শুক্রবার-৩রা এপ্রিল, ২০২০ ইং-২০শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: সন্ধ্যা ৬:০২, English Version
হাকিমপুরের জনসাধারণ যেন হোম কোয়ারান্টাইনে রাতন বাজারে দূরত্ব বজায় না রাখা দোকান খোলার অপরাধে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জরিমানা চাঁপাইনবাবগঞ্জের নয়াগোলা মোড়ে যানবাহন ও জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে পুলিশের বিশেষ অভিযান। আটকেপড়া বাংলাদেশিদের সহায়তায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃক্ষছায়া সংগঠনের উদ্যোগে পার্বতীপুরে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কমছে না চালের দাম অসহায়দের পাশে ক্রিকেটার এনামুল হক বিজয়

শিবগঞ্জ উপজেলা উন্নয়নে ডা: সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৯ , ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ , বিভাগ : ঢাকা,সারাদেশ,

চাঁপাইনবাবগঞ্জ  নয়ন ঘোষ : তার সহযোগী তরিকুল ইসলাম: ডাঃ মইন উদ্দীন আহমদঃ শিবগঞ্জ উপজেলার সামাজিক সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক অঙ্গঁনে যাঁরা নিবেদিত প্রাণ- ডাঃ মইন উদ্দিন আহমেদ তাঁদের মধ্যে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। যিনি মন্টু ডাঃ নামে সর্বাধিক পরিচিত ও জনপ্রিয়। জন্মঃ তৎকালীন বিশিষ্ট চিকিৎসক মরহুম ডাঃ কালিম উদ্দীন আহমেদ ও মাতা মরহুমা বেগম দেল আফরোজ এর সুযোগ্য সন্তান ডাঃ মইন উদ্দীন আহমদ ইং ১৯৩৬ সালের ১ নভেম্বর মনাকষা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। ছাত্রজীবনঃ কলেজ জীবন থেকেই তিনি সক্রিয় ছাত্র রাজনীতিতে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন। রাজশাহী মেডিকেল স্কুলে পড়াকালীন সময়ে তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ রাজশাহী মেডিকেল স্কুল শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন। পরবর্তীকালে তিনি ট্রেড ইউনিয়ন রাজনীতির সাথে যুক্ত হন। ১৯৬০ সালে শ্রমিক লীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে নিজেকে নিয়োজিত করেন। তিনি স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করার পর মানব সেবার ব্রত নিয়ে চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত হন। জাতীয় রাজনীতিতে ভূমিকাঃ জনদরদী এনেতা সত্যিকারের জনগণের উন্নয়ন চেয়েছিলেন। ১৯৬৬ সালে তিনি নির্বাচিত হন মনাকষা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান।বঞ্চিত অবহেলিত শিবগঞ্জবাসীর সমস্যসমূহ জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার জন্য এবং সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য ১৯৭০ সালে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি ১৯৭১-৭২ সালে গণ পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। এ নেতা ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং সম্মুখ সমরে সাব সেক্টর কমান্ডারের গুরু দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী হয়ে বিপুল জন সমর্থন নিয়ে তিনি জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে হত্যার পর তৎকালীন শাসক গোষ্ঠির নির্যাতন ও অত্যাচারের কারনে দীর্ঘ ৬ (ছয়) মাস আত্মগোপন করার পর আবার ফিরে আসেন সক্রিয় রাজনীতিতে। ১৯৭৯ সালে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী হয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন, কিন্তু অল্প ভোটেরব্যবধানে পরাজিত হন। ১৯৮৫ সালে উপজেলা নির্বাচনে আবার বিপুল সংখ্যক জনসমর্থন নিয়ে তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৮৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচিত হনএবং এই সময় তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় তাঁর স্বপ্নের আদিনা ফজলুল হক কলেজ, দাদনচক পি.টি.আই, শিবগঞ্জ মডেল উচ্চ বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করা হয়। শিবগঞ্জ জাতীয় স্টেডিয়াম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ হতে সোনামসজিদ পর্যন্ত মহাসড়ক এবং সোনামসজিদ পূর্ণাঙ্গ স্থল বন্দর নির্মাণ এর চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরী করেন। রাজনৈতিক সংগ্রামের বিনিময়ে তৎকালীন শাসক গোষ্টির চাপের মুখে নিজ দল (বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ) ত্যাগ করে জাতীয় পার্টিতে যোগ দিতে বাধ্য হন। এই সময় তিনি বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ‘মাননীয় হুইপ’ হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রায় দেড় বছর (০৬/০৭/১৯৮৬-০৬/১২/১৯৮৭) পর্যন্ত তিনি ব্যক্তিগতভাবে মনের বিরুদ্ধে জাতীয় পার্টিতে অবস্থানের পর তিনি জাতীয় পার্টির সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। ১৯৮৮ সাল হতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সদস্য হওয়ার জন্য জেলা ও কেন্দ্রেআবেদন করলে জেলা ও কেন্দ্র তা মঞ্জুর করেন। ১৯৯০ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি দ্বিতীয় বারের মত শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানহিসেবেনির্বাচিত হন। মানবসেবী, জন দরদী এ নেতা বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে দলীয় কর্মকান্ড পরিচালনা করেছেন। ১৯৭২-১৯৭৫ ইং সাল পর্যন্ত বৃহত্তর রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগ শাখার প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৩-১৯৭৬ ইং পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে নবাবগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯৭৯-১৯৮৬ ইং পর্যন্ত নবাবগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭২-১৯৭৬ ইং পর্যন্ত শিবগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৭৯-১৯৮৬ ইং পর্যন্ত থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে আসীন থেকে দলীয় কার্য পরিচালনা করেন। জনসেবাঃআত্মমানবতার সেবায় নিয়োজিত এ নেতা অন্ধকারাছন্ন শিবগঞ্জবাসীকে নিয়ে এনেছেন আলোর পথে- দেখিয়েছেন সম্ভাবনার নতুন পথ,মনে জাগিয়েছেন বেঁচে থাকার তাগিদ। অ-শিক্ষিত অর্ধ-শিক্ষিত শিবগঞ্জবাসীকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার জন্য প্রতিষ্ঠা করেছেন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা সহ বহু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। সুস্থ সাবলীল সংস্কৃতি বিকাশের জন্য প্রতিষ্ঠিত করেছেন বিভিন্ন ক্লাব ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান। জন কল্যানাসার্থে নির্মাণ করেছেন হাট-বাজার, রাস্তাঘাট ইত্যাদি। দারিদ্রমুক্ত উন্নত স্বাস্থ্যসেবা সমাজ গড়ার জন্য তিনি থেকেছেন সর্বদা সচেষ্ট। শেষ কথাঃজনদরদী, মানবসেবী, সদালাপী মিষ্টভাসী ডাঃ মইন উদ্দিন আহমদ শিবগঞ্জ উপজেলার সমগ্র মানুষের প্রেম ভালবাসা নিয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১১ইংরেজি পরলোক গমন করেন। আমি তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করি। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ