মঙ্গলবার-৭ই এপ্রিল, ২০২০ ইং-২৪শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: দুপুর ১২:৫৭, English Version
করোনার ভ্যাকসিন আজ পরীক্ষামুলকভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর খুনি আবদুল মাজেদ গ্রেপ্তার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিডিও কনফারেন্স শুরু প্রাথমিকসহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটি ৩০ মে পর্যন্ত! খানসামায় অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে ব্র্যাক নিউইয়র্কে করোনাভাইরাসে নিভে গেল গৃহবধূ নিশাত’র প্রাণ সিংড়া প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের উদ্যোগে আগুনের হাত থেকে বেচে গেল কয়েক টি পরিবার

মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে সরকার — তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২০ , ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ , বিভাগ : চট্রগ্রাম,সারাদেশ,

এমএন২৪.কম ডেস্ক :  তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহ্‌মুদ বলেছেন, সরকার মাদকবিরোধী আইন বাস্তবায়নে অর্থাৎ ইয়াবার সাথে যারা যুক্ত, মাদক পাচারকারী, মাদক বিক্রেতা, মাদক সেবনকারী সবার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করছে। তিনি বলেন,  আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে কে কোন দলের, কোন মতের কোন পথের সেটি দেখা হচ্ছে না, হবেও না। দলমত নির্বিশেষে যারা এটির সাথে যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং হচ্ছে।

মন্ত্রী আজ চট্টগ্রাম জমিয়তুল ফালাহ মাঠে আঞ্জুমানে রজভীয়া নুরিয়া ট্রাস্ট আয়োজিত যৌতুক, মাদক ও নারী নির্যাতন বিরোধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

আঞ্জুমানে রজভীয়া নুরিয়া ট্রাস্টের চেয়ারম্যান আল্লামা আবুল কাশেম নূরী’র সভাপতিত্বে সমাবেশ উদ্বোধন করেন সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমেদ আল হাছানী। আলোচক ছিলেন ড. নূ ক ম আকবর হোসেন, আলহাজ্ব নুরুল হক, মাছুমুর রশীদ কাদেরী, জাহিদুল হাসান রুবায়েত, মাওলানা আবুল হাসান ওমাইর রজভী প্রমুখ।

ড. হাছান মাহ্‌মুদ বলেন, মাদক এমন একটি বিষ যেটির কারণে শুধু যারা মাদকসেবী তার জীবনটা ধ্বংস হয় তা নয়, পুরো পরিবারটা ধ্বংস হয়ে যায়। অনেক মাদকাসক্ত সন্তানের হাতে মা-বাবা, স্ত্রী হত্যার স্বীকার হয়েছেন, এমনকি মাদকাসক্ত পিতার কাছে নিজের সন্তান পর্যন্ত নিরাপদ নয়। মাদকের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে সন্তানকে পর্যন্ত বিক্রি করে দিয়েছে এমন নজির রয়েছে। সুতরাং এই অভিশাপ থেকে সমাজকে পরিপূর্ণভাবে মুক্ত করা প্রয়োজন। এই ক্ষেত্রে আঞ্জুমানে রজভীয়া নুরিয়ার চেয়ারম্যান আল্লামা আবুল কাশেম নূরী’র যৌতুক ও মাদক বিরোধী যে আন্দোলন, সেটা সরকার যে মাদক ও যৌতুকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ  করেছে তার জন্য অত্যন্ত সহায়ক।

যৌতুকবিরোধী আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে ড. হাছান মাহ্‌মুদ বলেন, এই সমস্ত আন্দোলনের কারণে এবং সরকার যে যৌতুক বিরোধী আইন করেছে তার কারণে যৌতুক এখন অনেক কমে গেছে। আজ থেকে ৩০/৪০ বছর আগে যৌতুকের জন্য দেনদরবার হতো। এখন সেটা আর হয় না। তবে বিয়ের বরযাত্রী কত হয় সেটা নিয়ে আলোচনা করে এখনো।

মন্ত্রী বলেন, অনেক বৃদ্ধা বাবা-মা মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার জন্য সাহায্যের আবেদন নিয়ে বিভিন্ন জনের কাছে যায়। এটি হওয়া উচিত নয়। এভাবে বিয়ে করলে জীবনে সুখী হওয়া যায় কিনা সেটা আমার কাছে বোধগম্য নয়। মেয়ের পিতার উপর পাথরের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে মেয়েকে জীবনসঙ্গী করে জীবনে সুখী হওয়া যাবে না।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, এজন্য আবুল কাশেম নূরী সাহেবের আন্দোলনকে আমি সমর্থন জানাই। আমি বিশ্বাস করি এই ধরনের আন্দোলনের মাধ্যমে দেশকে মাদক ও যৌতুক মুক্ত করতে পারবো। সরকার যৌতুক বিরোধী আইন করেছে, বাল্যবিবাহ বিরোধী আইন আছে। এই আইনগুলো যদি সঠিক প্রয়োগ হয়, তাহলে আমি বিশ্বাস করি বাংলাদেশ যৌতুক ও মাদক মুক্ত হবে। মানুষ এখন যেমন যৌতুক দাবি করতে লজ্জা পায়, তখন গোপনে যৌতুক নিতেও সাহস করবে না।

মন্ত্রী বলেন, যেই ছেলে ১০ বছর আগে বিদেশ গেছে সে এখন এসে তার গ্রাম চিনতে পারে না, শহরও চিনতে পারে না। আমার নিজের গ্রামেও ১০ বছর আগে বিদ্যুৎ ছিল না। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে ১০ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে গিয়েছি। কিন্তু এখন সেখানে সব বাড়ির আঙ্গিনায় গাড়ি যায়। যেখানে রাস্তা কেউ কখনও কল্পনা করেনি সেখানে পাকা রাস্তা হয়েছে। এটি সারা বাংলাদেশের চিত্র। ড. হাছান মাহ্‌মুদ বলেন, এই উন্নয়নের সাথে মানুষের আত্মিক উন্নয়ন প্রয়োজন। তাহলেই দেশটাকে আমরা সত্যিকার অর্থে একটি উন্নত দেশে রূপান্তর করতে পারবো।

তথ্যমন্ত্রী আরো বলেন, আমাদের দেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ক্ষেত্রে পৃথিবীর কাছে উদাহরণ। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ক্ষেত্রে আমরা যে উদাহারণ সৃষ্টি করেছি তা অনেক দেশ আমাদের কাছ থেকে শিখতে পারে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা ২০৪১ সালের মধ্যে এ দেশকে উন্নত সমৃদ্ধ দেশের স্বপ্নের ঠিকানায় পৌঁছে দিতে পারবো।   পি আই ডি

আপনার মতামত লিখুন

চট্রগ্রাম,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ