শুক্রবার-১০ই এপ্রিল, ২০২০ ইং-২৭শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: বিকাল ৫:৫৪, English Version
ব্যস্ততা সত্ত্বেও শিক্ষকতা অব্যাহত রেখেছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ  কোভিড-১৯ সৃষ্ট পরিস্থিতিতে আইনি সেবার হেল্পলাইন ১৬৪৩০ সত্যতা যাচাই না করে সংবাদমাধ্যমে তালিকাপ্রকাশ কোনোভাবেই সমীচীন নয় পার্বতীপুরে কাঁচা মরিচ ও টমেটোর দাম কমে গেছে রাজারহাটে ঘড়ে খাবার নেই রেজিয়ার    কঠিন জ্বর ২/৩দিন ধরে ঘুম নেই আবোলতাবোলে চলি নাটোরে প্রবেশ পথ বন্ধ

লালপুরে কাশ্মীরি আপেল কুলের চাষ, অর্থনৈতিক সম্ভাবনার হাতছানি

প্রকাশ: শনিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ , ৬:১৫ অপরাহ্ণ , বিভাগ : কৃষি,

মো. আশিকুর রহমান টুটুল, নাটোর সংবাদদাতা: নাটোরের লালপুরে বানিজ্যিক ভাবে এই প্রথম নতুন জাতের কাশ্মীরি আপেল কুল বড়ইয়ের চাষ হয়েছে। দেখতে অনেকটা মাঝারি সাইজের আপেলের মতো। রং আপেলের মতো সবুজ ও হালকা হলুদের ওপর লাল। স্বাদ হালকা মিষ্টি, অনেকটা বাউকুলের মত।
এই উপজেলায় এর আগে আপেল কুল ও বাউ কুলের চাষ হলেও নতুন জাত কাশ্মীরি আপেল বড়ইয়ের চাষ এবারই প্রথম। প্রচলিত আপেল কুল ও বাউকুলের থেকে আকারে বেশ বড় এই কাশ্মীরি আপেল কুল।
নতুন এ জাতের বড়ই চাষ করে সফল হয়েছেন লালপুর উপজেলার ওয়ালিয়া পূর্বপাড়া গ্রামের আজমুল হাসান আজাদ নামের এক কৃষক। সে ওয়ালিয়া পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত ডা. জাকির হোসেনের ছেলে।
সরেজমিনে আজাদের কাশ্মীরি আপেল কুলের বাগানে গিয়ে দেখা যায়, নতুন জাতের এই কুলের গাছে থোকায় থোকায় সবুজ গাছে হালকা হলুদের ওপর লাল রংএর মাঝারি কাশ্মীরি আপেল কুলে বাগান ভরে গেছে। বড়ইয়ের ভরে গাছ গুলি মাঠিতে নুইয়ে পড়েছে। ইতি মধ্যে বাগান থেকে বড়ই বিক্রয় শুরু হয়েছে। শ্রমিকরা বাগানে বড়ই তোলা ও বাজার জাতকরনে ব্যস্ত । এসময় কথা হয় বাগান মালিক আজমুল হাসান আজাদের সঙ্গে তিনি বলেন, ‘গত বছরের চৈত্র মাসে বাহিমালি থেকে ২৪ হাজার ৫০০ টাকায় ৭০০ চারা কিনে এনেছিলেন। তিনি ৩ বিঘা জমিতে এই চারা রোপন করেন। রোপনের ৬ মাস পরই গাছ গুলিতে ফল এসেছে। বড়ইয়ে বাম্পার ফল হয়েছে।’
তিনি আরো জানান, ‘চারা রোপন ও পরিচর্যা দিয়ে ৩ বিঘা জমিতে প্রায় ১ লক্ষ ৭০হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৪০ মন কুল ৮০ হাজার টাকায় বিক্রয় করেছি। আশা করছি এবছর প্রায় ৩ লাখ টাকার কুল বিক্রি করতে পারবো। সাধারণত আপেল কুল ও বাউকুল ২৫ থেকে ৫০ টাকা প্রতি কেজি পাইকারি দরে বিক্রি হয়।কিন্তু নতুন জাতের কাশ্মীরি কুলের পাইকারী বাজারে চাহিদা ভালো থাকায় ৪৫-৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রয় হচ্ছে। এবং খুচরা প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে আগামিতে ফলন আরো বেশি হবে বলে জানান তিনি।’
আজাদের কাশ্মীরি আপেল কুলের চাষ দেখে এলাকার অনেকেই এই কুল চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।
কাশ্মীরি আপেল কুল বাগান পরিদর্শন করে লালপুর উপজেলা কৃষি অফিসার রফিকুল ইসলাম জানান, ‘উপজেলার ওয়ালিয়া গ্রামে এই প্রথম নতুন জাতের এই কাশ্মীরি আপেল কুলের চাষ হয়েছে। উপজেলার বেকার শিক্ষিত যুবকরা কুল চাষ করলে যেমন বেকারত্ব দুর হবে সেই সাথে উপজেলার অর্থনীতিও সমৃদ্ধ হবে বলে মনে করেন এই কর্মকর্তা। কুল চাষে আগ্রহীদের কৃষি অফিস থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে বলেও জানান তিনি।’

আপনার মতামত লিখুন

কৃষি বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ