বৃহস্পতিবার-২১শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং-৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: দুপুর ১২:১৪, English Version
বাজার অস্থিতিশীলকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে -রমেশ চন্দ্র সেন গোবিন্দগঞ্জে আগ্নিকান্ডে ৩০০ দোকান পুড়ে ছাই পরিবহন ধর্মঘটের প্রভাব পড়েছে হিলি স্থলবন্দরে গোবিন্দগঞ্জে ট্রাকে ঝরল বৃদ্ধের প্রাণ রুদ্ধদ্বার বৈঠক : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাসে সড়কে ধর্মঘট প্রত্যাহার পলাশবাড়ীতে বাস থেকে পড়ে হেলপারের মৃত্যু ক্রেডিট কার্ড: গ্রাহকরা কী করতে পারেন, কী পারেন না

পাঁচবিবিতে সরকারি ৬৩ একর খাস পুকুর অবশেষে দখল মুক্ত সংস্কার করার কাজ শুরু

downloadদবিরুল ইসলাম লিটন পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) থেকেঃ পাঁচবিবি পৌরসভার প্রাণকেন্দ্র বালিঘাটা বাজার মৌজার ৩নং ওয়ার্ডের অভ্যন্তরে মুরগীহাটি সংলগè ৬৩ একর সরকারী খাস পুকুরটি অবশেষে ভূমিদস্য–দের হাত থেকে দখল মুক্ত করে পুনরায় পুকুর সংস্কার করার কাজ শুরু করেছে জয়পুরহাট জেলা ও পাঁচবিবি উপজেলা প্রশাসন। পুকুরটি উদ্ধার হওয়ায় ভীষণ খুশি এলাকাবাসী।
জানা যায়,বালিঘাটা বাজার মৌজার সি.এস খতিয়ান-১,দাগ নং-১০৩ জমির পরিমান ৬৩ একর।পুকুরটি সরকারী খাস স¤পত্তি।ব্রিটিশ আমলে স্থানীয় ২জন ডাক্তার মাত্র ২শত টাকায় প্রায়োগপুর মৌজার পুকুুর ৯৯বছরের জন্য লীজ নিয়ে কাগজ জালিয়াতির মাধ্যমে এই পুকুরটি অবৈধভাবে দখল করে।দেশ স¦াধীন হওয়ার পর উক্ত ২জন লীজ গৃহিতা পুকুরটি ব্যক্তি মালিকানায় পতিত ভিটা হিসাবে দাবী করে সরকারের বিরুদ্ধে উল্টো মামলা করে এবং সরকার পকে পরাজিত দেখিয়ে পুকুরটি ব্যক্তি মালিকানায় নেয়।১৯৯৪ সনে লীজ গৃহিতা আমিনুল ইসলাম টুকু ডাক্তার তার অংশের সাড়ে ৩১ একর পুকুরের জায়গা স্থানীয় দুই জন ব্যবসায়ী জামিরুল ইসলাম ও শ্রী বিপ্লব সরকারকে নিজের ওয়ারিশ দেখিয়ে নগদ ৩ ল টাকায় বিনিময় দলিলমূলে বিক্রি করে দেয়।যা স¤পূর্ণ অবৈধ।এরপর টুকু ডাক্তার মৃত্যু বরণ করে।অপর লীজ গৃহিতা ইরফান ডাক্তার তিনিও মৃত–্য বরণ করার পর তার বড় পুত্র মোজাম তাদের পুকুরের সাড়ে ৩১একর জায়গা সোনালী ব্যাংকে বন্ধক রেখে ৩ লাধিক টাকা ঋণ গ্রহণ করে।পরবর্তীতে উক্ত টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে সোনালী ব্যাংক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পুকুরটি নিলামের ডাক দেয়।এদিকে নব দুই ক্রেতা জামিরুল ও বিপ্লব তাদের অংশের জায়গায় বালু-মাটি ফেলে পুকুরটি ভরাট শুরু করে এবং পাকা ইমারত নির্মাণ কার্যক্রম চালায়।তাদের দেখাদেখি পুকুরের অপর অংশেও দখল করে পাকা ঘর নির্মাণ করে স্থানীয় যুবকরা।এছাড়াও বাজারের ময়লা-আবর্জনা ফেলে ফেলে পুকুরটি স¤পূর্ণ ডাস্টবিনে পরিণত হয়েছিল।কচুরীপানা,সাপ,পোকা-মাকড়,আর মশা-মাছিতে সয়লাব হয়ে পড়েছিল এলাকা।পচা দুর্গন্ধে এলাকা আচ্ছন্ন।নাকে রুমাল চেপে চলাচল করতো এলাকাবাসী।রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হতো ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা।অথচ পুকুরটিতে এক সময় ছিল পরিস্কার পানি।এলাকাবাসিরা গোসলসহ মেটাতো দৈনিন্দন চাহিদা।বাড়ীতে আগুন লাগলে এই পুকুরের পানি দিয়ে তা নেভানো হতো।পুকুরটি এভাবে দখল হওয়া দেখে ২০০৬ সালে স্থানীয় বীরমুক্তিযোদ্ধা মরহুম ফরিদ উদ্দিনমন্ডলসহ ৮১জন এলাকাবাসী পুকুরটি উদ্ধার করার জন্য ভূমি মন্ত্রনালয়,জেলা প্রশাসকসহ উপজেলা ভূমি অফিসে আবেদন জানায়।কানুনগো পুকুরটি কিভাবে জালিয়াতির মাধ্যমে দখল হয়েছে তা উলেখ করে উদ্ধার করার জন্য ২০০৭সালে তদন্ত প্রতিবেদনও পাঠায় সংশিষ্ট দপ্তরকে।কিন্ত– ভূমিদস্যুদের টাকার জোরের প্রভাবে তা এতদিন বন্ধ ছিল। অবশেষে গত ২৬ ডিসেম¦র এটি সরকারী পুকুর,সরকার পে মালিক জেলা প্রশাসক,ঘোষনা দিয়ে পুকুর পাড়ে সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে দেয় এবং দখল মুক্ত করে ভেকু মেশিন লাগিয়ে পুনরায় পুকুর সংস্কার কাজ শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসনের সুযোগ্য সৎ নির্বাহী কর্মকর্তা নুর উদ্দিন আল ফারুক ও ভূমি কর্মকর্তা ফিরোজ হাসান।বহু বছর পর পুকুরটি উদ্ধার হওয়ায় ভীষণ খুশি এলাকাবাসী। তারা এ জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন উপজেলা ও জেলা প্রশাসনকে।

আপনার মতামত লিখুন

Uncategorized,রাজশাহী,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ