রবিবার-৫ই এপ্রিল, ২০২০ ইং-২২শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: সকাল ৯:০৩, English Version
করোনায় চীনে মারা গেছে ৫০ হাজার মানুষ: ওয়াশিংটন পোস্ট যাত্রীবাহী লঞ্চে হচ্ছে আইসোলেশন সেন্টার করোনা প্রতিরোধে বাংলাদেশকে ১০ কোটি ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে ছড়াতে পারে করোনাভাইরাস করোনাভাইরাস : কাদের মাস্ক ব্যবহার করতে হবে আর কাদের নয় চাঁপাইনবাবগঞ্জে গরীব দুঃখি মানুষের মাঝে আর্থিক সহায়তা করলেন এমপি জেসী করোনা মোকাবেলায় কাল কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী

নিজ বিশ্ববিদ্যালয়েই চাকরি পেলেন সেই হাফিজুর

প্রকাশ: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২০ , ৪:৪৩ অপরাহ্ণ , বিভাগ : চাকুরীর খবর,
এমএন২৪.কম ডেস্ক : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক থেকে কয়েক পা এগোতেই দেখা মিলতো বিশ্ববিদ্যালয়টির লোগো সম্বলিত টি-শার্ট, ব্যাগ ও ব্যাচের দোকান। সকল প্রতিবন্ধকতাকে উপেক্ষা করে এই দোকানটি পরিচালনা করতেন অদম্য হাফিজুর রহমান। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অষ্টম ব্যাচের (মাস্টার্স ১৬-১৭) শিক্ষার্থী।

বর্তমানে তিনি ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের অফিস সেক্রেটারি কাম কম্পিউটার অপারেটরে চাকরি করছেন। জন্ম থেকেই বিকলাঙ্গ ছিলেন হাফিজুর রহমান। হাত-পা’ই শুধু বিকলাঙ্গ নয়, দারিদ্রতার মতো প্রতিবন্ধকতাও ছিলো তার সঙ্গী। লিখতেন মুখ দিয়ে। শিক্ষার হাতেখড়ি বাবার হাত ধরেই।

বাড়ি থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে ব্র্যাক স্কুলে শুরু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন। সে সময় বেয়ারিংয়ের গাড়িতে করে সহপাঠীরা স্কুলে নিয়ে যেত তাকে। এভাবেই স্কুলে যাওয়া-আসার মধ্যে ২০০৯ সালে মানবিক বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৪.১৯ পান তিনি। হয়ে ওঠেন জ্ঞানপিপাসু হাফিজুর। তারপর ধুনট ডিগ্রি কলেজ থেকে ২০১১ সালে এইচএসসিতে জিপিএ ৩.৬০ পান তিনি।

অন্যের সাহায্য ছাড়া এই ছেলেটি এক স্থান থেকে অন্য স্থানেই যেতে পারে না। সেই ছেলে মুখে কলম ধরেই সম্মানের সাথে অতিক্রম করেছে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। শত সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাস করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হাফিজুর রহমান।

গ্র্যাজুয়েশনের পরে হাফিজের ইচ্ছে ছিল জবি প্রশাসন যেন তাকে একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দেয়। অবশেষে হাফিজুর রহমানের মনের আশা পূর্ণ হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১ ফেব্রুয়ারি তিনি যোগদান করছেন চাকরিতে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে দৈনিক মজুরিতে অস্থায়ী চাকরি দিয়েছে।

চাকরি পাওয়ার পর হাফিজুর রহমান বলেন, দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর আমার এতদূর আসা। আমি পড়াশোনা করেছি। বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ আমার সার্বিক দিক বিবেচনা করে আমাকে একটি চাকরি দিয়েছে। আমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।

প্রতিবন্ধিদের প্রতি সমাজের সকলের দায়িত্ব ও কর্তব্য নিয়ে হাফিজুর বলেন, সমাজের বা রাষ্ট্রের বড় বড় মানুষেরা আমাদের মতো মানুষের পাশে এগিয়ে আসুক। সমাজের সকল আবিষ্কার মানুষের প্রয়োজনে। তেমনি মানুষ মানুষের প্রয়োজনে এগিয়ে আসুক। জন্মগত বা যারা বিভিন্ন কারণে প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়, তাদের পাশে আসা প্রয়োজন। এতে মানুষ প্রতিবন্ধকতা কাটিতে তুলতে পারবে ও সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারবে।

হাফিজুর রহমান ১৯৯৩ সালে বগুড়ার ধুনট উপজেলার বেলকুচি গ্রামের এক দরিদ্র কৃষক পরিবারে জন্ম নেন। বাবা পক্ষাঘাতের রোগী মো. মফিজ উদ্দিন পেশায় সাধারণ কৃষক, মা ফিরোজা বেগম গৃহিণী।

আপনার মতামত লিখুন

চাকুরীর খবর বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ