সোমবার-৩০শে মার্চ, ২০২০ ইং-১৬ই চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ১২:৩৮, English Version
উমাদিনী ত্রিপুরার মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক ডোমার পৌর শহরে চলছে জীবাণু নাশক ছিটানো কার্যক্রম। লালপুরে দুস্থদের মাঝে নিজ উদ্যোগে খাবার সামগ্রী বিতরণ পার্বতীপুরে করোনা ঠেকাতে আদা, লং, কালিজিরার চা খাওয়ার গুজব! চাঁপাইনবাবগঞ্জে খেটে খাওয়া গরীব দুঃখি মানুষের মাঝে চাল বিতরণ শুরু ‘করোনা চিকিৎসায় ২৫০ ভেন্টিলেটর প্রস্তুত’ সংবাদপত্র সংক্রান্ত সকল ধরনের কাজ পরিচালনায় কোনো বাধা নেই

মহান আল্লাহর সত্তাবাচক গুণাবলি

প্রকাশ: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২০ , ১:০৫ অপরাহ্ণ , বিভাগ : ধর্ম,

এমএন২৪.কম ডেস্ক :  আল্লাহর সত্তা অসীম। আমাদের জ্ঞান সসীম। এই সসীম জ্ঞানের মাধ্যমে অসীম প্রভুর সত্তা সম্পর্কে যথাযথ পরিচয় লাভ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই তিনি কোরআনের বহু আয়াতে নিজের গুণবাচক পরিচয় তুলে ধরেছেন। মহান আল্লাহর অনেক গুণাবলি রয়েছে। ইমাম আবু মানসুর আল মাতুরিদি (রহ.)-এর মতে আল্লাহর সত্তাসূচক গুণ আটটি। যথা—হায়াত, ইলম, ইচ্ছা, কুদরত, শ্রবণ, দৃষ্টি, কালাম ও তাকভিন।

ম হায়াত বা জীবন : হায়াত আল্লাহর একটি গুণ। যার অর্থ—চিরন্তন, চিরঞ্জীব। তিনি সব সময় আছেন ও থাকবেন। তাঁর অস্তিত্ব অবশ্যম্ভাবী। তিনিই সবাইকে জীবন দান করেন।

ম ইলম বা জ্ঞান : আল্লাহ সর্বজ্ঞানী। সর্ববিষয়ে তাঁর জ্ঞান সমভাবে পরিব্যাপ্ত। তাঁর কাছে অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের কোনো পার্থক্য নেই। তাঁর জ্ঞানে ত্রুটি-বিচ্যুতির কোনো সম্ভাবনা নেই। প্রকাশ্য বা গোপন, অতীত বা ভবিষ্যত্, ইহকাল বা পরকাল সব কিছুই তাঁর কাছে সমান। কোনো কিছুই তাঁর অগোচরে নেই। তাঁর জ্ঞান চিরন্তন ও বাসিত (অবিভাজ্য)। তিনি গোটা সৃষ্টির প্রতি সর্বদা নজর রাখেন। জমিনের বুকে বিশাল মরুভূমিতে যত বালুকণা রয়েছে, সাগর-মহাসাগরে পানির যত বিন্দু রয়েছে, বন-বনানীর গাছ-গাছালিতে যত ডালপালা রয়েছে, প্রতিটি ডালে যতটি ছড়া রয়েছে এবং প্রতিটি ছড়ায় যত শস্যদানা রয়েছে, মানুষের মাথায় ও পশুর চামড়ায় যত পশম রয়েছে—সব কিছুই আল্লাহর ইলমে বিদ্যমান। সৃষ্টি জগতের প্রতিপালনে যখন যার যা কিছু প্রয়োজন—সবই তাঁর অসীম জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা তোমাদের কথা গোপনেই বলো অথবা প্রকাশ্যে বলো, তিনি তো অন্তর্যামী। যিনি সৃষ্টি করেছেন তিনি কি জানেন না? তিনি সূক্ষ্মদর্শী, সম্যক অবগত।’ (সুরা : মুলক, আয়াত : ১৩-১৪)

তিনিই গায়েব সম্পর্কে অবগত। গায়েবের ইলম কোনো মানুষের নেই। নবী-রাসুলদের তিনি যতটুকু জানিয়েছিলেন তাঁরা ততটুকুই জানতে পেরেছিলেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘তাঁর কাছেই রয়েছে অদৃশ্য জগতের চাবিসমূহ, এগুলো তিনি ছাড়া কেউ জানে না। স্থলে ও জলে যা আছে, তিনিই জানেন। কোন পাতা ঝরে না; কিন্তু তিনি তা জানেন। মৃত্তিকার অন্ধকারে কোন শস্যকণা অঙ্কুরিত হয় না এবং ভিজা কিংবা শুকনো কোনো বস্তু পতিত হয় না; কিন্তু তা সব প্রকাশ্য গ্রন্থে রয়েছে।’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ৫৯)

ম ইচ্ছা বা সংকল্প : এ বিশাল পৃথিবী আল্লাহ স্বীয় ইচ্ছায় সৃষ্টি করেছেন। যখন যা সৃষ্টি করতে চেয়েছেন, সৃষ্টি করেছেন। তিনি কারো বাধ্য নন। রংবেরঙের বিভিন্ন জিনিস যা আসমান-জমিনে দেখা যায় এগুলো তাঁর ইচ্ছারই বহিঃপ্রকাশ। সূর্য ও তারকারাজি লক্ষ-কোটি বছর ধরে আলো বিকিরণ করে যাচ্ছে—এ তাঁরই ইচ্ছার প্রতিফলন। যত সৃষ্ট বস্তু রয়েছে এগুলোর গতি, প্রকৃতি, বৈশিষ্ট্য, অবস্থা সব কিছুই তাঁর ইচ্ছায় নির্ধারিত হয়। তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা দান করেন। যাকে ইচ্ছা ক্ষমতাচ্যুত করেন। তিনি যা চান এবং যেভাবে চান, তা-ই হয়। তাঁর ইচ্ছার বাইরে কোনো কিছুই হয় না। ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক তা-ই করেন, যা তিনি ইচ্ছা করেন।’ (সুরা : হুদ, আয়াত : ১০৭)

তাঁর ইচ্ছায় একই বস্তু থেকে ভিন্ন স্বাদের একাধিক বস্তু জন্মায়। একই স্থানে উত্পাদিত ফসলের বৈশিষ্ট্য এবং গুণাবলির মধ্যেও যথেষ্ট পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। ইমাম শাফেঈ (রহ.) বলেন, মৌমাছি তুঁতগাছের পাতা খেলে তা মধুতে পরিণত হয়। গুটিপোকা সে গাছের পাতা খেলে তা রেশমে পরিণত হয়। অন্য পশুপাখি খেলে তা বিষ্ঠায় পরিণত হয়। আর হরিণে খেলে তা মিশেক পরিণত হয়। অথচ বৃক্ষ একটিই। (তাফসিরে ইবনে কাসির)

ম কুদরত বা শক্তি : এ বিশ্ব, এর গতি ও স্থিতি সবই আল্লাহ তাআলার অসীম কুদরত। বস্তুর মধ্যে যে শক্তি নিহিত রয়েছে, তার উত্স বস্তু নয়; বরং আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কুদরত। মাটি ভেদ করে চারাগাছ বের হয়ে আসে এবং ধীরে ধীরে তা বড় হয়ে থাকে। অবশেষে তা শক্তিশালী হয়ে নিজ মেরুদণ্ডের ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে সক্ষম হয়—এটিও আল্লাহর কুদরতের বিরাট নিদর্শন। মানুষের হূদয়ে যে স্পন্দন হয়, শিরা-উপশিরায় যে রক্ত প্রবাহিত হয় এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে যে অনুভূতি সৃষ্টি হয়—এ সবই আল্লাহর কুদরতে হয়।

ম শ্রবণশক্তি : মানুষ যে কথাবার্তা বলে, আলোচনা করে, তিনি তা শোনেন। একজনের কথা শুনতে গিয়ে অন্যজনের কথা থেকে বেখবর থাকেন না। কোথাও কোনো গোপন পরামর্শ হলে তাও তিনি শুনতে পান। যে ভাষায়ই কথা বলা হোক না কেন, তিনি সব শোনেন ও বোঝেন। এমনকি গহিন সমুদ্রের তলদেশে বসেও যদি কেউ কথা বলে, তাও তিনি শুনতে পান। ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ সব কিছু শোনেন, সব কিছু দেখেন।’ (সুরা : মুজাদালা, আয়াত : ১)

ম দৃষ্টিশক্তি : মহান রাব্বুল আলামিন সম্যক দ্রষ্টাও। সৃষ্টির সব কিছুই তিনি দেখেন। সব সৃষ্টি তাঁর দৃষ্টির অধীন। এমন কোনো বস্তু নেই যা তাঁর দৃষ্টির অগোচরে। তাঁর দৃষ্টিশক্তি কোনো উপকরণের মুখাপেক্ষী নয়। যত গভীর অন্ধকারই হোক না কেন, সেখানেও তাঁর দৃষ্টি পৌঁছে যায়। ইরশাদ হয়েছে, ‘তিনি কত সুন্দর দ্রষ্টা ও শ্রোতা।’ (সুরা : কাহ্ফ, আয়াত : ২৬)

ম কালাম : এ বিশ্ব ব্যবস্থাপনায় সৃষ্টিকুলের পরিচালনার জন্য আল্লাহ আদেশ-নিষেধ, হুকুম-আহকাম জারি করেছেন। এর সব কিছু কালামের মাধ্যমেই হয়েছে। পবিত্র কোরআন আল্লাহর কালাম। তা মাখলুক নয়; বরং কাদিম বা চিরন্তন। আল্লাহর কালাম অসীম যেমন তাঁর সত্তা অসীম। তাঁর কালামের কোনো শেষ নেই। ইরশাদ হয়েছে, ‘পৃথিবীর সব বৃক্ষ যদি কলম হয় এবং সমুদ্র হয় কালি এবং এর সঙ্গে আরো সাত সমুদ্র যুক্ত হয়, তবুও আল্লাহর বাণী নিঃশেষ হবে না। আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।’ (সুরা : লুকমান, আয়াত : ২৭) অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, ‘বলুন, আমার প্রতিপালকের কথা লিপিবদ্ধ করার জন্য সমুদ্র যদি কালি হয় তবে আমার প্রতিপালকের কথা শেষ হওয়ার আগেই সমুদ্র নিঃশেষ হয়ে যাবে, আর এর সাহায্যার্থে অনুরূপ আরো সমুদ্র আনলেও।’ (সুরা : কাহফ, আয়াত : ১০৯)

ম তাকভিন বা সৃষ্টিকরণ : আসমান-জমিন, আরশ-কুরসি, লৌহ-কলম, জীবজন্তু, বৃক্ষতলা সব কিছুই আল্লাহর সৃষ্টি। দৃশ-অদৃশ্য সব কিছুর স্রষ্টা তিনিই। আমাদের কর্মের স্রষ্টাও তিনি। ইরশাদ হয়েছে, ‘প্রকৃতপক্ষে আল্লাহই সৃষ্টি করেছেন তোমাদের এবং তোমরা যা তৈরি করো তাও।’ (সুরা : সাফফাত, আয়াত : ৯৬)

সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে তাঁর কোনো নমুনার প্রয়োজন হয় না। সমগ্র সৃষ্টি জগেক ধ্বংস করে তিনি আবার তা সৃষ্টি করতে সক্ষম। ইরশাদ হয়েছে, ‘যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি তাদের অনুরূপ সৃষ্টি করতে সক্ষম নন? হ্যাঁ, নিশ্চয়ই তিনি মহাস্রষ্টা, সর্বজ্ঞ। তাঁর ব্যাপার শুধু এই—তিনি যখন কিছু সৃষ্টি করার ইচ্ছা করেন তখন তিনি বলেন, হও; ফলে তা হয়ে যায়।’ (সুরা : ইয়াসিন, আয়াত : ৮১-৮২)

আল্লাহ তাআলার ‘সত্তাবাচক’ এসব গুণ ব্যতীত তাঁর অনেক ‘সিফাতবাচক’ গুণও রয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘একেক মুহূর্তে তিনি একেক শানে থাকেন।’ (সুরা : আর রাহমান, আয়াত : ২৯)

তাঁর শান যেমন অসংখ্য ও অগণিত, অনুরূপ তাঁর সিফাতও অসংখ্য ও অগণিত। হাদিস শরিফে আল্লাহর গুণবাচক ৯৯ নামের উল্লেখ পাওয়া যায়। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর ৯৯টি নাম রয়েছে, যে ব্যক্তি এগুলো মুখস্থ করে রাখবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (বুখারি, হাদিস : ৭৩৯২)

মহান আল্লাহ আমাদের তাঁর ব্যাপারে যথাযথ বিশ্বাস রাখার তাওফিক দান করুন।

লেখক : মুহাদ্দিস, জামিয়া আম্বরশাহ আল ইসলামিয়া, কারওয়ান বাজার, ঢাকা

আপনার মতামত লিখুন

ধর্ম বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ