শুক্রবার-১৩ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং-২৮শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ৩:২৩, English Version
বিএড প্রশিক্ষণবিহীন এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের খসড়া তালিকা প্রকাশ খালেদার জামিন আবেদন খারিজ নতুন আকর্ষণ নিয়ে শাকিব খানের ‘বীর’ সৈয়দপুরে টিসিবি’র মাধ্যমে খোলা বাজারে মিশরীয় পেয়াজ ৪৫ টাকা কেজি বিক্রি শুরু পলাশবাড়ীতে জাতীয় রিক্সা ভ্যান শ্রমিকলীগের ৪১ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত গোবিন্দগঞ্জে জাতীয় কৃষক সমিতির মানবন্ধন অনুষ্ঠিত বরিশালে ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবসের র‌্যালি

শৈলকুপায় গড়াই নদীর ভাঙ্গনে গ্রাম ছেড়েছে শতাধিক পরিবার

প্রকাশ: রবিবার, ৬ অক্টোবর, ২০১৯ , ৯:২৩ অপরাহ্ণ , বিভাগ : ঢাকা,সারাদেশ,

এইচ,এম ইমরান, শৈলকুপা :
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় আবারও ভয়ালরুপ ধারণ করেছে গড়াই নদীর ভাঙন। পানি বাড়ার সাথে সাথে ঝুঁকিপূর্ণ বাড়িঘর ছাড়াও প্রতিদিন নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বিঘা বিঘা ফসলী জমি। একটি স্বার্থান্বেষী মহলের প্রতিহিংসা আর রাজনৈতিক যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে বদলে যাচ্ছে ৩টি ইউনিয়নের মানচিত্র। গত এক মাসে সারুটিয়া ইউনিয়নের বড়ুরিয়া থেকে কৃষ্ণনগর পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণবাঁধে ফাটল ধরে নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। এছাড়াও হাকিমপুর ইউনিয়নের মাদলা ও খুলুমবাড়িয়া, ধলহরাচন্দ্র ইউনিয়নের কাশিনাথপুর, মাজদিয়া, উলুবাড়িয়া, নতুনভুক্ত মালিথিয়া ও লাঙ্গলবাঁধ বাজার এখন নদী ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে। ঝুঁকিতে ঝুলছে এসব গ্রামের বহু ফসলের মাঠ।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার সারুটিয়া ইউনিয়নের বড়–রিয়া কৃষ্ণনগর এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। নদীভাঙন থেকে রক্ষা পেতে বহুমানুষ তাদের ঘরবাড়ি সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে এসেছে, কেউ কেউ ঠাই নিয়েছে বেড়িবাধে অনেকে এলাকা ছেড়ে চলে গেছে সরকারি আশ্রায়ন প্রকল্পে। যাদের ঘরবাড়ি এখনো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান করছে এদের কারো চোখেই ঘুম নেই। যে কোন সময় নদীগর্ভে বিলিন হবে তাদের স্বপ্নের ঠিকানা।
৯০ দশক পর থেকেই বছরের পর বছর গড়াই নদী ভাঙ্গনের করাল গ্রাসে বদলে গেছে বড়ুরিয়া, বাখরবা, কৃষ্ণনগর, কৃর্ত্তিনগর, গোসাইডাঙ্গা, সারুটিয়া, শাহবাড়িয়া, গাংকুলা অংশে এবং হাকিমপুর ইউনিয়নের মাদলা ও খুলুমবাড়িয়া, ধলহরাচন্দ্র ইউনিয়নের কাশিনাথপুর, মাজদিয়া, উলুবাড়িয়া, নতুনভুক্ত মালিথিয়া, চরপাড়া ও লাঙ্গলবাঁধ বাজারসহ ৩ ইউনিয়নের বৃহৎ এলাকা। ২০০০ সাল পরবর্তী সময়ে বড়ুরিয়া-কৃষ্ণনগর এলাকার কিছু মানুষ ওপারে কুষ্টিয়া জেলার খোকসা থানাধীন জেগে ওঠা প্রায় দেড় হাজার বিঘা আয়তনে চরে জীবন যাপনের জন্য ভূমিহীন হিসাবে আশ্রয় খুঁজলেও এখনো তাদের ঠাঁই হয়নি। গড়াই নদীর দুই পাড়ের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের প্রতিহিংসার শিকারে অমীমাংসীত থেকে গেছে নানা উদ্যোগ। নদীর এপার-ওপার মানুষের মাঝে চর দখল নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এমনকি মারামারির ঘটনাও কম ঘটেনি।
অপরদিকে বেড়েই চলেছে নদী ভাঙন। এ বছর বর্ষার পানি বাড়তেই আবার শুরু হয়েছে ভাঙনের ভয়াল রূপ। গৃহহীন ভুক্তভোগীরা গভীর করে ড্রেজিং ব্যবস্থার মাধ্যমে ভাঙন বন্ধ, স্পার্কিং ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক টি চ্যানেল নির্মাণ অথবা স্থায়ী ব্লক দিয়ে শৈলকুপার মানচিত্র ঠিক রাখা, একই সাথে বড়ুরিয়া-কৃষ্ণনগর, কাঁশিনাথপুর, লাঙ্গলবাঁধ ও মাদলাসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের আবাদী জমিজমা বাঁচানোর সত্বর অনুরোধ জানিয়েছেন। দিনে দিনে হারিয়ে গেছে বড়–রিয়া থেকে শুরু হয়ে লাঙ্গলবাঁধ বাজার পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় ২০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ, যা পুণ:নির্মাণ জরুরি।
এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী সরোয়ার জাহান সুজন জানান, স্থায়ী ভিত্তিতে স্পার্কিং ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক টি চ্যানেল ও বন্যা নিয়ন্ত্রণবাঁধ পুন:নির্মাণসহ ভাঙনরোধ করে বাড়িঘর কৃষিজমি রায় শৈলকুপার ৩টি ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামে জরুরি প্রকল্প দিয়ে বরাদ্দের চেষ্টা করা হচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ