শুক্রবার-২৪শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং-১১ই মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: দুপুর ১২:০৪, English Version
সোনামসজিদ স্থলবন্দরে ৩টি স্বর্ণের বারসহ গ্রেপ্তার-১ চাঁপাইনবাবগঞ্জ ফুলবাড়ী শিবনগর ইউপিতে পরিবার পরিকল্পনা অফিসের আয়োজনে মা সমাবেশ অনুষ্টিত॥ মুক্তিযোদ্ধা ভাতা নিলে আওয়ামীলীগ করতে হবে সৈয়দপুরে স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ ঠাকুরগাঁওয়ে হাইকোর্টের রায় অমান্য করে জমি দখল, খুটির জোর কোথায়? মুজিব বর্ষ উপলক্ষ্যে সৈয়দপুরে উপজেলা চেয়ারম্যানের উদ্যোগে ফ্রি আই ক্যাম্প অনুষ্ঠিত আজহারীকে দেখতে রাজবাড়ীতে হাজারো মানুষের ভিড় ‘আদা সমুদ্দুর’ নাটকে গণসঙ্গীত গাইলেন ঐশী

মাঠে দুলছে সোনালি স্বপ্ন, ন্যায্য দামের শঙ্কায় কৃষক

প্রকাশ: শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৯ , ৬:০৫ অপরাহ্ণ , বিভাগ : কৃষি,

এমএন২৪.কম ডেস্ক: নওগাঁর ধামইরহাটে ১৯ হাজার হেক্টর জমিতে কৃষকের সোনালি স্বপ্ন দুলছে। গত বোরো মৌসুমে ধান চাষ করে কৃষকেরা ক্ষতির সম্মুখিন হলেও এবার নতুন স্বপ্ন নিয়ে আমন ধান চাষ করেছেন তারা। তেমন কোনো সমস্যা ছাড়াই কৃষক এবার রেকর্ড পরিমাণ জমির ধান কাটার সোনালি স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। তবে ধানের ন্যায্য দাম নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নওগাঁর আদি বরেন্দ্র্র অঞ্চল হিসেবে পরিচিত ধামইরহাট উপজেলায় এবার কৃষক ১৯ হাজার সাত শত ৮০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষ করেছেন। অধিকাংশ জমিতে কৃষক স্বর্ণা জাতের ধান রোপন করেছেন। এছাড়াও বিনা-১৭, কাটারীভোগ, ব্রিধান-৩৪, ৪৯, ৫১, ৫২, ৫৬, ৭১, ৭৫, ৮০ ও ৮৭ জাতের ধানের চাষ করা হয়েছে। অনেক জমিতে পোলাওয়ের ধান হিসেবে পরিচিত সুগন্ধি চিনি আতপ ধান চাষ করছেন। চিনি আতপ ধানের বাজার মূল্য সব সময় বেশি। বর্তমানে মাঠে মাঠে ধান পাকতে শুরু করেছে। এবার ধানের রোগবালাই নেই বললেই চলে। তবে মাঝে বাদামী গাস ফড়িংয়ের (কারেন্ট পোকা) আক্রমণ দেখা দিয়েছিল। কৃষকেরা আগাম ব্যবস্থা নেওয়ায় এ রোগ ছড়িয়ে পড়েনি। গত বোরো মৌসুমে কৃষক ধান চাষের খরচ ও কাটা মাড়াইয়ের মজুরি দিয়ে প্রচুর ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছেন। তারপরও অনেক আশা ভরসা নিয়ে নতুন উদ্যোমে অধিক পরিমাণ জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন।

উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের শিববাটি গ্রামের কৃষক জয়নাল আবেদীন জানান, দুই একর জমিতে তিনি বিনা-১৭ জাতের ধান চাষ করেছেন। একর প্রতি তার ফলন হয়েছে প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ মণ। পৌরসভার চকউমর গ্রামের কৃষক শরিফুল ইসলাম জানান, তিনি এবার অন্যান্য ধানের সাথে কাটারীভোগ ধান চাষ করেছেন। ধানের ফলনও ভালো হয়েছে। বাজারে বর্তমানে এ ধান আটশ থেকে আটশ ২০ টাকা দরে কেনা-বেচা চলছে ।

জয়জয়পুর গ্রামের কৃষক আনিছুর রহমান জানান, এবার ধানের ফলন ভালো হয়েছে। স্বর্ণা-৫ জাতের ধান একর প্রতি ৬২ মণ হারে ফলন হয়েছে। বাজারে বর্তমানে এ ধান ছয়শ থেকে ছয়শ ৫০টাকা দরে কেনা-বেচা চলছে। বোরো মৌসুমে ধানের চাষ করে তার লোকসান হয়েছে। তাই এবার ধানের মূল্য কমপক্ষে যেন আটশ টাকা থাকে সেই ব্যাপারে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সেলিম রেজা বলেন, আমন মৌসুমে কৃষক লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে ধান চাষ করেছেন। বিভিন্ন জাতের মধ্যে বিনা-১৭ এবং ব্রিধান- ৭১, ৮৭ চাষে ব্যাপক সফলতা এসেছে। এ ধানের ফলন একর প্রতি ৬৫ থেকে ৭০ মণ। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে উঠান বৈঠক, হাট-বাজার সভা, গ্রুপ ভিত্তিক কৃষক সমাবেশ, গ্রাম কৃষক বন্ধু প্রশিক্ষণ, প্রণোদনা, লিফলেট বিতরণ এবং কৃষি প্রদর্শনীসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের আমন ধানের পোকামাকড় সম্পর্কে সচেতন করা হয়েছে। ফলে এবার আমনের বাম্পার ফলন হবে।

মো. সেলিম রেজা আরো বলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ শুরু হবে। সরকারি খাদ্যগুদামে প্রতি কেজি ধান ২৬ টাকা দরে ক্রয় করার সিন্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমরা প্রকৃত কৃষকদের নামের তালিকা তৈরি করছি। এই তালিকা থেকে প্রান্তিক, মাঝারি ও বড় কৃষকের তালিকা নির্ধারণ করা হবে। তালিকাভুক্ত কৃষকদের কাছ থেকে কি প্রক্রিয়ার ধান ক্রয় করা হবে সেই ব্যাপারে আগামী সোমবার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

কৃষি বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ