শনিবার-২৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং-১৬ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ১২:৩০, English Version
ঘুমানোর আগে দুধ খেলে কী উপকার পাবেন তওবা করে ইসলাম গ্রহণ করলেন ২১ কাদিয়ানি (ভিডিও) মুজিববর্ষে ৪০ হাজার তরুণকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে: পলক পাপিয়া-সম্রাটদের সাম্রাজ্য এবং নানা প্রশ্ন পাপিয়ার মোবাইল কললিস্টে ১১ এমপির নাম ২০৪৬ অফিসার নেবে ৯ ব্যাংক চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদক সেবন করার অপরাধে -১৩জন মাদক সেবনকারী গ্রেপ্তার

রাজারহাটে দুধের মূল্য কম ও গো-খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধিতে বিপাকে দুগ্ধ খামারীরা

প্রকাশ: শুক্রবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ , ৭:৪১ অপরাহ্ণ , বিভাগ : রংপুর,সারাদেশ,


ইব্রাহিম আলম সবুজ,রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) থেকে ॥ গরুর খামারের উৎপাদিত দুধ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন রাজারহাটের দুগ্ধ খামারের মালিকরা। সরকারী বা বে-সরকারী পর্যায়ে ন্যায্য মূল্যে দুধ ক্রয় কেন্দ্রের অভাবে দুধ বিক্রি করতে হচ্ছে ফেরী করে। তারপরও মিলছে না ন্যায্য মূল্য। ফলে খামারের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছেন উদ্যোক্তরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে যায় ,রাজারহাট উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ৬ শতাধিক গাভী খামার সহ পরিবার ভিত্তিক ক্ষুদ্র পরিসরে শতশত মানুষ গাভী পালন করে আসছেন। এতে করে এই উপজেলায় প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ হাজার কেজি গাভীর দুধ উৎপাদিত হচ্ছে। অথচ গোটা উপজেলা মিলে ব্র্যাকের ২টি, রংপুর ডেইরীর ১টি এবং সমবায় সমিতির মাধ্যমে ১টি ছাড়া এই উপজেলায় কোন দুগ্ধ ক্রয় কেন্দ্র নেই। ফলে ন্যায্য মূল্যে দুধ বিক্রি করতে পারছেন না খামারীরা। বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি ও স্বাবলম্বী হওয়ার আশায় খামার গড়ে তোলা শতশত যুবক ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় হতাশায় ভূগছেন।
সরেজমিন উপজেলার চাকিরপশার ইউনিয়নের চাকিরপশার পাঠক গ্রামের রতন দুগ্ধ খামারে দেখা যায়, শতাধিক উন্নত জাতের গাভী পালন করছেন খামার মালিক মংলা সাধু। এই খামার থেকে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ মন দুধ উৎপাদিত হয়। খামার মালিক মংলা সাধু জানান,রাজারহাট উপজেলায় সরকারী দুগ্ধ ক্রয় কেন্দ্র না থাকায় নামমাত্র মূল্যে দুধ বিক্রি করতে হচ্ছে।
মংলা সাধুর পুত্র রতন জানান, উপজেলায় ছোট-বড় মিলে প্রায় ৬শত দুগ্ধ খামারী যে- যেভাবে পাচ্ছেন দুধ বিক্রি করছেন। এই উপজেলায় ব্রাক, আরডি ও সমবায় সমিতির ৪টি দুগ্ধ ক্রয় কেন্দ্র থাকলেও ক্রয় কেন্দ্র গুলোতে দুধে ফ্যাটের অজুহাত দেখিয়ে কম দামে দুধ কিনছেন তারা।
ফুলবাড়ি উপনচৌকি গ্রামের দুগ্ধ খামারী আঃ জলিল জানান, গরুর খাদ্য মূল্য বৃদ্ধি পেলেও দুধের দাম বাড়েনি। সরকারী দুধ ক্রয় কেন্দ্র না থাকায় আমরা দুধের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছি না,ফলে দুগ্ধ খামার ধরে রাখা কঠিন হয়ে পরেছে। সরকারী ভাবে মিল্কভিটা দুধ ক্রয় কেন্দ্র স্থাপন করা না হলে লোকসান গুনতে গুনতে এক সময় খামার গুলো বন্ধ হওয়ার আশংকা প্রকাশ করেন তিনি।
উপজেলার ফরকের হাটে গড়ে উঠা দুগ্ধ খামারের মালিক রানা জানান, আমি ঢাকার একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রী লাভ করেও ভালো চাকুরী না পাওয়ায় গ্রামে এসে ৬টি ভালো জাতের গাভী দিয়ে খামার গড়েছি। কিন্ত তার খামারে উৎপাদিত এই ৬টি গরুর দুধই বিক্রি করতে পারছি না। একই অবস্থা উপজেলার অন্যান্য খামার গুলোতে।
এদিকে স্বাবলম্বী হওয়ার আশায় খামার করে উৎপাদিত গাভীর দুধ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন নতুন,পুরাতন দুগ্ধ খামারের মালিকরা। এ অবস্থা চলতে থাকলে দারিদ্রতম কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলায় দুগ্ধ শিল্প মুখ থুমড়ে পড়তে পারে। উল্লেখ্য অত্র এলাকার দারিদ্রতা দুর করতে দুগ্ধ খামার শিল্প অনেকটা সহায়ক ভুমিকা পালন করে আসছে।
উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ জোবায়দুল কবির বলেন,গাভীর খাদ্য মূল্য বৃদ্ধি ও দুধ্যের দাম কম হওয়ার কথা স্বীকার করে জানান,উপজেলার সকল খামারীর সাথে পরামর্শ করে এসব সমস্যা থেকে উত্তোরনের উপায় বের করা হবে ।

আপনার মতামত লিখুন

রংপুর,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ