মঙ্গলবার-১৯শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং-৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: সন্ধ্যা ৭:৫৯, English Version
দুমকিতে লবণের মূল্য বৃদ্ধির আতংকে ক্রেতারা ! চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গায় হতদরিদ্রদের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির বরিশালে পেঁয়াজের ঝাঁঝ না কাটতেই দাম বড়ারার গুজবে লবণ বিক্রির হিড়িক মাঠে ধানের নাচন দেখে কৃষকের মুখে হাসি- ছাতকে আমন ধানের বাম্পার ফলন ছাতকে সিংচাপইড় ইউপির ৩ নং ওয়ার্ড আ’লীগের কমিটি গঠন : সভাপতি জলিল, সম্পাদক সমরাজ লবণের দাম বৃদ্ধির গুজবে ছাতকের সিরাজগঞ্জ বাজারে লঙ্কাকান্ড! মন্ত্রীর আশ্বাসে বড়পুকুরিয়া তাপবিদুৎ কেন্দ্রে শ্রমিক নিয়োগের দাবীতে কর্ম বিরতী সাময়িক স্থগিত॥

দিনাজপুরে মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইলকে রাষ্টীয় মর্যাদায় দাফন করা থেকে বিরত।গোপন তথ্য ফাঁস করলেন স্ত্রী

প্রকাশ: সোমবার, ৪ নভেম্বর, ২০১৯ , ১১:৪২ অপরাহ্ণ , বিভাগ : রংপুর,সারাদেশ,

এমএন২৪.কম ডেস্ক: দিনাজপুরের সেই বহুল আলোচিত মরহুম মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইলের একটি চিঠিকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা গ্রহন না করার ঘটনায় দেশব্যাপী তোলপাড় হওয়ার কয়েকদিন পর মুখ খুলেছেন তার তৃতীয় স্ত্রী মর্জিনা খাতুন।
আজ সোমবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে বোচাগঞ্জ উপজেলা ডাকবাংলোতে এক জনাকীর্ন সাংবাদিক সম্মেলনে নিরক্ষর মা মর্জিনাকে পাশে রেখে বড় ছেলে সেতাবগঞ্জ কামিল মাদরাসার দশম শ্রেনীর ছাত্র মোঃ মোসাদ্দেক হোসেন মৃদুল তার মায়ের লিখিত বক্তব্য সাংবাদিকদের সামনে পাঠ করেন। মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন মর্জিনার সাথে বিবাহের পর হতে প্রায় ২৪/২৫ বছর যাবত বোচাগঞ্জে বসবাস করে আসছেন এবং তিনি এই এলাকার ভোটারও। তিনি সুস্থ্য থাকা কালীন অবস্থায় একটি বীমা কোম্পানীতে চাকুরী করতেন পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধার ভাতায় সংসার চলতো। গত ২১ অক্টোবর তিনি খুব অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তাকে আমরা প্রথমে বোচাগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে যাই পরে সেখানে থেকে দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এসময় আমি ও আমার দুই সন্তান তার নিয়মিত সেবা যতœ করতে থাকি। গত ২৩ অক্টোবর মৃত্যুর সময় আমারই কোলে মাথা রেখে আমার স্বামী মৃত্যু বরন করেন। মৃত্যুর পর আমাদের মতামতকে উপেক্ষা করে তার প্রথম স্ত্রীর সন্তানদ্বয় এক প্রকার জোর করেই আমার স্মামী মৃতদেহকে তাদের গ্রামের বাড়ী দিনাজপুর সদর উপজেলার জুগিবাড়ীতে নিয়ে যায়। জীবদ্দশায় তিনি অহংকার করে বলতেন আমার মৃত্যুর পরে আমার কফিনে জাতীয় পতাকা দিয়ে রাষ্ট্রীয় সন্মান প্রদর্শন করা হবে। সেই ব্যক্তি কিভাবে চিঠি লেখে রাষ্ট্রীয় সন্মান নিতে অস্বীকার করেন তা আমার বোধগম্য নয়। তারা আমার স্বামীকে মুক্তিযোদ্ধার প্রাপ্য সন্মান হতে বঞ্চিত করেছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল এতটাই শারিরীক অসুস্থ ছিলেন যে তিনি জীবন মৃত্যুর লড়াই করছিলেন সেখানে তার চিঠি লেখার স্মৃতি শক্তি ছিল না। যে চিঠি নিয়ে সর্বত্র আলোচনা হচ্ছে খবরের কাগজ ও টেলিভিশনে তোলপাড় হচ্ছে তা সত্য নয়। এটাকে যে কেউ অসৎ উদ্দ্যেশে নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য করে থাকতে পারে। আমি সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষী ব্যক্তিদের বিচার চাই। তিনি বলেন, দিনাজপুরের প্রথম স্ত্রীর বাড়ীতে মৃত্যু পরবর্তীতে দোয়া খায়ের অনুষ্ঠানে আমারা সেখানে যাই ঐ দিন দিনাজপুর সদরের এমপি ও হুইপ ইকবালুর রহিম, রংপুর বিভাগীয় কমিশনার, দিনাজপুর জেলা প্রশাসক সহ আরো অনেক গন্যমান্য ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত ছিলেন কিন্তুু বড় পক্ষের সন্তানেরা আমাদের ঘরে এত প্রতার আটক রেখে বলে যে, আপনাদের ডাকা হলে আসবেন, না ডাকা হলে হুইপ সাহেব অথবা ডিসি সাহেবের নিকট যাবেন না বা কোন কথা বলবেন না। লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, আমার স্বামীর মৃত্যুর পর আমি দুই সন্তানকে নিয়ে চরম মানবেতর জীবন যাপন করছি। আমাকে দেখার কেউ নেই কিংবা আমার কেউ খোঁজ খবর নিতেও আসে নাই। আমি আপনাদের মাধ্যমে সরকারের প্রতি আকুল আবেদন করছি আমি ও আমার দুই শিশু সন্তানকে যেন মুক্তিযোদ্ধার সন্মানী ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা প্রদান করা হয়। এসময় ছোট ছেলে সেতাবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র মিম হোসেন, মর্জিনার পিতা মোঃ সাজেদুর রহমান, বাড়ীর মালিক মোছাঃ রহিমা বেগম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

রংপুর,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ