রবিবার-১৭ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং-২রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: সকাল ৬:৩০, English Version
সংযুক্ত আরব আমিরাত গেলেন প্রধানমন্ত্রী সৈয়দপুরে ডিবি ও এনএসআই পরিচয়ে মোটর সাইকেল চেকিং এর নামে চাঁদাবাজির সময় আটক-২ সৈয়দপুরে বাংলাদেশ পৌরসভা ডিপ্লোমা প্রকৌশলী রংপুর বিভাগীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ থাকলেও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অস্বাভাবিকহারে পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে লালপুরে রোপা আমনের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দাম নিয়ে হতাশা! সৈয়দপুরে ট্রেনে কাটা পড়ে যুবকের মৃত্যু তরুণ প্রজন্মকে আগ্রহী করে তুলতে হবে ……মারুফ মন্ডল

সৈয়দপুর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে টাকা ছাড়া ডেলিভারী সেবা মেলেনা

প্রকাশ: সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ , ৯:৪৫ অপরাহ্ণ , বিভাগ : রংপুর,সারাদেশ,

মোঃ জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা ॥ নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র হাসপাতালে টাকা ছাড়া প্রসবকালীন কোন সেবাই মেলেনা রোগীদের। বিশেষ করে ডেলিভারী রোগীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে বিস্তর। স্বাভাবিক তথা নরমাল ডেলিভারী হওয়া সত্বেও হাসপাতালের লোকজন সিজার করার পরিমান অর্থ দাবি করে বসে। আর যদি সিজার করা হয় তাহলে তো কথাই নেই। তাদের দাবি অনুযায়ী টাকা দেওয়া না হলে রোগী ও তার স্বজনদের সাথে খারাপ আচরণ করারও অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতালে দায়িত্বরত নার্স নাজমুন নাহারের বিরুদ্ধে এ ধরণের অভিযোগ হর হামেশাই শোনা যায়। এনিয়ে প্রতিনিয়তই ওই নার্স ও রোগীর সাথের লোকজনের বাক-বিতন্ডার ঘটনা যেন নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা। এতে জরুরী সময়ে প্রয়োজনীয় সেবা পেতে আসা মানুষ যেমন হয়রানীর শিকার হন তেমনী অনেক সময় দুস্থ অসহায় দরিদ্র রোগীরা চরম বেকায়দায় পড়ে যায়। দিনে বা রাতে যে কোন সময়ই ওই নার্স দায়িত্বে থাকলে আগত রোগীদের কাছে অতিরিক্ত অর্থ চাওয়ার ঘটনা যেন ঘটবেই। এমতাবস্থায় সাধারণ মানুষ সরকারী এ হাসপাতাল থেকে সেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। এর ফলে সরকার প্রদত্ব সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে ২৩ সেপ্টেম্বর (সোমবার) বিকাল ৫টায়। এদিন সৈয়দপুর শহরের চাঁদনগর আলম প্রেস মহল্লার মোঃ এরশাদের স্ত্রী শাবানা (২২) কে তার বাবার বাড়ির গোলাহাট থেকে প্রসব বেদনা শুরু হলে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে নিয়ে আসেন তার স্বজনরা। শাবানা ওই হাসপাতালে গর্ভ ধারণ করার পর থেকেই নিয়মিত চেকআপ তথা ডাঃ জাহেদুল ইসলামের চিকিৎসাধীন ছিল। সে অনুযায়ী হাসপাতালে আসার পর পরই শাবানা স্বাভাবিকভাবেই (নরমাল ডেলিভারী) এর মাধ্যমে সন্তান প্রসব করেন। কিন্তু নার্স নাজমুন নাহার ওই রোগীর কাছ থেকে ২ হাজার ৫ শত টাকা দাবি করেন। এতে রোগীর সাথে থাকা ননদ রোজি নরমাল ডেলিভারির ক্ষেত্রে কেন এত টাকা দিতে হবে প্রশ্ন করলে নার্স নাজমুন নাহার তাদের সাথে খারাপ আচরন করেন এবং টাকা না দেওয়ায় প্রয়োজনীয় সেবা দিতে গড়িমসি শুরু করে।
এমতাবস্থায় রোগীর লোকজন স্থানীয় মহিলা কাউন্সিলর সাবিহা সুলতানাকে বিষয়টি জানালে তিনি তাৎক্ষনিক হাসপাতালে যান এবং অতিরিক্ত টাকা চাওয়ার কারণ জানতে চান। তখন নার্স নাজমুন নাহার বলেন, ওষুধ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস বাবদ কিছু টাকা চাওয়া হয়েছে। এসময় রোগীর লোকজন তার কথার প্রতিবাদ করে অতিরিক্ত টাকা চাওয়ার দাবি করলে উভয় পক্ষের মধ্যে আবারও ঝগড়া লেগে যায়। এতে মহিলা কাউন্সিলর বিষয়টি মিমাংসা করলেও রোগীদের ৫ শ’ টাকা প্রদান করতে হয়। অথচ এ হাসপাতালে সরকারীভাবে স্বাস্থ্য সেবা দেওয়ার কথা। তাই কোন অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কোন নিয়ম নাই।
এভাবে বিভিন্ন সময় নার্স নাজমুন নাহার কর্র্র্তৃক অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়ে উপস্থিত আরও অনেকে মন্তব্য করেন এবং তারা এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের উদাসিনতার অভিযোগ করেন।
এ ব্যাপারে নার্স নাজমুন নাহার বলেন, সুতা ও ওষুধপত্র বাবদ রোগীর কাছে টাকা চাওয়া হয়। অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়নি।
মহিলা কাউন্সিলর সাবিহা সুলতানা বলেন, রোগীর কাছ থেকে ২ হাজার ৫শ’ টাকা দাবি করা হয়। পরে ৫শ’ টাকা দিলে নার্স রোগী ও স্বজনদের সাথে খারাপ আচরণ করে।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ জাহেদুল ইসলাম এর ০১৭১১১৫৪১২১ নম্বরের মুঠোফোনে বার বার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ না করায় তার মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

আপনার মতামত লিখুন

রংপুর,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ