শুক্রবার-১০ই এপ্রিল, ২০২০ ইং-২৭শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ২:২৭, English Version
যে কারণে দেশে ফেরার ঝুঁকি নেন খুনি মাজেদ করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে মাথা ন্যাড়া করার হিড়িক! ৯বছরের শিশুকে ধর্ষনে অভিযোগে রক্তাক্ত অবস্থায় থানায় মায়ের আহাজারি করোনা ভাইরাস এর কারনে পার্বতীপুরের কাচা বাজার কয়েকটি মাঠে বসার প্রস্তাব। সৈয়দপুরে এক যুবক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হাকিমপুরে অসহায় ও দরিদ্রদের মাঝে আটা বিতরণ পবিত্র শবে বরাতে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

মুজিবর্ষ উদযাপনে সতর্ক সরকার

প্রকাশ: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২০ , ১১:২০ অপরাহ্ণ , বিভাগ : জাতীয়,সারাদেশ,

এমএন২৪.কম ডেস্ক :  হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উদযাপনে মুজিববর্ষ ঘোষণা করেছে সরকার। চলতি বছরের ১৭ মার্চ থেকে শুরু হয়ে আগামী বছরের ২৬ মার্চ পর্যন্ত এটি দেশব্যাপী পালিত হবে।

বঙ্গবন্ধুর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, বিশেষ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রেক্ষাপট তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে স্মরণীয় করতে সরকারিভাবে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে মুজিববর্ষকে কেন্দ্র করে কেউ যাতে ফয়দা লুটতে না পারে সেদিকে সতর্ক রয়েছে সরকার।

বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে গত ১০ জানুয়ারি রাজধানীর তেজগাঁওয়ে পুরাতন বিমানবন্দরে একত্রিত হয়ে ‘মুজিববর্ষ’ উদযাপনের ‘কাউন্টডাউন’ (ক্ষণগণনা) শুরু হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে মুজিব বর্ষের ক্ষণগণনা উদ্বোধন এবং লোগো উন্মোচন করার আগে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সম্পৃক্ত করে বছরব্যাপী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন কার্যক্রম শুরু হবে আগামী ১৭ মার্চ থেকে।

এদিকে মুজিবর্ষ উদযাপনে সতর্ক রয়েছে সরকার। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে মুজিবর্ষ উদযানকে ব্যবহার করে অনৈতিক কার্যকলাপ পরিচালনা করতে না পারে সেদিকে সতর্ক রয়েছে সরকার। শীর্ষ পর্যায় থেকে মুজিববর্ষ নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ১৮ ফেব্রুয়ারি রাতে সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভায় মুজিববর্ষ পালন করতে গিয়ে অতিরঞ্জিত কিছু যেন না হয় সেজন্য সংসদ সদস্যদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি জানি বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর কী অবস্থায় আমাদের চলতে হয়েছে। ওই সময় অনেকের ভূমিকা আমি জানি। তাই মুজিববর্ষের কর্মসূচি পালনের নামে বাড়াবাড়ি করা যাবে না। এ সময় তিনি নিয়মতান্ত্রিককভাবে কর্মসূচি পালনের পরামর্শ দেন।

মুজিব বর্ষ উদযাপন নিয়ে বাড়াবাড়ি না করতে নেতাকর্মীদের আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গত ৩ মার্চ রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত দলের যৌথসভায় তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন, মুজিব বর্ষ উদযাপন করতে হবে বিনয়ের সঙ্গে। এখানে কোনো বাড়াবাড়ি কেউ করতে পারবেন না। মুজিব বর্ষ উদযাপনের নামে কেউ যাতে চাঁদাবাজির দোকান খুলতে না পারে, সেটা সবার খেয়াল রাখতে হবে।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে বছরব্যাপী বর্ণাঢ্য কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। সরকার ও দলীয় স্তরে গণমানুষের অংশগ্রহণের পাশাপাশি দেশে এবং বিদেশে বছরব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবে বাংলাদেশের বিদেশি মিত্ররাও। ২০২১ সালে দেশের স্বাধীনতার স্বর্ণজয়ন্তী উদযাপনের ধারাবাহিকতায় পালিত হবে ‘মুজিববর্ষ’। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উদযাপন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আবদুল মোমেন গণমাধ্যমকে জানান, সরকার বিশ্বজুড়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ছড়িয়ে দিতে চায় এবং বিদেশের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর চেয়ার চালু করা, বঙ্গবন্ধুর নামানুসারে রাস্তার নামকরণসহ ২৬১টি কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের ৭৭টি দূতাবাস।

এছাড়া আমন্ত্রিত বিশ্ব নেতাদের মধ্যে রয়েছেন- ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা- ওআইসি’র মহাসচিব ড. ইউসুফ এ আল-ওথাইমিন, ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জী, ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি সোনিয়া গান্ধী, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান, জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি-মুন, ভুটানের রাজা জিগমেখেসার নামগিয়েল ওয়াংচাক এবং ইউনেস্কোর সাবেক মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা।

আপনার মতামত লিখুন

জাতীয়,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ