মঙ্গলবার-২৮শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং-১৫ই মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ১:০৩, English Version
নলছিটির রানাপাশা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এস.এসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংর্ধ্বনা হাকিমপুরে বৈদেশিক কর্ম সংস্থানের জন্য দক্ষতা ও সচেতনতায় প্রচার প্রেস ব্রিফিংও সেমিনার অনুষ্ঠিত শিবগঞ্জে হিজড়াদের মধ্যে শীত বস্ত্র বিতরণ ছাতকে সু-সেবা নেটওয়ার্কের ত্রৈমাসিক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত অবৈধ হট ফিল্মস বিক্রির অভিযোগে গ্রেপ্তার হোলসেলার ব্যবসায়ী। পরীমনি পুলিশে যোগদান করলেন পাঁচ বছরে যতটা নিচে নামলেন মোস্তাফিজ

সৈয়দপুর উপজেলা ভূমি অফিসে চলছে নথি গায়েব বাণিজ্য

প্রকাশ: সোমবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ , ৯:৪৬ অপরাহ্ণ , বিভাগ : রংপুর,সারাদেশ,

মো ঃ জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা ॥ নীলফামারীর সৈয়দপুর ভূমি অফিস ডিজিটাল তথা অনলাইন কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে শুরু হয়েছে গ্রাহক হয়রানীর নতুন ও অভিনব কায়দা। এর মাধ্যমে ভূমি অফিসের পূর্বের প্রতারণামূলক অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অপকর্ম এখনও বিদ্যমান রয়েছে। যার ফলে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছে জমি সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে আগত সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে যারা জমির খাজনা-খারিজ ও ডিসিআর করতে আসেন তারা চরম দূর্ভোগে পড়েন অনেক কষ্টে সংগৃহিত কাগজপত্রসহ খারিজের জন্য দেওয়া নথি তথা ফাইল (হার্ড কপি) গায়েব হওয়ায়। এমন অভিযোগ হর হামেশায় পাওয়া যাচ্ছে। অনলাইন করার জন্য জমা দেওয়া নথির কোন রেজিস্টার করা না হওয়ায় এমন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী কয়েকজন জানান, ভূমি অফিসে খারিজের জন্য অনলাইন করতে দেওয়া নথি অফিস থেকে গায়েব হয়ে যাওয়ায় তারা চরম বেকায়দায় পড়েন। পরে অফিসের লোকজনকে বললে তারা নথি সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে সাফ জানিয়ে দেয়। অথচ দালালদের মাধ্যমে কিছু টাকা দেওয়া হলে সেই হারানো নথি অফিস থেকেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বের করে দেন এবং পরবর্তীতে তা অনলাইন রেজিষ্ট্রারভুক্ত হয়।
একইভাবে অভিযোগ রয়েছে যে, ভূমি অফিসে খারিজ ও ডিসিআর বাবদ খরচ সরকার নির্ধারিত করে দিলেও সেই টাকায় খারিজ করতে পারছেন না জমির মালিকেরা। এক্ষেত্রে অতিরিক্ত টাকা না দিলে হয়রানীর শিকার হতে হচ্ছে তাদের। এভাবে নানা অজুহাতে অর্থ আদায় করছেন অফিসের লোকজন।
বিভিন্ন জনের অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, উপজেলা ভূমি অফিসের প্রধান অফিস সহকারী (অতিঃ দাঃ) বিনয় কুমার, অফিস সহকারী কাম নাজির মোঃ আব্দুর রশিদ, অফিস সহায়ক আবু সাঈদ এসব দূর্নীতি তথা অবৈধ কারবারে জড়িত। তারা সংঘবদ্ধ হয়েই এ কারবার চালিয়ে যাচ্ছে।
সৈয়দপুর শহরের আদানী মোড় এলাকার মকবুল হোসেন ও পাশ^বর্তী পার্বতীপুর উপজেলা বেলাইচন্ডী ইউনিয়নের লিটন জানান, তাদের জমি খারিজের কাগজপত্র ভূমি অফিস থেকে গায়েব হয়ে গিয়েছিল। পরে ১ হাজার টাকা দিয়ে তা বের করা হয় এবং অনলাইন রেকর্ড করা হয়।
তারা আরও অভিযোগ করেন যে, খারিজের জন্য ডিসিআর বাবদ ১ হাজার ১৫০ টাকা নির্ধারিত থাকলেও নেয়া হয়েছে ২ হাজার টাকা। অনলাইন ডকেট করতেও ২০০ টাকা অতিরিক্ত দিতে হচ্ছে। এ ধরণের খবর ছড়িয়ে পড়ায় শহর জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
এ ব্যাপারে অফিস সহকারী কাম নাজির মোঃ আব্দুর রশিদের সাথে তার মুঠোফোন ০১৭১৮২৭৫৪৫২ নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এখানে দালালের অভাব নাই। কে বা কারা অতিরিক্ত টাকা নিয়েছে তা আমার জানা নাই।
সৈয়দপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পরিমল কুমার সরকার বলেন, ভূমি অফিসে দূর্নীতি করার কোন সুযোগ নেই। তারপরও যদি কোন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যায় তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

রংপুর,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ