বৃহস্পতিবার-২১শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং-৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ৮:৫৯, English Version
চাঁপাইনবাবগঞ্জে দিনব্যাপী বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিশ্ব এন্টিবায়োটিক সচেতনতা সপ্তাহ উপলক্ষে র‌্যালি পরিবহন ধর্মঘটে সৈয়দপুরসহ নীলফামারী জেলায় চরম জনদূর্ভোগ নাচোলের অন্যতম প্রয়াত নেতা আবু রেজা মোস্তাফা কামাল শামীম বাজার অস্থিতিশীলকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে -রমেশ চন্দ্র সেন গোবিন্দগঞ্জে আগ্নিকান্ডে ৩০০ দোকান পুড়ে ছাই পরিবহন ধর্মঘটের প্রভাব পড়েছে হিলি স্থলবন্দরে

গাংনীর মেধাবী ছাত্রী শিরিনার উজ্জল ভবিষ্যত অন্ধকারের পথে

প্রকাশ: রবিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০১৭ , ১:৩৩ অপরাহ্ণ , বিভাগ : সারাদেশ,সিলেট,

img_20170108_170825গাংনী সংবাদদাতা: অর্থ অভাবে পড়ালেখা বন্ধ হতে চলেছে মেহেরপুরের গাংনীর মেধাবী ছাত্রী শিরিনা খাতুনের। জেএসসি পরীক্ষায় ৪.৫৫ পাওয়ার পরও অর্থের যোগান না থাকায় অনিশ্চিত জীবনের পথে শিরিনা খাতুন। শিরিনা খাতুন পৌর এলাকার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের দক্ষিন পাড়ার দিনমুজুর সিরাজুল ইসলামের মেয়ে ও গাংনী পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণীর ছাত্রী। মেধাবী ছাত্রী শিরিনা খাতুন জানান, ৫ সদস্য’র সংসারে দিনমুজুর পিতার পক্ষে ঠিকমত আহার জোগানো সম্ভব হয়না। কখনো অনাহারে আবার কখনো অর্ধহারে থেকে পড়াশুনার খরচ জোগায় তার বাবা দিন মুজুর সিরাজুল ইসলাম। সংসারে খরচ বেড়ে যাওয়ার কারনে দিনমুজুর পিতার পক্ষে আর পড়াশুনা করানো সম্ভব হচ্ছেনা। তার পরও ভবিষ্যত ভেবে সহপাঠিদের কাছ থেকে বই ও খাতা কলম চেয়ে পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছি। সহপাঠিদের সহায়তা না পেলে এতদিন হইতো পড়াশুনা বন্ধই হয়ে যেত। শিরিনা খাতুনের মা রাজিয়া খাতুন জানান,মেয়ের পড়াশুনার প্রতি আগ্রহ থাকায় এতদিন অনেক কষ্ট করে চালিয়ে নিয়েছি। বর্তমানে অর্থিক সংকট থাকার কারনে তার পড়ালেখা বন্ধের পথে। তিনি আরো জানান,একটি মাত্র স্কুল ড্রেস পরে গত দুই বছরেরও বেশি সময় পড়ে স্কুলে যায়। মেয়ে আকুতি করার পরও একটি স্কুল ড্রেস দিতে পারিনী। প্রতিদিন অন্তত ৪ কিলোমিটারেরও বেশি পায়ে হেটে স্কুলে যাতায়াত করে। বাসভাড়া তো দুরের কথা বই খাতাও ঠিকমত দিতে পারিনী। এভাবেই চলছে শিরিনা খাতুনের পড়ালেখা। শিরিনা খাতুনের পিতা সিরাজুল ইসলাম জানান,নিজের কোন জমি জমা নেই। দিনমুজুরের কাজ করে কোন রকম সংসার চলে। মেয়ের পড়াশুনার খরচ তেমন দিতে পারিনা একারনে পড়াশুনা বন্ধ করতে চাইলে মেয়ে শিরিনা খাতুন অভিমান করে বসে থাকে। বিভিন্ন সময়ে তার বান্ধবীদের কাছ থেকে সহায়তা নিয়ে নিজের ইচ্ছেতেই পড়াশুনা করছে। এবং ভালো ফলাফল করেছে। নিয়মিত বইখাতা সহ প্রাইভেট পড়াতে পারলে হইতো শিরিনা আরো ভালো ফলাফল করতে পারতো। পরীক্ষার ফলাফলে আলোকিত হলেও অর্থ অভাবে শিরিনার জীবন এখন অন্ধকারের পথে। স্থানীয়রা জানান,একটি কুড়ে ঘরে শিরিনা খাতুন সহ তার পরিবারের সদস্যদের গাদাগাদি করে থাকতে হয়। খড়ের ছাউনী ও চাটাই দেয়া ঘরে মানবেতর জীবন যাপন করছে তারা। তিব্রশীতে শীতবস্ত্রের অভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছে শিরিনার ছোট দু ভাই। শিরিনা খাতুনের কয়েকজন বান্ধবী জানায়, তার মেধা অত্যন্ত ভালো। স্কুলে এসে সহপাঠিদের বই পড়ে ক্লাস শুরু করে। শিরিনা খাতুন বই খাতা সহ শিক্ষা সামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা পেলে সমাজে মাথা উচু করে দাঁড়াতে পারবে। গাংনী পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফুজ্জামান লালু জানান,শিরিনা খাতুন অত্যন্ত মেধাবী ছাত্রী। পড়ালেখার প্রতি খুবই আগ্রহ রয়েছে। পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারলে আমাদের মুখ উজ্জল করবে। কেউ সহযোগিতা করতে চাইলে শিরিনা খাতুনের পরিবার

আপনার মতামত লিখুন

সারাদেশ,সিলেট বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ