শনিবার-১৯শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং-৪ঠা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ৮:৩১
গাইবান্ধার ব্রম্মপুত্র নদে মোবাইল কোর্ট পারিচালনায় ১০ জনকে আটক পার্বতীপুরের যোহান হাসদা ৮০০ ইঁদুর মেরে পুরস্কৃত হলেন শৈলকুপায় উপজেলা চেয়ারম্যান গোল্ডকাপ ফুটবল টূর্নামেন্টের উদ্বোধন এক সঙ্গে মঞ্চ মাতাবেন নিরব,ইমন,তমা ও মেঘলা পার্বতীপুরে আদল সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভা ও শেয়ারের লভ্যাংশ বিতরণ লালপুরে পদ্মা নদীতে পড়ে শ্রমিক নিখোঁজ ফুলবাড়ীর মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স চত্তরে জাগজমক ভাবে গুরুমনি রুপালী হিজরার কুলখানি অনুষ্ঠিত ॥

উজিরপুরে আশোয়ার সরকারি স্কুল কাম সাইকোন সেন্টারটি সন্ধ্যা নদীতে সম্পূর্ণ বিলীন

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর, ২০১৯ , ৪:১৪ অপরাহ্ণ , বিভাগ : বরিশাল,সারাদেশ,

মনির হোসেন বরিশাল॥ বরিশাল জেলার উজিরপুরের গুঠিয়ার আশোয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইকোন সেল্টারটি এলাকাবাসীর চোখের সামনে মঙ্গলবার দুপুর ১ টার দিকে সন্ধ্যা নদীর ভাঙ্গনে বিলিন হয়ে যায়। প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ ভবনটি রক্ষার জণ্য এলকার মানুষ নানা রকমের চেষ্টা করে কোন লাভ হয়নি। ৩ মাস পূর্বে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামিম ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মোঃ শাহে আলম নদী ভাঙ্গন পরিদর্শন কালে ওই ভবনটি সচোখে দেখে তাৎক্ষনিক ভাবে ভাঙ্গনরোধে ব্যবস্থা নেয়ার জণ্য নির্দেশ দিলে ২ মাস আগে ২৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ভাঙ্গনরোধে অস্থায়ী প্রকল্পর মাধ্যমে ঠিকাদার ৪৩ শত বস্তা বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফালানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিডরের পরে ঐ ভাঙ্গন কবলিত আশোয়ার গ্রামের মানুষের আশ্রয়ার্থে ২০০৮-২০০৯ অর্থ বছরে ১ কোটি ২৬ লক্ষ টাকা ব্যায়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইকোন সেল্টার ভবনটি নির্মান করা হয়। গত কয়েক বছর ধরে সন্ধ্যা নদীর ভয়াভহ করাল গ্রাসে কবলে পরে হানুয়া ও আশোয়ার গ্রামের প্রায় ২ শত পরিবার নদী গর্ভে সব হারিয়ে নিশ্ব হয়ে যায়। গত ২ বছর ধরে অব্যাহত ভাঙ্গনের কবলে পরে বিদ্যালয়টি। কয়েকদিন ধরে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা তাদের প্রাণপ্রিয় বিদ্যায়লটি রক্ষার জন্য মানবন্ধন কর্মসুচিও পালন করেছিল।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোসলেম আলী হাওলাদার জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ১ টার মধ্যে চোখের সামনে প্রাণপ্রিয় বিদ্যালয়টি নদীর গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। বিদ্যালয়ের ভিতরের মালামাল গুলো জীবনের ঝুকি নিয়ে এলাকার মানুষ আংশিক উদ্ধার করলেও ভবনটি এখন নদীর মধ্যে।
আশোয়ার গ্রামের গৃহবধু রাবেয়া বেগম জানান, গত কয়েক বছর ধরে নদী ভাঙ্গন আমাদের বাড়ী ঘর গ্রাস করে নিলেও আমরা প্রায়ই সাইকোন সেল্টারটিতে আশ্রয় নিয়েছি। সর্বশেষ আশ্রয় কেন্দ্রটিও নদী ভাঙ্গনে বিলিন হওয়ায় আমরা এখন নিঃশ্ব। ভবিষ্যতে ঝড় বন্যায় আশ্রয় নিবো এমন জায়গা নাই। আজ থেকে আশ্রয়হীন হয়ে পরেছি আমরা।
স্থানীয় নাজিম খলিফা, আবুল হোসেন ফকির, জহির হাওলাদার ক্ষোভের সহিত অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যালয়টি রক্ষার জণ্য সরকারি সর্বশেষ প্রচেষ্টা জিও ব্যাগগুলি ভাঙ্গন কবলিত স্থানে না ফেলে কোন মতে দায় সাড়া ভাবে মাটির উপরে ফালানোর কারনে দ্রুত বিদ্যালয়টি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যায়।
উপেজেলা শিক্ষা অফিসার তাসলিমা বেগম জানান, বিষয়টি শুনেছি আমরা অত্যান্ত মর্মাহত। বিদ্যালয়টি স্থানান্তর করার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এব্যাপারে উজেলা নিবার্হী অফিসার মাসুমা আক্তার বলেন, ভবনটির কিছু অংশ এখনও অছে। আগামি কাল পর্যন্ত যতোটুকু থাকবে তা নিলামে বিক্রয় করা হবে। আর বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য অস্থাইভাবে পাঠদানের ব্যবস্থা করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

বরিশাল,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ