মঙ্গলবার-২৮শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং-১৫ই মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ১২:৩২, English Version
নলছিটির রানাপাশা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এস.এসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংর্ধ্বনা হাকিমপুরে বৈদেশিক কর্ম সংস্থানের জন্য দক্ষতা ও সচেতনতায় প্রচার প্রেস ব্রিফিংও সেমিনার অনুষ্ঠিত শিবগঞ্জে হিজড়াদের মধ্যে শীত বস্ত্র বিতরণ ছাতকে সু-সেবা নেটওয়ার্কের ত্রৈমাসিক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত অবৈধ হট ফিল্মস বিক্রির অভিযোগে গ্রেপ্তার হোলসেলার ব্যবসায়ী। পরীমনি পুলিশে যোগদান করলেন পাঁচ বছরে যতটা নিচে নামলেন মোস্তাফিজ

নলছিটির সুগন্ধা নদীর ভাঙনে ষাটপাকিয়া ফেরিঘাট

প্রকাশ: শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ , ৬:২০ অপরাহ্ণ , বিভাগ : বরিশাল,সারাদেশ,

বরিশাল ব্যুরো/ঝালকাঠি প্রতিনিধি:ঝালকাঠির নলছিটিতে সুগন্ধা নদীর আকস্মিক ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে চারটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ফেরিঘাটের গ্যাংওয়ে। ভেঙে গেছে একটি সেতুর একাংশ। সম্প্রতি নলছিটি উপজেলার ষাইটপাকিয়া ফেরিঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে নলছিটির সঙ্গে ঝালকাঠির গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে, দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রত্যদর্শীরা জানায়, ১৬ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে বিকট শব্দে ফেরির গ্যাংওয়ে ভেঙে পড়ে নদীতে। মুহূর্তের মধ্যে নদীতে বিলীন হয়ে যায় ফেরিঘাটের চারটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ট্রলার শ্রমিকদের একটি অফিস ক। এলাকার লোকজন এসে নদী থেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কিছু মালামাল উদ্ধার করতে পারলেও বেশিরভাগ নদীতে তলিয়ে গেছে। এতে ৫ লাখ টাকার তি হয়েছে বলে নদী ভাঙনের শিকার ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। ফেরির গ্যাংওয়ে ভেঙে যাওয়া অনির্দিষ্টাকালের জন্য ফেরি চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ক্রেন এনে নতুন করে গ্যাংওয়ে স্থাপন করার পর ফেরি চলাচল করতে পারবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ছাড়া নদী ভাঙনে ভেঙে গেছে ফেরিঘাট সংলগ্ন একটি সেতুর একাংশ। স্থানীয়রা বাংলাদেশ বুলেটিন কে জানান, গত দুই বছর ধরে সুগন্ধা নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ষাইটপাকিয়া ফেরিঘাট, বহরমপুর ও কাঠিপাড়া গ্রাম। নদীতে প্রায় ২০টি বসতঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা ভেঙে গেছে। অনেকে কয়েক দফায় ঘর-বাড়ি অন্যত্র সরিয়েও সুগন্ধা নদীর ভাঙন থেকে রা পায়নি। কয়েক দফায় ভাঙনে নিঃস্ব হয়েছে অসংখ্য পরিবার। হুমকির মুখে রয়েছে আরো ৫০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, বসতঘর, শিা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা। ষাইটপাকিয়া ফেরিঘাট এলাকার ব্যবসায়ী ইউসুফ হাওলাদার বলেন,গতকাল সকাল ১০টার দিকে প্রথমে একটি শব্দ পাই। এর পরে ধীরে ধীরে আমার দোকান দেবে যায়। এক পর্যায়ে দোকান থেকে মালামাল সরাতে থাকি। হঠাৎ ভাঙনে নদীতে চলে যায় দোকানঘর ও মালামাল। কিছু মালামাল সরিয়ে রাখতে পেরেছি। বেশিরভাগই নদীতে তলিয়ে গেছে। ব্যবসায়ী ছোবাহান হাওলাদার বলেন, ভাঙন শুরু হওয়ার পরে কোনো সময় পাইনি। আমি দোকান থেকে লাফ দিয়ে বাইরে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নদীতে তলিয়ে গেছে। কোনো মালামাল রাখতে পারিনি। নদী থেকে শুধু টিন তুলতে পেরেছি। ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালক আবদুর রহিম শরীফ বলেন, আমি একটি দোকানে বসে চা খাচ্ছিলাম। এ সময় হঠাৎ ভাঙন শুরু হয়। এখানের চারটি দোকান ও ট্রলার শ্রমিকদের একটি অফিস মুহূর্তের মধ্যে ভেঙে যায়। স্থানীয় বাসিন্দা হাবিব সিকদার বলেন, দুই বছর ধরে সুগন্ধা নদীর ষাইটপাকিয়া ফেরিঘাট এলাকা ভেঙে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে অর্ধকিলোমিটার নদীতে ভেঙে গেছে। এখানে একটি বাজার ছিল, তা আর নেই। অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসতঘর ভেঙে গেছে। আমার বসতঘর কয়েক দফায় সরাতে হয়েছে। সোমবার সকালে চোখের সামনে নদীতে ভেঙে গেলে কয়েকটি দোকান। সরকার নদী ভাঙনের জন্য এখানে কোনো প্রকল্প করছে না। ঝালকাঠি ও বরিশালে যাতায়াতের জন্য ষাইটপাকিয়া এলাকাটি প্রধান মাধ্যম। নদীতে সব ভেঙে গেলে মানুষের যাতায়াতেও কষ্ট হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এখানে বাঁধ দিয়ে আমাদের রা করার দাবি জানাচ্ছি। ষাইটপাকিয়া ফেরির সুপারভাইজার মোশাররফ হোসেন বলেন, ভাঙনে ফেরিঘাটের গ্যাংওয়ে ভেঙে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এখন নতুন করে গ্যাংওয়ে তৈরি করতে হবে। ক্রেন মেশিন দিয়ে নদী থেকে তুলে পুনস্থাপন করার জন্য সময় লাগবে। কবে নাগাদ ফেরি চলাচল শুরু করতে পারবো বলতে পারি না। ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোেের্ডর নির্বাহী প্রকৌশলী এইচ এম আতাউর রহমান বাংলাদেশ বুলেটিন কে বলেন, ষাইটপাকিয়া এলাকায় নদী ভাঙনের খবর পেয়েছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপকে জানানো হয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে বরাদ্দ পেলে গুরুত্ব অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

বরিশাল,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ