- মুক্তিনিউজ24.কম - https://www.muktinews24.com -

পার্বতীপুরে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন নেই, রোগিরা বিপাকে

সোহেল সানী:
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে আকস্মিকভাবে বেড়ে গেছে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব। প্রায়ই কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হচ্ছেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ। কিন্ত স্থানীয় হাসপাতাল ও পৌরসভায় জলাতঙ্কের রোগের ভ্যাকসিন সরবরাহ থাকায় বিপাকে পড়েছেন রোগিরা। ভুক্তভুগিরা বলেছেন, বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে ভ্যাকসিন হাসপাতালে না পেয়ে চড়া দামে বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। এনিয়ে বেশ বিপাকে পড়েছেন দরিদ্র রোগিরা। আগষ্টের মাঝামাঝি সময় থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন কারনে কুকুরের উপদ্রব বাড়তে থাকে।
জানা যায়, প্রতিদিনেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ের শিকার কমপক্ষে অন্তত ১০-১৫ জন মানুষ। ভুক্তভুগিদের অভিযোগ, পৌর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বেওয়ারিশ কুকুর নিধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে গ্রামের মানুষেরাই বেশি কুকুরের কামড়ের শিকার হচ্ছেন।
পার্বতীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এমনকি পৌরসভায়ও কুকুর বিড়ালের কামড় থেকে সুষ্ঠ জলাতঙ্ক রোগের প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহৃত এমআরভি (এন্টি র‌্যাবিশ ভ্যাকসিন) ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে না। এআরভি ভ্যাকসিনের জন্য প্রতিদিন্ এসব সরকারী হাসপাতাল ও পৌরসভা কার্যালয়ে কুকুর কিংবা বিড়ালের কামড়ের রোগিরা আসছে। কিন্তু কোথাও বিনামুল্যের সরকারী এআরভি ভ্যাকসিন মিলছে না।
পার্বতীপুর পৌরসভার স্যানেটারী ইন্সপেক্টর সুলতানা রাজিয়া বলেন, সর্বশেষ ২০১২-১৩ সালের ২০শে জুন গণপ্রতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয় স্থানীয় সরকার বিভাগ পৌর-২ শাখা থেকে পৌরসভাসমূহের জন্য উন্নয়ন সহায়তা থেকে বরাদ্দ খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ জলাতঙ্ক রোগীদের চিকিৎসা জন্য ঔষধ (ভ্যাকসিন) ৯৫ হাজার ৮৪৬ টাকা বরাদ্দ আসে। ভ্যাকসিনের বরাদ্দকৃত ৫০ হাজার টাকায় ফ্রিজ কেনা হয়। আর ৪৬ হাজার টাকায় কেনা হয় ৯২টি জলাতংকের ভ্যাকসিন। এরপর থেকে আর কোন ভ্যাকসিন পৌরসভায় আসেনি। পৌরসভায় কুকুরের ভ্যাকসিন রেজিষ্টারে দেখা যায়, ২০১৩ সালের ১৭ জুলাই থেকে ২০১৪ সালের ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত কুকুরের কামড়ানোর রোগিদের মধ্যে ২৫২ ইনজেকশন দেয়া হয়েছে। তবে, পৌরসভার রাজস্ব খাত থেকে ১৬০ ইনজেকশন বাইরে থেকে কিনে এনেছেন বলে জানালেন পার্বতীপুর পৌরসভা প্যানেল মেয়র মঞ্জুরল আজিজ পলাশ। পার্বতীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে জলাতঙ্ক রোগির সুনিদিষ্ট কোন তথ্য নেই এমনটিই জানালেন হাসপাতালের পরিসংখ্যানবিদ সেলিম উদ্দীন।

আপনার মতামত লিখুন