মঙ্গলবার-৩১শে মার্চ, ২০২০ ইং-১৭ই চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: সকাল ৭:২০, English Version
জলঢাকায় পৌর মেয়র রাবি শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে হ্যান্ড সেনিটাইজার ও মাস্ক বিতরণ ১৯৭১এর বরবরতার স্বাক্ষী দেওয়ার জন্য আমগাছটি এখনো দাঁড়িয়ে! বাড়ি বাড়ি খাবার পৌঁছে দিচ্ছে সেনাবাহিনী গাইবান্ধায় কর্মহীন ভাসমান বেদে সম্প্রদায়ের মাঝে খাদ্য সহায়তা দিলেন পুলিশ সুপার ডোমারে ট্রলিতে করে ভিজিডি চাউল বাড়ীতে পৌছায় দিচ্ছেন চেয়ারম্যান রিমুন। জলঢাকায় পুড়ে যাওয়া অসহায় পরিবারের পাশে ‘এসো নিজে করি’ তাহিরপুরে মাটি বোঝাই হ্যান্ডট্রলি উল্টে মাদ্রাসা ছাত্র নিহত

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ,করোনাভাইরাসের লক্ষণ দেখা দিলে কী করবেন?

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২০ , ১২:০৫ অপরাহ্ণ , বিভাগ : স্বাস্থসেবা,

এমএন২৪.কম ডেস্ক :  দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ যখন একটি দুটি করে বাড়ছে এবং সারা পৃথিবীতে এই রোগের দ্রুত বিস্তারের খবর সংবাদ মাধ্যমে প্রতিনিয়ত প্রচার হচ্ছে, তখন এ নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ উৎকণ্ঠাও বাড়ছে। তবে সরকারের দিক থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে যে জ্বর-ঠাণ্ডা-কাশি এরকম লক্ষণ দেখা দিলেই হাসপাতালে দৌড়ানোর দরকার নেই। এ রকম হলে তাদের প্রথম বাড়িতে স্বেচ্ছা কোয়ারেন্টিনে থাকতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

লোকজন কেন হাসপাতালে দৌড়াচ্ছে?
রোগ তত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এ এস এম আলমগীর বলেন, বাংলাদেশে সাধারণত এপ্রিল মাস থেকে মৌসুমি ইনফ্লুয়েঞ্জা শুরু হয়, শেষ হয় সেপ্টেম্বর মাসে। কিন্তু এ বছর এই মৌসুম একটু আগেভাগেই শুরু হয়ে গেছে। এই সিজন শুরু হয়ে যাওয়াতে যেটা হয়েছে যে অনেক মানুষের এখন সাধারণ জ্বর, সর্দি-কাশি ও গলা ব্যথা হচ্ছে। মানুষজন যেহেতু এখন সচেতন তাই তারা মনে করছে যে এটা হয়তো করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। আর এ জন্য সাধারণ লোকজন পরীক্ষার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে দৌড়াদৌড়ি করছে বলে তিনি মনে করেন। শুধু লোকজনই নন কিছু কিছু চিকিৎসকও মনে করছেন যে এটা হয়তো এই ভাইরাসেরই সংক্রমণ।
লক্ষণ দেখা দিলে কী করতে হবে?
আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আলমগীর বলেন, ‘আপনার যদি এ রকম লক্ষণ দেখা দেয় এবং গত ১৪ দিনে আপনার বিদেশ ভ্রমণের কোনো ইতিহাস না থাকে, দয়া করে আপনি বাড়িতে থাকুন, ইনফ্লুয়েঞ্জার চিকিৎসা করুন, নিকটস্থ ডাক্তারের কাছে যান।’ তিনি বলছেন, এসব লক্ষণ দেখা দিলেই পরীক্ষা করানোর প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশে এখনো পর্যন্ত ১৪ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তারা বিদেশ থেকে আসা বাংলাদেশি নাগরিক কিম্বা তাদের পরিবারের সদস্য। আলমগীর জানান, এসব পরিবারের বাইরে বাংলাদেশে আর একজনও এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়নি। যদি তাদের বাইরে কমিউনিটিতে এই ভাইরাসটি পাওয়া যায় তাহলেই প্রমাণ হবে যে এটি স্থানীয়ভাবেও ছড়াচ্ছে। লক্ষণ তো একই
সাধারণ জ্বর সর্দি-কাশির সাথে করোনাভাইরাসের লক্ষণের মধ্যে তেমন একটা তফাৎ নেই। সে কারণে কারো এ রকম লক্ষণ দেখা দিলে তিনি কী করবেন? আলমগীর বলেন, বিদেশ থেকে আসা বাংলাদেশিদের পরিবার ছাড়া এখনো পর্যন্ত কমিউনিটিতে কোনো সংক্রমণ হয়নি। আমাদের ওপর বিশ্বাস রাখুন। সে রকম কিছু হলে আমরা ঘোষণা করে দেব। তখন কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় করোনাভাইরাসের পরীক্ষার ব্যবস্থা তৈরি হয়ে যাবে। তখন কেউ টেস্ট করাতে চাইলেই করাতে পারবেন। অভিযোগ উঠেছে যে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এই সন্দেহে কেউ কেউ হাসপাতালে গেলে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না। ফলে তারা বুঝতে পারছেন না যে কী করবেন- তারা কী নিজেদের অন্যদের কাছ থেকে আলাদা করে রাখবেন নাকি তার জরুরি ভিত্তিতে পরীক্ষা করানো দরকার হবে? তিনি বলেন, ‘আপনার যদি মনে হয় যে আপনি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, তাহলে আপনার বাড়ির বাইরে বের হওয়ার দরকার নেই। আপনি আমাদের হটলাইনে যোগাযোগের চেষ্টা করুন। আমাদের ১৭টি ফোন নম্বর আছে।’ কোথায় যোগাযোগ করবেন
ই-মেইলের মাধ্যমেও আইইডিসিআরের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।  এর পাশাপাশি একটি ফেসবুক পাতাও খোলা হয়েছে। সেখানে বার্তা দেওয়া হলেও আইইডিসিআরের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হবে। তিনি জানান, হটলাইনে বুধবার (১৮ মার্চ) ৪ হাজার ৮০০ এর বেশি কল এসেছে। ফলে হটলাইনে সব কিছু সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কোন পরিবারে যদি বিদেশ থেকে কেউ এসে থাকেন তাহলে তাদের আর সকলের কাছ থেকে আলাদা থাকতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের আইইডিসিআরের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। ‘আমরা কিন্তু বাড়িতে গিয়ে নমুনা নিয়ে আসছি। আপনার যদি গলা ব্যথা, শুকনো কাশি অথবা জ্বর থাকে, আপনি বাড়িতে থাকুন, আমাদের টিম দিনের কোন এক সময় আপনার কাছে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে আসবে।’ শ্বাসকষ্ট হলে
যদি কোন রকমের শ্বাসকষ্ট থাকে এবং আপনি ঢাকায় থাকেন তা হলে আপনি কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে চলে যাবেন। তারা আপনাকে সেখানে ভর্তি করে আমাদের খবর দেবে। এবং আমরা গিয়ে নমুনা নিয়ে আসবো। আপনার এখানে সেখানে হাসপাতালে দৌড়াদৌড়ি করার একদমই প্রয়োজন নেই। তিনি জানান, সারাবিশ্বেই দেখা যাচ্ছে করোনাভাইরাসের উপসর্গের মধ্যে রয়েছে জ্বর, শুকনো কাশি এবং দুর্বলতা। সুনির্দিষ্টভাবে এই তিনটি লক্ষণ যদি থাকে তাহলে আপনারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। আমরা আপনাদের পরামর্শ দেব। দরকার হলে নমুনা সংগ্রহ করব। তিনি জানান, কেউ যদি মনে করেন যে তার ইনফ্লুয়েঞ্জার ওষুধ লাগবে, আইইডিসিআরে এলে তাকে তার ওষুধ বিনা পয়সাতেই দেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

স্বাস্থসেবা বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ