বৃহস্পতিবার-১২ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং-২৭শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: সন্ধ্যা ৭:২৮, English Version
সৈয়দপুরে টিসিবি’র মাধ্যমে খোলা বাজারে মিশরীয় পেয়াজ ৪৫ টাকা কেজি বিক্রি শুরু পলাশবাড়ীতে জাতীয় রিক্সা ভ্যান শ্রমিকলীগের ৪১ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত গোবিন্দগঞ্জে জাতীয় কৃষক সমিতির মানবন্ধন অনুষ্ঠিত বরিশালে ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবসের র‌্যালি দুর্নীতির জন্য সব অর্জন ম্লান হয় : প্রধানমন্ত্রী জলঢাকায় ৪১তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ বিজ্ঞান মেলা ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের শুভ উদ্বোধন লালপুরে লাল-সবুজের ফেরিওয়ালা ফরহাদ

১৩ বছরের বালক প্রতিমা তৈরি করে পূজা দিলেন

প্রকাশ: শনিবার, ৫ অক্টোবর, ২০১৯ , ৭:৪৩ অপরাহ্ণ , বিভাগ : বরিশাল,সারাদেশ,

মনির হোসেন, বরিশাল ॥
বয়স মাত্র ১৩ বছর । সদ্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গন্ডি পার করা এক বালক। সে ঝালকাঠি সদর উপজেলার বাসন্ডা ইউনিয়নের হিন্দু অধ্যসিত কুনিহাড়ি গ্রামের শ্রমজীবির বিমল কুমার দাসের পুত্র বাধন দাস। কুনিহাড়ি গ্রামের হাওলাদার বাড়ির পুজা মন্ডপে তার তৈরি করা প্রতিমায় এবার প্রথমবারের মত দুর্গাপূজা উদযাপন করা হচ্ছে।
জানাযায়, কয়েকবছর আগ থেকেই দুর্গাপূঁজার সময় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নামকরা মৃদ শিল্পীরা ঝালকাঠিতে প্রতিমা তৈরি করতে আসলে বাধন নজর রাখে শিল্পীর তুলির আচরে। মৃদ শিল্পের এককাগ্রতায় বেশ কয়েক বছর ধরেই হিন্দু ধর্ম্বালম্বীদের বিভিন্ন পূজার প্রতিমা তৈরি করেছেন তিনি। বিভিন্ন সময়ে তার নিপুন হাতের ছোঁয়ায় তৈরি করেছেন কালী, স্বরস্বতীসহ নানা প্রতিমা। প্রতিমা তৈরিতে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিণ নেই বাধনের। অন্য কারিগরদের কাজ দেখেই শিখেছেন মাটি দিয়ে প্রতিমা তৈরির নিপুন কারুকার্য।
গত বছর বাড়ির আঙিনায় প্রথম দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করে বাধন। তারপরই সবার নজরে আসে বাধনের এ শিল্পিগুন। এবছর ুদে এই শিল্পী দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করে এলাকায় সারা জাগিয়েছে। বাধনের তৈরি করা প্রতিমায় হাওলাদার বাাড়িতে যথানিয়মে উৎসাহ উদ্দিপনায় দুর্গাপূজা কর্মযজ্ঞ চলছে ধুমধামেই।

প্রতিমা কারিগর বাধন দাসের বাবা বিমল দাস জানান, দু’বছর আগে ঝালকাঠি শহরের কালীবাড়ি মন্দিরে প্রতিমা তৈরির কাজ দেখে বাধন প্রতিমা তৈরির কারিগর হওয়ার ইচ্ছা পোষন করে। বয়সে ছোট আর পারিবারিক অর্থ সংকট থাকার কারনে ছেলের এ ইচ্ছাকে গুরুত্ব দেয়া হয়নি। পরে সে বাড়িতে নিজেই মাটি দিয়ে চেষ্টা করতে থাকে প্রতিমা তৈরির। এক পর্যায়ে গত বছর সে নিজের ঘরের বারান্দার মধ্যেই তৈরি করে দুর্গাপ্রতিমা। পরে স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান তাকে দুই হাজার টাকা পুরুস্কার দেন এবং পরবর্তী বছর বড় পরিসরে তার হাতের তৈরি প্রতিমায় পূজা উদযাপন করা হবে বলে জানান। এতে উৎসাহ বাড়ে বাধনের । সে দুর্গাপূজার দুমাস আগ থেকেই বাড়ির আঙিনায় শুরু করে প্রতিমা তৈরির কাজ। নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিমা তৈরি করা হলে প্রথমবারের মত সরকারী নির্ধারিত মন্ডপ হিসেবে তালিকাভুক্ত হয় হাওলাদার বাড়ি পূজা মন্ডপ। এসে মহাখুশি ক্ষুদে প্রতিমা কারিগর বিধান দাস ও স্বজনরা। তার প্রতিমা শিল্পী হয়ে ওঠার কাজের এটাই তার প্রথম স্বীকৃতি।

মন্ডপ এলাকার বাসিন্দা উত্তম কুমার বলেন, কোন ডাইস বা খর্মা ছাড়াই ছেলেটি নিজ হাতে কার্তিক, গনেশ, লক্ষী, স্বরস্বতী, মহিঅসুর ও দূর্গা মায়ের মুখমন্ডল তৈরি করেছে যা অভাবনীয়। কিশোর বয়সে তার প্রতীভা এতই নিখুঁত, পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ভবিষ্যতে সে অনেক বড় কারিগর হতে পারবে।

কুনিহাড়ি গ্রামের হাওলাদার বাড়ীর পূজা মন্ডপ পরিচালনার সাধারণ সম্পাদক সুধাংশু চন্দ্র এদবর বলেন, প্রতিমা কারিগড় বিধান দাসের আত্মবিশ্বাস ও সাহস দেখে আমরা হতবাক। তার প্রতিভা সত্যিই প্রসংশনীয়। পাল বংশের সন্তান না হয়েও কোন প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই বিধান দাস যে প্রতিমা তৈরির কারিগড় হয়ে উঠছে তা স্যতিই বিরল ঘটনা। তাকে সঠিক ভাবে পৃষ্ঠপেষকতা প্রদান করা হলে সে নিজেকে আরো দক্ষ প্রতিমা শিল্পি হিসেবে তৈরি করতে পারবে।

হাওলাদার বাড়ির দূর্গাপূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি সঞ্জিব হাওলাদার জানান, এ মন্ডপের পুজায় অংশগ্রহনকারীরা বিগত বছর গুলোতে আশেপাশের বিভিন্ন মন্ডপে পুজা দিতো। প্রতিমা তৈরিতে মোটা অংকের টাকা খরচ হত বিধায় এখানে পূজা আয়োজন করা সম্ভব হত না। এবছর বিমল দাসের পুত্র বাধন দাস এত অল্পবয়সেই দক্ষ কারিগরের মত দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করে পুজা আয়োজন করায় আমরা সনাতন ধর্ম্বালম্বীরা আনন্দিত। প্রত্যাশা করি সে ভবিষ্যতে অনেক বড় মৃদ শিল্পি হয়ে গড়ে উঠবে।

এবিষয়ে আলাপকালে ক্ষুদে প্রতিমা কারিগর বিধান দাস বলে, আমি নিজ হাতে প্রতিমা বানাবো এটা আমার শখছিলো। শখকে আমি টার্গেটে পরিনত করি। সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছা ও সকলের আশির্বাদে আজ আমি সফল হয়েছি। আমার তৈরি করা প্রতিমা এ বছর হাওলাদার বাড়িতে প্রথম পূজা উদযাপন করা হচ্ছে। এটা অনেক বেশি আনন্দের।

এদিকে মাত্র ১৩ বছর বয়সে দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করে পুজা উদযাপন করার খবরে দর্শনার্থীদের ভীর বাড়ছে হাওলাদার বাড়ির পুজা মন্ডপে। সপ্তমির দিন থেকেই নানা বয়সের দর্শনাথীরা পুজা মন্ডপ ঘুরে দেখতে আসছেন। আর এত অল্প বয়সের কারিগরের হাতের নিখুত ছোঁয়ায় তৈরি প্রতিমা দেখতে দর্শনার্থীদের বাড়িতি চাপ। কেউ কেউ প্রতিমা কারিগর বিধান দাসের সাথে সেলফি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড করে ক্ষুদে শিল্পী বিধানের প্রতিভা জানান দিচ্ছেন।

আপনার মতামত লিখুন

বরিশাল,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ