সোমবার-৩০শে মার্চ, ২০২০ ইং-১৬ই চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: সন্ধ্যা ৭:৩১, English Version
জলঢাকায় পৌর মেয়র রাবি শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে হ্যান্ড সেনিটাইজার ও মাস্ক বিতরণ ১৯৭১এর বরবরতার স্বাক্ষী দেওয়ার জন্য আমগাছটি এখনো দাঁড়িয়ে! বাড়ি বাড়ি খাবার পৌঁছে দিচ্ছে সেনাবাহিনী গাইবান্ধায় কর্মহীন ভাসমান বেদে সম্প্রদায়ের মাঝে খাদ্য সহায়তা দিলেন পুলিশ সুপার ডোমারে ট্রলিতে করে ভিজিডি চাউল বাড়ীতে পৌছায় দিচ্ছেন চেয়ারম্যান রিমুন। জলঢাকায় পুড়ে যাওয়া অসহায় পরিবারের পাশে ‘এসো নিজে করি’ তাহিরপুরে মাটি বোঝাই হ্যান্ডট্রলি উল্টে মাদ্রাসা ছাত্র নিহত

পার্বতীপুর রেলওয়ে জংশন অরক্ষিত, যাত্রী নিরাপত্তা বিঘ্নিত

প্রকাশ: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২০ , ২:৩০ অপরাহ্ণ , বিভাগ : অর্থনীতি,

এমএন২৪.কম ডেস্ক : দেশের পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের চার লাইনের সংযোগ স্থল দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর রেলওয়ে জংশনটি অরক্ষিত হওয়ায় যাত্রী নিরাপত্তা নিঘ্নিত হচ্ছে। প্রতিদিন বৃহৎ এই রেলওয়ে জংশনের উপর দিয়ে অর্ধ শত যাত্রীবাহী ট্রেনের মাধ্যমে হাজার হাজার যাত্রী  দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাতায়াত করলেও জংশনটি অরক্ষিত হওয়ায় যাত্রী নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়ে পড়েছে। ফলে জংশনে অবস্থানরত সাধারন যাত্রীদের চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে  অবস্থান করতে হচ্ছে।

১৮৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই রেলওয়ে জংশনটির বয়স ১৩০ বছর হলেও আজও জংশনটি অরক্ষিত রয়ে গেছে। জংশনটির পূর্ব পার্শ্বে পার্বতীপুর পৌর ও উপজেলা শহর এবং পশ্চিম পার্শ্বে রেলওয়ে আবাসিক এলাকা। চারিদিকে উন্মূক্ত থাকায় দুই পার্শ্বের বিভিন্ন ধরনের মানুষ অবাধে জংশনের উপর দিয়ে চলাচল করে থাকে। জংশন এলাকায় যাত্রী ও সাধারন  চলাচলরত  লোকজনে একাকার হয়ে যায়।

এরই ফাঁকে যাত্রী ও সাধারন মানুষের মাঝে মিশে থাকা বিভিন্ন ধরনের অপরাধীরা যাত্রী সাধারনের মালামালসহ টাকা-পয়সা, মোবাইল ও মূল্যবান জিনিসপত্র কৌশলে হাতিয়ে নেয়। পকেটমার ও ছিনতাইকারীরাও এ সুযোগ হাতছাড়া করে না। মলম ও অজ্ঞানপাটির সদস্যরা যাত্রী বেসে যাত্রীদের সাথে মিশে সুযোগ বুঝে তাদেরকে অজ্ঞান করে তাদের সাথে থাকা মালামাল নিয়ে সটকে পড়ে। এ ধরনের ঘটনা দীর্ঘদিন থেকে ঘটে আসায় যাত্রী সাধারনের মাঝে আতংক বিরাজ করে থাকে। এছাড়াও টিকেট বিহীন যাত্রী ধরতেও রেল কর্মচারীদের হিমশিম খেতে হয়।

দেশের বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ এই জংশনটি চারিদিকে উন্মূক্ত থাকায় মূলত এ ধরনের ঘটনা অহরহ ঘটছে। কিছুদিন আগে রেলওয়ে জংশনের শহর সংলগ্ন পূর্ব পাশ দিয়ে প্রাচীর নির্মান কাজ শুরু হলেও অজ্ঞাত কারণে কাজটি অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। প্রাচীরের বিভিন্ন স্থান উন্মূক্ত রাখায় প্রাচীরটি মূলত কোন কাজেই আসছে না। জংশনের দুই পারের মানুষ অবাধে জংশনের উপর দিয়ে চলাচল করছে। জংশনে একটি ওভার ব্রিজ থাকলেও সেটি ব্যবহার না করে বেশির ভাগ মানুষই রেল লাইনের উপর দিয়ে চলাচল করছে। রেল লাইনের উপর দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে চলাচল করতে গিয়ে যে কোন মূহুর্তে বড় ধরনের কোন দুর্ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রেলওয়ে জংশনে জনবল সংকটের কারণে বিশেষ করে প্রয়োজনীয় সংখ্যক টিকেট কালেক্টর না থাকায় এবং জংশনটি উন্মূক্ত হওয়ায় বিনা টিকেটে যাত্রীরা সহজেই পাড় পেয়ে যাচ্ছে।

রেলওয়ে ষ্টেশন সূত্র থেকে জানা গেছে, বৃহৎ এই রেলওয়ে জংশনে শুধুমাত্র একজন টিকেট কালেক্টর কর্মরত রয়েছেন। তাছাড়াও ওভার ব্রিজ ব্যবহার না করে অবাধে রেল লাইন পাড়াপাড় বন্ধের জন্য প্রয়োজনীয় কোন উদ্যোগ নেই। জনবল সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখিয়ে মূল ব্যাপারটি পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় ষ্টেশন কর্তৃপক্ষ।

যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করণের জন্যেও তেমন কোন উদ্যোগ গ্রহনের মত পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। জংশনটি এতটাই উন্মূক্ত যে জংশনের উপর দিয়ে অবাধে গরু-ছাগল ও মটরসাইকেল- বাইসাইকেল চলাচল করে থাকে। প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব ঘটনা ঘটলেও এগুলো প্রতিরোধে বাস্তব সম্মত তেমন কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে না। “সবারই ভাবখানা এমন যে, দেখবো শুনবো কিন্তু বলবো না”।

যাত্রী পরিবহনের মাধ্যমে এই রেলওয়ে জংশন থেকে রেলওয়ে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আয় করলেও যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার তেমন কোন পদক্ষেপ গ্রহন করা হচ্ছে না।

আপনার মতামত লিখুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ