মঙ্গলবার-৩১শে মার্চ, ২০২০ ইং-১৭ই চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: বিকাল ৪:২১, English Version
সাধারণ ছুটি ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ল চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে খাবার তুলে দিলেন লেনিন প্রামাণিক চাঁপাইনবাবগঞ্জে সাবেক এমপি আব্দুল ওদুদের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ পার্বতীপুরের পত্রিকা বিক্রেতাদের হাতে তুলেন দিলেন খাদ্য সামগ্রী- উপজেলা সমাজসেবা অফিসার পলাশবাড়ীতে পৌরসভার উদ্যোগে জিবানুনাশক স্প্রে কার্যক্রম শিবগঞ্জেমৃত ব্যক্তির করোনা ভাইরাস ছিলনা ১৫ বাড়ী লক ডাউন প্রত্যাহার পলাশবাড়ীতে কর্মহীন ভাসমান বেদে পরিবারের মানবেতর জীবনযাপন

নাটোরে জীবিত হয়েও সরকারি খাতায় পাঁচ বছর থেকে মৃত সামাদ!

প্রকাশ: রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২০ , ১২:৩৭ অপরাহ্ণ , বিভাগ : নাটোর,সারাদেশ,

নাটোর সংবাদদাতা :
জীবিত থেকেও সরকারী খাতায় পাঁচ বছর যাবত মৃত হয়ে আছেন আব্দুস সামাদ নামের এক ব্যক্তি। ঘটনাটি ঘটেছে নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলায়। সামাদ বাগাতিপাড়া পৌর এলাকার লক্ষণহাটি মহল্লার এলবাস আলীর ছেলে। সরকারী জাতীয় পরিচয় পত্র হিসেবে আব্দুস সামাদ মৃত হলেও বাস্তবে সুস্থ, স্বাভাবিক, কাজকর্মে উজ্জীবিত একজন কৃষক আব্দুস সামাদ।
সামাদ সরকারী খাতায় নিজেকে মৃত থেকে জীবিত করতে গত ৫ বছর থেকে স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং উপজেলা চেয়ারম্যানদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন তিনি।বিভিন্ন দফতরে লিখিত আবেদনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদের মৌখিক অনুরোধ জানানোর পরেও সরকারি খাতায় আজও তিনি জীবিত হতে পারেননি! দেশের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে বিগত দুইটি নির্বাচনে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতেও ব্যার্থ হন তিনি।
এদিকে আব্দুস সামাদ নিজেকে মৃত থেকে জীবিত করতে বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার নিকট গেলে তিনি খুব অল্প সময়ে এটি সংশোধনের আশ্বাস দিলেও তা কোন কাজে আসেনি। গত শুক্রবার বিকেলে বাগাতিপাড়া উপজেলার শত শত মানুষ স্মার্ট কার্ড হাতে পেলেও দীর্ঘক্ষণ লাইনে অপেক্ষা করে স্মার্ট কার্ড না পেয়ে ফিরে যেতে হয় তাকে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুক্তভুগী আবদুস সামাদ বলেন,‘২০০৮ সালে তিনি জাতীয় পরিচয় পত্র হাতে পান। এতে গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের আগের নির্বাচনে ভোট দিতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, সরকারি নির্বাচনী তালিকায় তাকে মৃত দেখানো হয়েছে। এ কারণে ভোট দিতে পারেননি তিনি। পরে উপজেলা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হলেও সরকারি ওই নির্বাচনী তালিকায় তিনি নিজেকে জীবিত হিসেবে নাম তোলাতে পারেননি।
সর্বশেষ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে আবেদন করেছেন। এসময় তাকে বলা হয়েছে শর্ট টাইমেই তিনি সংশোধিত তালিকায় নাম দেখতে পারবেন। কিন্তু গত শুক্রবার বিকেলে স্মার্ট কার্ড আনতে গিয়ে একই রকম ভোগান্তিতে পড়েন তিনি। বিষয়টি সম্পর্কে যোগাযোগ করা হলে বাগাতিপাড়া পৌরসভার প্যানেল মেয়র ইউসুফ বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আব্দুস সামাদ তার ওয়ার্ডের ভোটার। প্রায় এক বছর আগে বিষয়টি জানার পর বহুভাবে চেষ্টা করেছেন। কিন্তু আজও আব্দুস সামাদের বিষয়টি সমাধান না হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।’
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, প্রায় তিন মাস আগে আব্দুস সামাদ এর লিখিত আবেদন পাওয়ার পর তিনি ঢাকায় পাঠিয়েছেন। ঢাকা থেকে সংশোধনী আসলে তিনি সামাদকে নিশ্চিত করতে পারবেন।’
এব্যাপারে বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রিয়াংকা দেবী পাল জানান,‘ আমি দায়িত্ব নেওয়ার পরে এই ধরেনের কোন অভিযোগ পাইনি, অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।’

আপনার মতামত লিখুন

নাটোর,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ