মঙ্গলবার-১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং-৫ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: সন্ধ্যা ৬:০২, English Version
পার্বতীপুরে ১ মার্চ জাতীয় বীমা দিবস পালন করবে সন্ধানী লাইফ ইনস্যুরেন্স সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে অসহায় মানুষের কল্যাণে কাজ করার অঙ্গিকার করলেন এ্যাড. স্মৃতি বিরামপুর পৌরসভার তিন কোটি ১১ লক্ষ টাকা ব্যায়ে মার্কেট নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ॥ ঐতিহ্যবাহী দেওয়ানজীদিঘী পুকুরের দাবীতে মানববন্ধন ও পোনা মাছ অবমুক্তকরণ॥ জলঢাকায় শাহজাহান খাঁনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ বরিশালে র‌্যাবের অভিযানে ৮ মাদক ব্যবসায়ী আটক

নির্জীব প্রকৃতির বুকে সজীব ‘বসন্ত’

প্রকাশ: শুক্রবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ , ১০:১০ পূর্বাহ্ণ , বিভাগ : কৃষি,সারাদেশ,

এমএন২৪.কম ডেস্ক : কোকিলের কুহুতান নাকি আমের মুকুল— কে নিয়ে আসে বসন্তের আগমনী বার্তা? উত্তর খুঁজতে গেলে কিছুটা দ্বিধায় পড়তে হবে বটে। প্রকৃতি যখন তার দখিন দুয়ার খুলে দেয় তখন মিষ্টি বাতাস বয়ে যায় নিজ ছন্দে আর বলে যায়, ‘বসন্ত এসে গেছে’। ঋতুর কালচক্রে আজ পহেলা ফাল্গুন, বসন্তের প্রথম দিন। বসন্তকে বলা হয় ঋতুরাজ। অবশ্য নিষ্প্রাণ প্রকৃতির বুকে যে নতুন করে প্রাণের সঞ্চার করে রাজ উপাধি তো তারই প্রাপ্য। শীতে যে গাছের পাতা ঝরে পড়ে, তাতে আবার নতুন পাতা গজায় এই ঋতুতে। চারদিক মুখরিত হয়ে ওঠে ফুল আর প্রজাপতির কলতানে। মানুষের জীবনে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ না হলেও পশু-পাখি সর্বোপরি প্রকৃতির জন্য বসন্ত বেশ গুরুত্ব রাখে। এই সময় অনেক পশুপাখি মিলন ঘটায় এবং বাচ্চার জন্ম দেয়। নতুন গাছের জন্ম হয় এই ঋতুতে।

বসন্ত ফুলের ঋতু। এই ঋতুতে বাতাসের মাধ্যমে ফুলের রেণু ছড়িয়ে পড়ে। আর তাই এই ঋতুতে ফুল হয় বেশি। যে ফুল দিয়ে আপন সৌন্দর্যে সাজে প্রকৃতি। ফুলের সঙ্গে বসন্তের প্রেম বেশ গভীর। কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ভাষায় বসন্তের শাশ্বত রূপটি তাই এমন- ‘ফুল ফুটুক, আর না-ই ফুটুক আজ বসন্ত’। বসন্তের ফুল বলতেই সবার আগে চলে আসে পলাশ, শিমুল আর কৃষ্ণচূড়ার নাম। এছাড়াও এই ঋতুতে ফোটে অশোক, আকড়কাঁটা, হিমঝুরি, রক্তকাঞ্চন, দেবদারু, নাগেশ্বর, মহুয়া, মাদার, শাল, স্বর্ণশিমুল ইত্যাদি। বসন্তে প্রকৃতি হয়ে ওঠে চঞ্চল। শীতের খোলস ছাড়িয়ে নবরূপে জাগ্রত হয় বৃক্ষরাজি। পলাশ, শিমুল আর কৃষ্ণচূড়ার লাল রঙে রঙিন হয়ে ওঠে গ্রাম-শহর, বন-বাদার। প্রকৃতিতে যেন রঙের আগুন লাগে। গাঁদা ফুলের বাসন্তি রঙও বসন্তের উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে দেয়। এমনকি ঘাসের ওপরও এ সময় পা ফেলতে হয় সাবধানে। কারণ সেখানে ফুটে থাকে গুল্ম ফুল। পরিত্যক্ত জলাশয়ের বুকেও কলমি ফুল উঁকি দিয়ে জানান দেয়, প্রকৃতিকে সাজাতে পিছিয়ে নেই তারাও। বসন্ত ঋতুতে সবচেয়ে বেশি পাখির গান শোনা যায়। আর এই গানের দলের নেতৃত্ব দেয় সুরেলা কণ্ঠের কোকিল। উঁচু গাছের মগডালে বসে, নিজেকে আড়াল করে সারাদিন কুহু কুহু রবে গেয়ে যায় সে। কোকিলের সেই গানে বিমোহিত হয় মানুষের মন, বিরহী মন হয়ে ওঠে উতলা। বসন্তের ফুলের রূপ আর পাখির গান যুগ যুগ ধরে বিমোহিত করে গেছে কবি সাহিত্যিকদের। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই বসন্তের রূপে মুগ্ধ হয়েই লিখেছেন- ‘আহা আজি এই বসন্তে, এত ফুল ফোটে, এত বাঁশি বাজে, এত পাখি গায়।’ বাউল মনকে ছুঁয়ে গেছে বসন্তের বাতাস। তাইতো বাউল কবি গেয়ে ওঠে- ‘বসন্ত বাতাসে সই গো/ বসন্ত বাতাসে/ বন্ধুর বাড়ির ফুলের গন্ধ আমার বাড়ি আসে।’ বসন্ত ভালোবাসার ঋতু, নতুন কবিতা লেখার ঋতু, প্রকৃতির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হওয়ার ঋতু। এই ঋতু শূন্য হৃদয় ভরিয়ে দেয় নানা রঙে। প্রকৃতিকে যারা ভালোবাসেন তাদের পছন্দের ঋতুর তালিকায় তাই বসন্তের অবস্থান একটু আলাদা। ফুলপ্রেমিদের জন্য এই ঋতু বড্ড রঙিন।

আপনার মতামত লিখুন

কৃষি,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ