শুক্রবার-২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং-১৫ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ১১:৫৩, English Version
ঘুমানোর আগে দুধ খেলে কী উপকার পাবেন তওবা করে ইসলাম গ্রহণ করলেন ২১ কাদিয়ানি (ভিডিও) মুজিববর্ষে ৪০ হাজার তরুণকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে: পলক পাপিয়া-সম্রাটদের সাম্রাজ্য এবং নানা প্রশ্ন পাপিয়ার মোবাইল কললিস্টে ১১ এমপির নাম ২০৪৬ অফিসার নেবে ৯ ব্যাংক চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদক সেবন করার অপরাধে -১৩জন মাদক সেবনকারী গ্রেপ্তার

বিশেষ তহবিলের ঘোষণায় শেয়ারবাজারে উল্লম্ফন

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ , ২:৩৯ অপরাহ্ণ , বিভাগ : অর্থনীতি,

এমএন২৪.কম ডেস্ক : বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ১০০ পয়েন্ট বা ২.২৯ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৪৮৬ পয়েন্টে অবস্থান করছিল।আর ওই সময় পর্যন্ত চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) প্রধান সূচক সিএএসপিআই ২১৩ পয়েন্ট বা ১.৫ শতাংশ বেড়ে অবস্থান করছিল ১৩ হাজার ৫৯৪ পয়েন্টে।ডিএসইতে তখন পর্যন্ত ২১১ কোটি ৯৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। আর সিএসইতে হাতবদল হয় ৬ কোট ৫০ লাখ ৪১ হাজার টাকার শেয়ার।ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৫০টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে তখন পর্যন্ত ৩১৯টির দর বাড়ে, আর কমে ১৫টির দাম। ১৬টি কোম্পানির শেয়ার দর তখনও অপরিবর্তিত ছিল।

অন্যদিকে সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৫৪টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১৩৫টির দর বাড়ে, ১০টির কমে এবং ৯টির দাম অপরিবর্তিত থাকে।জানুয়ারিতে পুঁজিবাজারে বড় ধসের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপে সপ্তাহ খানেক সূচকে উন্নতি দেখা গেলেও তা স্থায়ী হচ্ছিল না। শেষ ৭ কার্যদিবসের ৯৬ পয়েন্ট কমে যায় ডিএসইর প্রধান সূচক।এরই মধ্যে সোমবার পুঁজিবাজার চাঙ্গা করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় ব্যাংকগুলোকে বিশেষ তারল্য সুবিধা ও নীতিসহায়তা দেওয়ার ঘোষণা আসে।বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোকে বিশেষ তহবিল গঠনের সুযোগ দেয়া হয়। নিজস্ব উৎস অথবা ট্রেজারি বিল বন্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলো এ তহবিলের অর্থ সংগ্রহ করতে পারবে।বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৫ শতাংশ সুদে এ তহবিলের অর্থ সংগ্রহ করতে পারবে ব্যাংকগুলো, যা পরিশোধের সময় পাবে পাঁচ বছর। আর ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে এ তহবিল থেকে ঋণ দিতে পারবে।তারল্য সংকট ও আস্থাহীনতার কারণে ধারাবাহিক দরপতন হয় শেয়ারবাজারে। বাজারে টানা দরপতনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ডিসেম্বরে ব্যাংকগুলোর কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংক অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল চায়। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতামত জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতিবাচক সাড়া দেয়। অর্থ মন্ত্রণালয় শেয়ারবাজারে তারল্য সরবরাহের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দেয়।এর পর পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের উদ্দেশে বিশেষ তহবিল গঠন এবং বিনিয়োগের নীতিমালা বিষয়ে সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী ২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত যে কোনো তফসিলি ব্যাংক রেপোর মাধ্যমে এ সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে।তহবিল গঠনের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়, আর্থিক খাতের প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পুঁজিবাজারে তফসিলি ব্যাংকগুলোর নির্দিষ্ট পরিমাণ বিনিয়োগের আইন রয়েছে। দেশের পুঁজিবাজার ও মুদ্রা বাজারের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপনকারী হিসেবে তফসিলি ব্যাংকগুলোর ভূমিকা অনস্বীকার্য।পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে ক্রমাগত তারল্য প্রবাহ বজায় রাখার জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পুঁজিবাজার-সংক্রান্ত সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান (মার্চেন্ট ব্যাংক ও ডিলার লাইসেন্সধারী ব্রোকারেজ হাউস) এবং অন্যান্য মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসকে শুধু পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের উদ্দেশে বিশেষ ব্যবস্থায় এ তহবিল সরবরাহ করা হবে।তফসিলি ব্যাংকগুলো চাইলে নিজস্ব উৎস থেকে তহবিল জোগান দিতে পারে। এ ছাড়া ধারণকৃত ট্রেজারি বিল বা বন্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় তহবিল সংগ্রহ করতে পারবে।প্রথমে নিজ উৎস থেকে তহবিল গঠন করে পরবর্তীতে ট্রেজারি বিল বা বন্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সমপরিমাণ অর্থ নেয়া যাবে। এ তহবিল হতে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ, ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১ এর ২৬ ক ধারায় বর্ণিত বিনিয়োগসীমা অতিরিক্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত তারল্য থেকে ট্রেজারি বন্ড বা বিলের মাধ্যমে এ সুবিধা গ্রহণ করতে হবে। ট্রেজারি বন্ড বা বিলের রেপো মূল্যের ৫ শতাংশ মার্জিন হিসেবে রেখে তারল্য সুবিধা দেয়া হবে। নগদ রেপোর অর্থ পরিশোধে ব্যর্থতার ক্ষেত্রে মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখে সংশ্লিষ্ট সিকিউরিটিজের বাজার মূল্য আদায়যোগ্য অর্থ অপেক্ষা কম হলে তা ইতোপূর্বে গৃহীত মার্জিন থেকে সমন্বয় করা হবে। সমন্বয়ের জন্য অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন হলে ব্যাংক তা দিতে বাধ্য থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ