সোমবার-৩০শে মার্চ, ২০২০ ইং-১৬ই চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ১২:৪৫, English Version
উমাদিনী ত্রিপুরার মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক ডোমার পৌর শহরে চলছে জীবাণু নাশক ছিটানো কার্যক্রম। লালপুরে দুস্থদের মাঝে নিজ উদ্যোগে খাবার সামগ্রী বিতরণ পার্বতীপুরে করোনা ঠেকাতে আদা, লং, কালিজিরার চা খাওয়ার গুজব! চাঁপাইনবাবগঞ্জে খেটে খাওয়া গরীব দুঃখি মানুষের মাঝে চাল বিতরণ শুরু ‘করোনা চিকিৎসায় ২৫০ ভেন্টিলেটর প্রস্তুত’ সংবাদপত্র সংক্রান্ত সকল ধরনের কাজ পরিচালনায় কোনো বাধা নেই

সাবান কি ভাইরাস মারতে সক্ষম, কতটা কার্যকর হ্যান্ড স্যানিটাইজার?

প্রকাশ: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২০ , ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ , বিভাগ : লাইফস্টাইল,

এমএন২৪.কম ডেস্ক :  করোনা আতঙ্কে কাঁপছে পুরো বিশ্ব। কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কার না হওয়ায় এই ভাইরাস থেকে বাঁচতে বার বার হাত ধোয়ার ও পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। আর তাই হাত পরিষ্কার করার বিশেষ তরল হ্যান্ড স্যানিটাইজারের কদর বেড়েছে অনেক। প্রশ্ন হচ্ছে এই হ্যান্ড স্যানিটাইজার কি আসলেই ভাইরাস নিধনে কার্যকর? ত্বকের জন্য কতটা নিরাপদ এটি? হাতকে জীবাণুমুক্ত রাখতে কি সাবান পানি যথেষ্ট নয়? সব প্রশ্নের সঠিক জবাব খুঁজতে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলেছে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা এবং জনস্বাস্থ্য বিভাগ এ বিষয়ে একমত যে, জীবাণুনাশকে কমপক্ষে ৬০ শতাংশ অ্যালকোহল থাকলে তা ভাইরাস নিধনে সক্ষম। বাজারে যে হ্যান্ড স্যানিটাইজারগুলো পাওয়া যায় তাতে সাধারণত ৬০-৯৫ শতাংশ অ্যালকোহল থাকে। লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের অধ্যাপক স্যালি ব্লুমফিল্ড বলেন, জীবাণুনাশকের বিরুদ্ধে ভাইরাসের প্রতিরোধ ব্যবস্থা ব্যাকটেরিয়ার চেয়ে বেশি শক্তিশালী। তবে সৌভাগ্যক্রমে করোনাভাইরাস একটি এনভেলপ ভাইরাস। অর্থাৎ এর বাইরে একটি আবরণ রয়েছে যা অ্যালকোহলের সংস্পর্শে নষ্ট হয়ে যায়। নরোভাইরাস কিংবা রাইনোভাইরাসের ক্ষেত্রে কিন্তু এমনটা হয় না। ঘরে তৈরি হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছে বিশেষজ্ঞ স্যালি। তার মতে, এ ধরনের জীবাণুনাশক ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসে কার্যকর হতে পারে ঠিকই কিন্তু এটি বিপজ্জনক হতে পারে। বাজারে যেসব জীবাণুনাশক পাওয়া যায় সেগুলোর কিছুতে এমন উপাদান থাকে যা সেটিকে ত্বকের জন্য সহনীয় করে তোলে। নির্দিষ্ট অনুপাতে উপাদান না মেশালে তা ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই বাসায় জীবাণুনাশক না বানানোই উত্তম।

কখন হাত ধুবেন? বাইরে থেকে বাসা কিংবা অফিসে প্রবেশ করে সাবান পানি দিয়ে ভালো করে কবজি পর্যন্ত হাত ধুয়ে নিন। সাবান না পেলে ব্যবহার করুন হ্যান্ড স্যানিটাইজার। বাসের হ্যান্ডেল, সিঁড়ির রেলিং, চলন্ত সিঁড়ির বেল্ট ইত্যাদি স্থানে হাত না দেওয়াই ভালো। যদি হাত দিয়েও ফেলেন তবে হাত ধুয়ে ফেলুন দ্রুত। হাতকে জীবাণুমুক্ত করার সবচেয়ে ভালো ও ঝুঁকিমুক্ত উপায় হলো সাবান পানি দিয়ে হাত ধোয়া। আমেরিকান সোসাইটি ফর মাইকোবায়োলজির ২০১৯ সালের একটি গবেষণায় বলা হয়, প্রবাহিত পানি (ট্যাপ) ও সাবান দিয়ে হাত ধোয়া হ্যান্ড স্যানিটাইজারের চেয়েও বেশি কার্যকর। কারণ জেল দিয়ে হাত ভালোভাবে ঘষা যায় না।

কীভাবে ধুবেন? সাবান লাগিয়ে ২০ সেকেন্ড হাত ঘষুন। এরপর ভালো করে ধুয়ে হাতে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন। হাত ধোয়ার পর গরম বাতাসে হাত না শুকিয়ে কাগজের তোয়ালেতে হাত মুছে নিন। এতে দ্রুত হাত শুকিয়ে যায়। ভেজা হাতে জীবাণু দূষণ বেশি হয়।

অতিরিক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারে বিপদ রাসায়নিক কোম্পানি কাও করপোরেশনের একজন মুখপাত্র বলেন, অতিরিক্ত হ্যান্ড জেল ব্যবহার করলে ত্বক শুকিয়ে এবং প্রাকৃতিক তেল মুছে গিয়ে ত্বক সংবেদনশীল হয়ে উঠতে পারে এবং জ্বালাপোড়া হতে পারে। আর ক্ষতিগ্রস্ত ত্বকে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে বেশি। তাই অতিরিক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার না করাই শ্রেয়। হাত পরিষ্কার রাখার ব্যাপারে নজর দিন। সাবান-পানিতে হাত ভালো করে ঘষে ধুয়ে ফেলুন। আর পানি বা সাবান না থাকলে ব্যবহার করুন হ্যান্ড স্যানিটাইজার।

আপনার মতামত লিখুন

লাইফস্টাইল বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ