শনিবার-২৩শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং-৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ৪:৩৪, English Version
এমপিওভুক্ত হচ্ছেন আরো শতাধিক শিক্ষক (তালিকাসহ) পয়সারহাট বন্দরে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে আট দোকান ভস্মিভূত বিয়ের আটদিন আগে তরুনীর লাশ উদ্ধার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে যেন নিজের কোলে লালন করছে প্রকৃতি -তথ্যমন্ত্রী টেরেস্ট্রিয়াল হচ্ছে বিটিভি চট্টগ্রাম, বিজয়ের মাস থেকে ১২ ঘন্টা সম্প্রচার -তথ্যমন্ত্রী দিনাজপুরে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার সমাপনী অনুষ্ঠিত টেরেস্ট্রিয়াল হচ্ছে বিটিভি চট্টগ্রাম   — তথ্যমন্ত্রী

ঐতিহ্যবাহী মোগলহাট জিরো পয়েন্ট এখন শুধু স্মৃতি পুনরায় চালুর দাবী লালমনিরহাটবাসীর

মো: লাভলু শেখ, লালমনিরহাট, তারিখ : ১৭/১০/২০১৯ ইং
ঐতিহ্যবাহী মোগলহাট জিরো পয়েন্ট এখন স্মৃতি, পুনরায় চালুর দাবী লালমনিরহাট বাসীর। লালমনিরহাট শহর থেকে কয়েক কিলোমিটার দুরে অবস্থিত একটি ইউনিয়ন যার নাম মোগলহাট। ১৬৮৭ খ্রি. মোগলহাট সুবেদার শায়েস্তা খাঁ এর পুত্র এবাদত খাঁ ঘোড়াঘাটের ফৌজদার থাকাকালীন কুচবিহার অভিযানের সময় এখানে ছাউনি স্থাপন করার কারণে জায়গাটির নাম মোগলহাট হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। বৃটিশ শাসনের গোড়ার দিকে নুর উদ্দিন বাকের এর নেতৃত্বে সৃষ্ট কৃষক বিদ্রোহের সময় মোগলহাট একটি শক্তিশালী ঘাটি ছিল। ১৭৮৩ খ্রি. রঙ্গপুরের কালেক্টর রিচার্ড গুডল্যান্ড ও সেনাধ্য মি. ম্যাকডোলান্ড সেন্য বাহিনীসহ অতিপ্তিতার সাথে মোগলহাটে আক্রমন চালিয়ে ছিলেন এবং উভয় বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে হয়েছিল বলেও জানা গেছে। ঐতিহ্যবাহিক স্থান ও মোগলহাটে ১৯১২ খ্রি. রেলওয়ে ষ্টেশন স্থাপিত হয়। সে সময় মোগলহাটের উপর দিয়ে লালমনিরহাট থেকে ভারতের গিদালদাহ হয়ে ধবড়ী পর্যন্ত রেল যোগাযোগ ছিল। দেশ বিভাগের পর এস্থান একটি সীমান্তবর্তী এলাকায় পরিনত হয়। দেশ বিভাগের সময় রোপনকৃত বট গাছটি বর্তমানে যেন বাংলাদেশ-ভারতী জিরো পয়েন্টে একটি জীবন্ত পিলার হয়ে আছে। মোগলহাট রেলষ্টেশন থেকে মাত্র আধা কি: মি: উত্তরে ভারতের গিদালদাহ ইউনিয়ন, যেখানে ধরলা নদীর উপর রয়েছে তিস্তা রেলওয়ে সেতুর ন্যায় অপর একটি সেতুর নাম গিদালদাহ সেতু। ১৯৭২ খ্রি. পর্যন্ত এ পথ দিয়ে ভারতীয় বিভিন্ন স্থান থেকে কাঠ, কয়লা, পাথর, সার ইত্যাদি আনা হতো। নদী ভাঙ্গনের ফলে ভারতের সাথে রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় তা বন্ধ হয়ে যায়। পরে মোগলহাট রেল ষ্টেশনটি একটি অলাভজনক ষ্টেশন এবং ওই সীমান্তে উলফা জঙ্গীর তৎপরতা দেখা দিলে ভারত-বাংলাদেশ উভয় মিলে ১৯৯১ খ্রি. ফেব্র“য়ারী মাসে লালমনিরহাট থেকে মোগলহাট পর্যন্ত রেল যোগাযোগও বন্ধ করে দেয়। পাসপোর্টধারীরা উভয় দেশের যাতাযাত করতে দীর্ঘদিন যাবত এ রুট ব্যবহার করে আসছিলেন। ২০০২ খ্রি. জুলাই মাস থেকে তাও বন্ধ রয়েছে। ব্যস্ততার অতীত স্মৃতি ধারণ করে এখন নীরবে দাঁড়িয়ে রয়েছে সার্চ পাওয়ার, রেল ষ্টেশন ভবন, পুলিশ ইমিগ্রেশন চেক পোষ্টসহ আরও কতক দপ্তর। তবে পাশে বর্ডার গার্ড ক্যাম্পটি বর্তমানে সচল রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, ষ্টেশনের মূল্যবান জিনিস পত্র এবং রেল লাইনের ‘ লাইন ’ লুটপাট ও চুরি হচ্ছে। তবে বেল লাইন চুরির ঘটনায় লালমনিরহাট রেল কর্তৃপরে দায়ের করা মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এদিকে মোগলহাট জিরো পয়েন্টটি পুনরায় চালুর দাবী করে ব্যবসায়ী ও লালমনিরহাটবাসী বিভিন্ন ভাবে আন্দোলন করে আসছেন। সরকারের প থেকে পুনরায় চালুর আশ্বাস দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি ভারতীয় হাই কমিশনার এ পয়েন্ট পরিদর্শন করেছেন। পুনরায় চালু হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

রাজশাহী,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ