শনিবার-৪ঠা এপ্রিল, ২০২০ ইং-২১শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: ভোর ৫:১৩, English Version
নশিপুর ঘোষ পাড়া ওয়ার্ডের করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে গ্রাম পুলিশের সচেতনা অভিযান শিবগঞ্জ তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ ঠাকুরগাঁওয়ে সিগারেটের প্যাকেট খুলেই মিলল টিস্যু, প্রতারকের কারাদণ্ড রাজারহাটে ১জনের ৫০হাজার টাকা জরিমানা ফুলবাড়ীতে ডেকোরেটর শ্রমিকদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ ॥ গোদাগাড়ীতে গলায় ফাঁস দিয়ে এক নারীর আত্মহত্যা ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের সাংবাদিক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত

ডোমারে দখল দারদের কারনে হারাতে বসেছে শালকি নদী।

প্রকাশ: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২০ , ৪:৫৫ অপরাহ্ণ , বিভাগ : রংপুর,সারাদেশ,

রবিউল হক রতন, ডোমার (নীলফামারী) সংবাদদাতা : নীলফামারীর ডোমারে দখলের কারনে হারাতে বসেছে শালকি নদী। ডোমার পৌরসভার বুকচিরে শালকি নদীটি আজ বিলিনের পথে। বছরের প্রতিটিদিন বহমান শ্রোত ধরে রাখা নদীটি আজ কালের সাক্ষীতে পরিনত হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, বিভিন্ন স্থানে নদীটি দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা তৈরী করায় সংকুচিত হয়ে পড়েছে নদীর আকার। অনেকে নিজের জায়গা মনে করে আবার মাটিফেলে ভরাট করে নিজেদের মতো করে ব্যবহার করছে এবং বিভিন্ন স্থাপনা তৈরী করছে। ডোমার উপজেলা থেকে উৎপত্তি হওয়া এই শালকি নদীটি রক্ষার দাবী জানিয়েছেন তারা। উপজেলার সদর ইউনিয়নের বড় রাউতা গ্রামের মৃত আশরাফ আলীর ছেলে নজরুল ইসলাম জানান বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড খুলখুলির পুল থেকে উৎপত্তি হয়ে ডোমার সদর ইউনিয়নের বড়রাউতা, ছোট রাউতা ও পৌর এলাকার কোল ঘেসে প্রায় সাড়ে ৬ কিলোমিটার শালকি নদীটি গিয়ে মিলিত হয়েছে দেওনাই নদীতে। উৎপত্তি স্থল হতে শেষ মাথা পর্যন্ত বিভিন্ন অংশে অবৈধ স্থাপনা তৈরী হওয়ায় নদীর মালিকানা এখন দখলদারদের কবলে রয়েছে। শালকিকে আর নদীরুপে চেনাই যায়না।আগের শালকি আর এখনকার শালকির মধ্যে আসমান জমিন তফাৎ। মনে হচ্ছে দখলদাররা তাদের বাড়ীর নোংড়া পানি নিস্কাষনের জন্য ড্রেন তৈরী করেছে। পানি প্রবাহ না থাকায় যেটুকু আছে সেটাও আজ হারিয়ে যেতে বসেছে মানচিত্র থেকে। এতেকরে পরিবেশ যেমন দূষিত হচ্ছে তেমনি আগামী প্রজন্মের কাছ থেকে শালকি নামটিও মুছে যেতে বসেছে ইতিহাসের পাতা থেকে। এ নদীকে প্রভাবশালী,ক্ষমতাবানরা গ্রাস করে নির্মান করেছে বাড়ীসহ বিভিন্ন স্থাপনা, আর ময়লা আবর্জনা ফেলার জন্য অবশিষ্ট অংশটুকু রেখেছে। সবখানে দেখা যাচ্ছে শুধু দখলের চিহ্ন। নদী পারের আর এক বাসিন্দা আনিছুর রহমান জানিয়েছেন, এইতো সেই দিনের কথা নদীটি সারা বছর পানিতে টই টুম্বর থাকতো,ছেলেরা ব্রীজের উপর থেকে নদীর পানিতে লাফ দিয়ে গোসল করতো, হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন এই নদীতেই তাদের প্রতিমা বিসর্জন দিত। এখন নদী তার যৌবন হারিয়েছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন যে নদীর জায়গাটি এখন ব্যাক্তি মালিকানায় পরিনত হয়েছে। স্থানীয়রা মনে করেন উপজেলা শহরে উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা না থাকায় বর্ষার সময় আমাদের দূর্ভোগ পোহাতে হয়। নীলফামারী জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লা আল মামুন জানান শালকি নদীটি দ্বিতীয় পর্যায়ে খননের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এই প্রকল্পটিতে ব্যায় ধরা হয়েছে আড়াই কোটি টাকা,প্রকল্পটি অনুমোদন হলে দ্রুত খননের কাজ শুরু করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

রংপুর,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ