বুধবার-১লা এপ্রিল, ২০২০ ইং-১৮ই চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: দুপুর ২:৪৮, English Version
মশার গান আর শুনতে চাই না : মেয়রদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী কোভিড-১৯ (করোনা ভাইরাস) সংক্রান্ত সর্বশেষ প্রতিবেদন গাইবান্ধায় শ্রমজীবী মানুষ গুলো ব্যাপকভাবে বিপাকে সাধারণ ছুটি ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ল চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে খাবার তুলে দিলেন লেনিন প্রামাণিক চাঁপাইনবাবগঞ্জে সাবেক এমপি আব্দুল ওদুদের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ পার্বতীপুরের পত্রিকা বিক্রেতাদের হাতে তুলেন দিলেন খাদ্য সামগ্রী- উপজেলা সমাজসেবা অফিসার

আরো একধাপ এগুলো গ্রিন ইউনিভার্সিটি

প্রকাশ: সোমবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ , ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ , বিভাগ : শিক্ষা,
মুক্তিনিউজ24.কম ডেস্ক: উচ্চ শিক্ষায় মানসম্মত শিক্ষা দেয়ার কার্যক্রমে এগিয়েছে ইতোমধ্যেই। পরিকল্পনা এখন আরো এগিয়ে যাওয়ার, মানসম্মত শিক্ষা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গণে ছড়িয়ে দেয়ার। এক যুগের বেশি সময় আগে স্বল্প পরিসরে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল, কালক্রমে তা এখন দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়।
যদিও ১৩ বছর (প্রতিষ্ঠাকাল ২০০৩ সাল) একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য খুব বেশি সময় নয়, তারপরও অভিজ্ঞ ও স্বনামধন্য শিক্ষকমণ্ডলী দ্বারা বিশ্বমানের শিক্ষা কারিকুলাম ও পাঠদান পদ্ধতি, সুদক্ষ পরিচালনা পর্ষদ ও প্রশাসন ব্যবস্থা, উন্নত ভৌত-অবকাঠামোগত দিক থেকে ইতোমধ্যেই শিক্ষার্থী-অভিভাবক ও বিশিষ্টজনদের নজর কেড়েছে ‘এ গ্লোবাল হায়ার এডুকেশন সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ স্লোগানধারী এই প্রতিষ্ঠান।
সম্প্রতি পাঠদানের পাশাপাশি দেশীয় সাংস্কৃতিক বিকাশের কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে আরো একধাপ এগুলো এই ইউনিভার্সিটি ও এর শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রিন অডিটোরিয়ামে জমকালো এক আয়োজনের মাধ্যমে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মনন বিকাশে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭টি ক্লাবের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের কাছে ‘সেলফ ও চাবি’ হস্তান্তরের মাধ্যমে এই কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। শুধু তাই নয়, অনুষ্ঠানাদি পরিচালনার জন্য কক্ষেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে ওইসব ক্লাবগুলোর জন্য। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. গোলাম সামদানী ফকিরসহ কোষাধ্যক্ষ ও ছাত্র বিষয়ক পরিচালক মো. শহীদ উল্লাহ, রেজিস্ট্রার লে. জেনারেল মো. মইনুল ইসলাম (এলপিআর), গ্রিন বিজনেস স্কুলের ডীন অধ্যাপক ড. গোলাম আহমেদ ফারুকী, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মো. ফয়জুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। প্রসঙ্গত, ক্লাবগুলোর মধ্যে রয়েছে- ডিবেটিং ক্লাব, গ্রিন বিজনেস ক্লাব, মার্কেটিং ক্লাব, ইংরেজি ক্লাব, স্পোর্টস ক্লাব, ল’ ক্লাব, সোশ্যাল বন্ডিং ক্লাব, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ক্লাব, টেক্সটাইল ক্লাব, কম্পিউটার ক্লাব, এফটিডিএম ক্লাব, গ্রিন ওয়ারিয়র ক্লাব, রিডিং সোসাইটি, ফটোগ্রাফি ক্লাব, কালচারাল ক্লাব, থিয়েটার ক্লাব, ব্লাড ক্লাব।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মো. ফয়জুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু লেখাপড়া করা চলবে না, সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও অংশ নিতে হবে। তিনি বলেন, ‘অভিজ্ঞতা’ বৃথা যায় না। ছাত্রবস্থায় যদি কোনো শিক্ষার্থী নূন্যতম সাংগঠনিক কাজ করে থাকে, সেটাই তাকে কর্মজীবনে বড় ধরনের সফলতা এনে দেবে।
গ্রিন বিজনেস স্কুলের ডীন অধ্যাপক ড. গোলাম আহমেদ ফারুকী বলেন, শিক্ষার্থীকে ‘জিনিয়াস’ করে তোলার ফ্যাক্টরি হলো সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ক্লাব বা সংগঠন। এর মাধ্যমেই একজন শিক্ষার্থীদের সুন্দর-সুচারুভাবে জীবন সাজাতে পারে। তাই প্রত্যেক শিক্ষার্থীর উচিত এ ধরনের কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকা।
অনুষ্ঠানের ক্লাবগুলোর কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের নির্দেশনা দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার লে. জেনারেল মো. মইনুল ইসলাম (এলপিআর)। তিনি বলেন, প্রত্যেক ক্লাব যার যার গণ্ডির মধ্যে থেকে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করবে। কেউ কারো গণ্ডিতে প্রবেশ করবে না। ক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা মিটিং করে যে কোনো দিবসকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে। আর জাতীয় দিবসগুলো পালন করা হবে সমন্বিতভাবে। যেখানে আয়োজক প্রতিষ্ঠান হিসেবে থাকবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থী এসব কর্মকাণ্ডে অংশ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন মো. মইনুল ইসলাম।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ও ছাত্র বিষয়ক পরিচালক মো. শহীদ উল্লাহ বলেন, সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার প্রধান অস্ত্র ‘মানসিকতা’। এই অস্ত্র না থাকলে জীবনে পরিপূর্ণ সফলতা আসবে না। তাই প্রত্যেক ছাত্রের উচিত- অন্তত নিজেকে গড়ার জন্য ক্লাবগুলো থেকে দক্ষত-অভিজ্ঞতা অর্জন করা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. গোলাম সামদানী ফকির বলেন, ‘সহশিক্ষা’ না থাকলে একাডেমিক শিক্ষা অনেকাংশে অসম্পূর্ণ থেকে যায়। কারণ, পড়াশোনার বাইরে ইতিবাচক অন্যসব কর্মকা-ের মাধ্যমেই নেতৃত্বের গুণাবলী ও সৃষ্টিশীলতা বিকশিত হয়। আর এটাই জীবন চলার বড় পাথেয়। এ সময় গ্রিন ইউনিভার্সিটির সকল শিক্ষার্থীকে ক্লাবগুলোর মাধ্যমে সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
প্রত্যয় জানায় ক্লাবগুলোর সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরাও। যাদের ভাষ্য, রাজনৈতিক মেরুকরণ, মৌলবাদী অপশক্তির কুঠারাঘাত ও অপসংস্কৃতির ভাইরাস থেকে বেরিয়ে সামাজিক-সাংস্কৃতিক কাজের মাধ্যমের মেধা ও মনন বিকাশে আত্মনিয়োগ করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য। পাশাপাশি চিরায়ত বাঙালী সংস্কৃতি ধরে রাখার মাধ্যমে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে গ্রিন ইউনিভার্সিটিকে সাংস্কৃতিক চর্চার পীঠস্থান হিসেবে রূপ দেয়া।
আপনার মতামত লিখুন

শিক্ষা বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ