মোস্তাফা কামাল শামীম বাজার অস্থিতিশীলকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে -রমেশ চন্দ্র সেন গোবিন্দগঞ্জে আগ্নিকান্ডে ৩০০ দোকান পুড়ে ছাই পরিবহন ধর্মঘটের প্রভাব পড়েছে হিলি স্থলবন্দরে গোবিন্দগঞ্জে ট্রাকে ঝরল বৃদ্ধের প্রাণ রুদ্ধদ্বার বৈঠক : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাসে সড়কে ধর্মঘট প্রত্যাহার পলাশবাড়ীতে বাস থেকে পড়ে হেলপারের মৃত্যু

জলঢাকায় এক ব্যাতিক্রমধর্মী যুগান্তকারী পদক্ষেপ কেঁচো দিয়ে সার উৎপাদন

প্রকাশ: সোমবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ , ২:৪৮ অপরাহ্ণ , বিভাগ : কৃষি,

এরশাদ আলম, জলঢাকা (নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ
নীলফামারীর জলঢাকায় এক ব্যাতিক্রমধর্মী কেঁচো দিয়ে সার উৎপাদনের সন্ধান পাওয়া গেছে। বিজ্ঞান মনোস্ক ধ্যান-ধারণা, চিন্তা-চেতনা পুরোটাই কাজে লাগিয়ে বেকারত্ব দূরীকরণে নজির স্থাপন করেছেন উপজেলার পশ্চিম শিমূলবাড়ী মীরগঞ্জ ইউনিয়নের হরিহর চন্দ্র রায়ের ছেলে সুনিল চন্দ্র রায় (৩৭)। রোববার তার সাথে কথা হলে বেড়িয়ে আসে তথ্য। এমন একটা সময় ছিল সুনিল চাকুরী করতেন একটি বে-সরকারী এনজিও (ব্র্যাকে)। ৭-৮ বছর কর্মস্থলে থাকার পর আচমকা তার মাথার মধ্যে বে-কারত্ব দূরীকরণের এক আবিস্কারের চেতনা জন্ম নেয়। সেই থেকে কর্মস্থল ত্যাগ করে নিজ বাড়ীতে চলে আসে এবং শুরু করে দেয় কেঁচো দিয়ে সার উৎপাদনের অসাধারণ নৈপূর্ণতা। “গরুর গোবর, লতা-পাতা, কচুরি ফেনা, হোটেলের উৎবিষ্ট চা পাতা, ডিমের খোঁসা প্রথমে হালকা শুকিয়ে নিয়ে হাউজের মধ্যে কেঁচো দিয়ে তৈরি করছেন কেঁচো সার। ১০-১৫ দিনের মধ্যে হাউজে থেকে এ সার তৈরি করতে সময় লাগে। প্রথম দিকে কেঁচো পাকিস্তান ও চায়না থেকে শার্প এনজিওর কাছ থেকে কিনতে হয়েছে। পরবর্তীতে বংশ বিস্তারের মাধ্যমে এখন সর্বত্র বিক্রি করছে এই কেঁচো। কৃষি অফিসের কর্মকর্তা শাহ মুহাম্মদ মাহফুজুল হক বলেন, কেঁচো সার পৃথিবীর মধ্যে শ্রেষ্ট সার, কেননা উদ্ভিদ বেঁচে থাকার জন্য যে সব উপাদানের প্রয়োজন যেমন-সালফার, ক্যালসিয়াম, ম্যানেসিয়াম, নাইট্রোজেন, ব্রোন, জিংক, পটাসিয়াম, ফসফেট এ রকম ১৬ টি উপাদান উদ্ভিদের জন্য প্রয়োজন। এ গুলোর ১৪ টি উপাদান বিদ্যমান কেঁচো সারে। রাসানিক সারের মাধ্যমে জমির উর্বরতা দিন-দিন মৃত প্রায়। সেজন্য মাটির প্রাণ সঞ্চারের জন্য প্রাকৃতিক ভাবে মাটিকে উর্বর করতে কেঁচো সারের বিকল্প নেই।” কেঁচো সার প্রয়োগ করে সুবিধা ভুগিদের মধ্যে কৃষক ফয়েস উদ্দিনের ছেলে আলম ও সিরাজুল ইসলামের ছেলে শামিম জানায়, রাসায়নিক সার ব্যবহার করতে-করতে আমাদের জমির উর্বরতা হারিয়ে জমিগুলো অনাবাদি হয়েছে। আমরা কেঁচো সার প্রয়োগ করে বিঘা প্রতি ১৫-২০ কেজি ব্যবহার করে ৩০-৩২ মণ ধান উৎপাদন করছি। মানুষ যে কেন রাসায়নিক সার ব্যবহার করে সেটা আমরা জানি না। জয় ডেইরী এন্ড এগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী এক ছেলে এক মেয়ে সহ ৬ জন নিয়ে গঠিত পরিবারের উপার্জনক সুনিল চন্দ্র জানান, শুধু নিজের চিন্তা নয়, মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এ উৎপাদন। দেশ ও জাতির ভারসাম্য রক্ষা করবে এই কেঁচো সার। ৫-৬ বছর ধরে আমি কেঁচো সার উৎপাদনে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছি। একটি হাউজ দিয়ে শুরু করলেও বর্তমানে তা ২০-২৫ টি হাউজে উন্নীত হয়েছে। এখন ১৫-২০ টি বেকার যুবক আমার ফার্মে কর্মসংস্থান পেয়েছে। প্রতি মাসে ৫০-৬০ মণ সার বিক্রি করি। শুধু এলাকার সাধারণ কৃষকেই নয়, এটা ঢাকার আল মুসলিম গ্রুপ, রংপুরের সিটি সিট, এনজিও শার্পের নার্সারি থেকে শুরু করে অনেক স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান এ সার ক্রয় করতে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ করছেন আমার সঙ্গে। সরকারের সহযোগিতার হাত প্রসারিত হলে এক দিকে যেমন, কর্মসংস্থান পাবে মানুষ, অন্যদিকে মাটির উর্বরতা বাড়াতে এ সারের বিকল্প নেই।

আপনার মতামত লিখুন

কৃষি বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ