শুক্রবার-১০ই এপ্রিল, ২০২০ ইং-২৭শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ২:৫৬, English Version
যে কারণে দেশে ফেরার ঝুঁকি নেন খুনি মাজেদ করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে মাথা ন্যাড়া করার হিড়িক! ৯বছরের শিশুকে ধর্ষনে অভিযোগে রক্তাক্ত অবস্থায় থানায় মায়ের আহাজারি করোনা ভাইরাস এর কারনে পার্বতীপুরের কাচা বাজার কয়েকটি মাঠে বসার প্রস্তাব। সৈয়দপুরে এক যুবক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হাকিমপুরে অসহায় ও দরিদ্রদের মাঝে আটা বিতরণ পবিত্র শবে বরাতে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

ফুলবাড়ীতে মুজিববর্ষে ঐতিহাসিক ইয়ুথ ক্যাম্পের স্মৃতিচারণ

প্রকাশ: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২০ , ৪:৪৮ অপরাহ্ণ , বিভাগ : রংপুর,সারাদেশ,

 

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা :
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধের সময় ঐতিহাসিক ইয়ুথ ক্যাম্পের স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকালে নাওডাঙ্গা ডিএস দাখিল মাদ্রাসা চত্বরে এ স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ফুলবাড়ী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী সরকার। মাদ্রাসা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রেজাউল ইসলাম বন্ধনের সভাপতিত্বে ইয়ুথ ক্যাম্পের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি আমির আলী মিয়া, সদস্য মনছুর আলী, সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মজিবর রহমান, মাদ্রাসা সুপার ওমর আলী খান বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা জানান, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ফুলবাড়ী উপজেলা ছিল মুক্তাঞ্চল। সেই সময় মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ও অবস্থানের জন্য নাওডাঙ্গা ফোরকানিয়া মাদরাসায় অস্থায়ীভাবে ইয়ুথ ক্যাম্প গঠিত হয় । মহান মুক্তিযুদ্ধে ঐতিহাসিক এ ক্যাম্পটি অগ্রণি ভূমিকা রাখে।
বীরপ্রতীক বদরুজ্জামান মিয়ার নেতৃত্বে ৬ নম্বর সেক্টরে সহ-অধিনায়ক ক্যাপ্টেন নওয়াজেস উদ্দিন, এ্যাডভোকেট আহম্মদ আলী সরকার, সামসুল হক চৌধুরী-এমপিএ,আবুল হোসেন-এমপিএ এবং ভারতের গিদালদহ সেক্টরের সাব সেক্টর কমান্ডার ক্যাপ্টেন দেলোয়ার হোসেনকে নিয়ে সাত সদস্যের একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়। ইয়ুথ ক্যাম্প ইনচার্জ ছিলেন জয়নাল আবেদীন। সদস্য ছিলেন আমির আলী মিয়া, মজিবুর রহমান, নুরনবী সরকার, আমজাদ হোসেন, জামাল উদ্দিন, মনসুর আলী। তৎকালীন ইপিআর নায়েক আলী আহম্মদ, ল্যান্স নায়েক নোয়াব আলী, আনসার কমান্ডার পনির উদ্দিন, ইন্সট্রাক্টর স্কাউট সদস্য সামসুদ্দোহার নেতৃত্বে গঠিত হয় মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষণ শিবির। এই ইয়ুথ ক্যাম্প হতে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল শতশত মুক্তিযোদ্ধা।
তারা আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ইয়ুথ ক্যাম্প পরিদর্শনে আসেন, তৎকালীন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের খাদ্য মন্ত্রী ড. ত্রিগুনা সেনগুপ্ত, পশ্চিম বাংলার কৃষি মন্ত্রী কমল গুহ। এছাড়াও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা তাজুল ইসলাম, মার্শাল মণি, আ.কুদ্দুস, ইসাহাক আলী, আবুল হোসেন, আব্দুর রউফসহ মুজিব নগর সরকারের সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তাগণ এ ইয়ুথ ক্যাম্প পরিদর্শন করেছিলেন। ৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীনের পর ১৮ ডিস্মেবর এই ইয়ুথ ক্যাম্পের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। স্বাধীনতার ৪৯ বছর পেরিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত এই ঐতিহাসিক ইয়ুথ ক্যাম্পের কেউ খোঁজ রাখেনি। ইয়ুথ ক্যাম্পের অবকাঠামো উন্নয়নসহ স্মৃতিরক্ষার দাবী জানান বক্তারা।

আপনার মতামত লিখুন

রংপুর,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ