বুধবার-১লা এপ্রিল, ২০২০ ইং-১৮ই চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: দুপুর ২:২৭, English Version
মশার গান আর শুনতে চাই না : মেয়রদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী কোভিড-১৯ (করোনা ভাইরাস) সংক্রান্ত সর্বশেষ প্রতিবেদন গাইবান্ধায় শ্রমজীবী মানুষ গুলো ব্যাপকভাবে বিপাকে সাধারণ ছুটি ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ল চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে খাবার তুলে দিলেন লেনিন প্রামাণিক চাঁপাইনবাবগঞ্জে সাবেক এমপি আব্দুল ওদুদের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ পার্বতীপুরের পত্রিকা বিক্রেতাদের হাতে তুলেন দিলেন খাদ্য সামগ্রী- উপজেলা সমাজসেবা অফিসার

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবসে প্রধানমন্ত্রীর বাণী

প্রকাশ: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২০ , ৬:০৫ অপরাহ্ণ , বিভাগ : জাতীয়,

এমএন২৪.কম ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন:
“স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ‘মুজিববর্ষ’ উপলক্ষে আমি বাংলাদেশের সকল নাগরিক এবং প্রবাসী বাংলাদেশিসহ বিশ্ববাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।
জাতির পিতার জীবন ও কর্ম আপামর জনসাধারণের কাছে তুলে ধরতে মার্চ ২০২০ থেকে মার্চ ২০২১ সময়কে ‘মুজিববর্ষ’ ঘোষণা করা হয়েছে। ১৭ মার্চ ২০২০ বর্ণাঢ্য উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের জন্মশতবার্ষিকী উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানমালা শুরু হবে। বাংলাদেশের পাশাপাশি ইউনেস্কোর উদ্যোগে বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে ‘মুজিববর্ষ’।
আমি জাতির পিতার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। শ্রদ্ধা জানাচ্ছি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট-এর সকল শহীদদের।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ তৎকালীন ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাল্যকাল থেকেই তিনি ছিলেন নির্ভীক, অমিত সাহসী এবং মানবদরদী। ছিলেন রাজনীতি ও অধিকার সচেতন। প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন এই বিশ্বনেতার সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের মূল লক্ষ্য ছিল বাঙালি জাতিকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করা; ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও অশিক্ষার অন্ধকার থেকে মুক্ত করে উন্নত জীবন নিশ্চিত করা।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক কিংবদন্তীর নাম। ছাত্র অবস্থায় কলকাতায় ইসলামিয়া কলেজে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সক্রিয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ ও ১৯৪৬ সালে কলকাতায় দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়লে তরুণ শেখ মুজিব সহপাঠী-সহকর্মীদের নিয়ে জীবনবাজি রেখে উপদ্রুত এলাকায় আর্তমানবতার সেবায় আত্মনিয়োগ করেন। দেশ-বিভাগের পর কলকাতা থেকে ফিরে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সদ্য স্বাধীন পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর পূর্ব বাংলার প্রতি বিমাতাসূলভ আচরণ তাঁকে আহত করে।
এরমধ্যেই আসে মাতৃভাষার ওপর আঘাত। বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে এগিয়ে আসেন বঙ্গবন্ধু। ১৯৪৮ সালে তাঁর প্রস্তাবে ছাত্রলীগ, তমদ্দুন মজলিশ ও অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত হয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ। ১৯৪৮ সালে ১১ মার্চ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতির দাবিতে সাধারণ ধর্মঘট পালনকালে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়। ১৯৪৮ থেকে ১৯৪৯ পর্যন্ত তিনবার কারাবন্দি হন। ১৯৪৯ থেকে একটানা ১৯৫২ সাল পর্যন্ত বন্দি থাকেন। কখনো জেলে থেকে কখনও বা জেলের বাইরে থেকে জাতির পিতা ভাষা আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির বিয়োগান্তক ঘটনার সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব অন্তরীণ অবস্থায় অনশন করেন।

ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ’৫৪-র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ’৫৮-র আইয়ুব খানের সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন, ’৬২-র শিক্ষা কমিশন বিরোধী আন্দোলন, ’৬৬-র ছয়দফা, ’৬৮-র আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ’৭০-এর নির্বাচন এবং ’৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবিসংবাদিত নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। বঙ্গবন্ধুর সম্মোহনী ব্যক্তিত্ব ও ঐন্দ্রজালিক নেতৃত্ব সমগ্র মুক্তিযুদ্ধ জাতিকে একসূত্রে গ্রথিত করেছিল। যার ফলে আমরা পেয়েছি স্বাধীন, সার্বভৌম বাংলাদেশ। বিকাশ ঘটেছে বাঙালি জাতিসত্তার। জাতির পিতা শুধু বাঙালি জাতিরই নয়, তিনি ছিলেন বিশ্বের সকল নিপীড়িত-শোষিত-বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায় ও মুক্তির অগ্রনায়ক।
গণমানুষের অধিকার আদায়ের জন্য বিভিন্ন মেয়াদে ব্রিটিশ ও পাকিস্তানের কারাগারে বঙ্গবন্ধুর কেটেছে অন্তত ৩০৫৩ দিন। বলা যায় কারগার ছিল তাঁর দ্বিতীয় আবাসস্থল। তিনি রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগকে সুসংহত করে গড়ে তুলতে ১৯৫৭ সালে স্বেচ্ছায় মন্ত্রিত্ব ত্যাগ করেন। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ ইউনেসস্কো বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত করেছে। বিশ্ব শান্তিতে অনবদ্য অবদান রাখায় জাতির পিতা ১৯৭৩ সালে ‘জুলিও কুরি’ পদকে ভূষিত হন।
জাতির পিতার বিচক্ষণ নেতৃত্বে স্বাধীনতার মাত্র তিন মাসের মধ্যে ভারতীয় মিত্র বাহিনী স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করে। ১২৬টি রাষ্ট্র স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। তিনি তদানীন্তন বিশ্ব বাস্তবতার চেয়েও অগ্রবর্তী থেকে সমুদ্রসীমা আইনসহ রাষ্ট্রপরিচালনায় নানা আইন প্রণয়ন ও অধ্যাদেশ জারি করেন। তাঁর নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে মাত্র ১০ মাসে প্রণীত হয় একটি অসাম্প্রদায়িক, সমঅধিকার, সমুন্নতকারী-সংস্কারমুক্ত সংবিধান। সদ্য স্বাধীন দেশে জনবান্ধব ও ভারসাম্যমূলক প্রশাসন, যুদ্ধে ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামো সচলকরণ, নির্যাতিত মা-বোন ও শরণার্থী পুনর্বাসন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, পাকিস্তান থেকে বাঙালিদের ফেরত আনা, রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠানকে পাকিস্তানি বাহিনীর দোসরদের রাহুমুক্ত করে পুনর্গঠন ইত্যাদি প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো তিনি দৃঢ়ভাবে মোকাবিলা করেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকাজ শুরু করেন। ভারতের সাথে স্থল সীমানা সমস্যা সমাধানে সীমান্ত চুক্তি করেন। পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন। প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশে উন্নীত হয়। মাত্র সাড়ে ৩ বছরে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে তিনি স্বল্পোন্নত দেশের কাতারে সামিল করেন। বিশ্বের সকল রাষ্ট্রের সাথে সুসস্পর্ক বজায় রাখতে ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়’-এই পররাষ্ট্রনীতি অবলম্বন করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বাংলাদেশকে জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ, ওআইসি, জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা-সহ অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্যপদে অন্তর্ভুক্ত করে বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেন।
সকল প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে বঙ্গবন্ধু যখন ‘সোনার বাংলা’ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই স্বাধীনতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধী চক্র ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে পরিবারের সদস্যসহ নৃশংসভাবে হত্যা করে। ইতিহাসের এই জঘন্যতম হত্যাকাণ্ডের যেন বিচার না হয় সেজন্য প্রণীত হয় দায়মুক্তির কালাকানুন-ইনডেমনিটি অর্ডিনেন্স। দীর্ঘ ২১ বছর পর জনগণের রায়ে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে এই কালাকানুন বাতিল করার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার কার্যক্রম শুরু করে। এ হত্যাকাণ্ডের বিচারের রায় কার্যকরের মধ্য দিয়ে জাতি কলঙ্কমুক্ত হয়।

২০০৯ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে সরকার গঠন করে মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে। শিশু ও মাতৃ-মৃত্যুর হার কমেছে, গড় আয়ু বেড়ে ৭৩ বছরে পৌঁছেছে। প্রবৃদ্ধি, শিক্ষার হার বেড়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছি। যুবসমাজের হাতে অস্ত্রের পরিবর্তে কম্পিউটার ও প্রযুক্তি তুলে দেওয়া হয়েছে। নারী শিক্ষার ব্যাপক প্রসার ঘটেছে, হয়েছে নারীর ক্ষমতায়ন। আমরা মাদ্রাসা শিক্ষা আধুনিক ও কর্মমুখী করেছি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলমান রয়েছে এবং ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি রায় কার্যকর হয়েছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত করেছি। জঙ্গিবাদ ও হরতালের অবসান ঘটিয়ে দেশকে স্থিতিশীল রাখতে সক্ষম হয়েছি। ভারতের সাথে দীর্ঘ প্রতিক্ষিত সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন করেছি। ভারত ও মায়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করেছি। গ্রামকে শহরে রূপান্তর করা হচ্ছে। ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল, ২৮টির অধিক হাই-টেক পার্ক, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২, গভীর সমুদ্রবন্দর, পদ্মাসেতু, এলএনজি টার্মিনাল, এক্সপ্রেসওয়ে, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা আজ আত্মমর্যাদাশীল দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উচু করে দাঁড়িয়েছি।
রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ এবং ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আসুন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে আমরা দৃঢ় সংকল্পে আবদ্ধ হই- বাংলাদেশকে আমরা বিশ্ব সভায় আরো উচ্চাসনে নিয়ে যাব; আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ-শান্তিপূর্ণ আবাসভূমিতে পরিণত করবো।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”      পি আই ডি

আপনার মতামত লিখুন

জাতীয় বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ