বৃহস্পতিবার-১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং-৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ২:০৭
অধিগ্রহণকৃত ২৯১ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আত্মীকরণের আদেশ দ্রুত জারি করা হবে রিফাত হত্যা : পলাতক ৯ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাদারীপুরে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২ প্রকাশ্যে আসছে আইয়ুব বাচ্চুর ‘রুপালি গিটার’ ফিলিপাইনে ট্রাক খাদে পড়ে নিহত ২০ দলের কেউ অন্যায় বা দুর্নীতি করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা: কাদের মাহমুদল্লার ব্যাটে লড়াকু সংগ্রহ বাংলাদেশের

প্রতিবন্ধী স্কুল পরিচালনায় বিশেষ নীতিমালা অনুমোদন

প্রকাশ: সোমবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৯ , ১০:২৩ অপরাহ্ণ , বিভাগ : শিক্ষা,

এমএন২৪.কম ডেস্ক: আজ সোমবার ১৯ আগষ্ট ২০১৯ মন্ত্রিপরিষদ সভায় প্রতিবন্ধী স্কুল পরিচালনায় বিশেষ নীতিমালা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ নীতিমালার খসড়া অনুমোদন দেয়া হয়।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিবন্ধী স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অটিজম, সেরিব্রাল পালসি, ডাউন্স সিনড্রোম ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিশু ও ব্যক্তিসহ প্রতিবন্ধী শিশুদের মূলধারার বিদ্যালয়ে যাওয়ার উপযোগী করে গড়ে তুলতে জেলায় জেলায় সরকারি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। সে লক্ষ্যে একটি বিশেষ শিক্ষা নীতিমালা অনুমোদন হয়েছে। ২০০৯ সালে একটি বিশেষ শিক্ষা নীতিমালা থাকলেও সেটিকে সংস্কার করে যুগোপযোগী করা হয়েছে।
একই সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি ছাড়াও ভবিষ্যতে যে সকল প্রতিবন্ধী স্কুল, প্রতিষ্ঠান, সংস্থা, প্রতিবন্ধী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য আবেদন করবে তাদের শিক্ষাক্রম কি হবে তা এখনই নির্ধারণ করা জরুরি। সংশ্লিষ্ট সকলের মতামত নিয়ে নীতিমালাটি চুড়ান্ত করা হয়েছে। সূত্র- এটিএন নিউজ
এ বিষয়ে জাতীয় প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, দেশে ৫০ প্রতিবন্ধী স্কুল ছিলো যেগুলো সুইডেন সরকারের অর্থায়নে পরিচালিক হয়ে আসছে।
উল্লেখ্য দেশে বর্তমানে এমপিওভুক্ত প্রতিবন্ধী স্কুলের সংখ্যা ৬২টি। শিক্ষার্থীর সংখ্যা আট হাজার। তারা শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিমাসে সরকার থেকে সাত শ টাকা করে ভাতাও পাচ্ছেন। নতুন করে প্রণীতব্য নীতিমালায় প্রতিবন্ধী স্কুলের শিক্ষকদের সরকারি বেতন-ভাতাদির অতিরিক্ত মাসিক আরও ১ হাজার ৫’শ টাকা করে প্রণোদনা তথা ইনসেনটিভ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রনালয় থেকে স্বীকৃতি প্রাপÍ হয়েছে ৭০টি বিদ্যালয়।
দেশে এখন পর্যন্ত ১২ প্রকার প্রতিবন্ধী রয়েছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে সমসুবিধা পাওয়া ও অধিকার প্রদান একটি সাংবিধানিক অধিকার। ইতিমধ্যে প্রনীত প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩, নিউরোডেভেলপমেন্ট প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাষ্ট আইন ২০১৩ ওই আইনের অধীনে দুইটি বিধিমালাও হয়েছে। বাস্তবাকে কিছু সমস্যাও রয়েছে। নীতিমালায় বলা হয়েছে, সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত সকল প্রতিবন্ধী স্কুল এই নীতিমালার আলোকে শিক্ষাক্রম, পাঠ্যসূচি, মূল্যায়ন, পরিদর্শন ও তদারকি করতে হবে। স্কুলে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, কারিগরি শিক্ষা, খেলাধুলা, বিনোদনসহ বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
প্রতিবন্ধী স্কুলের শিক্ষার্থী ১০০ হলে স্বীকৃতি, বেতন ভাতার জন্য আবেদন করা যাবে। তবে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ৭৫ জন হলেই আবেদন করা যাবে। হাওড়, বাঁওড়, চরাঞ্চল, পশ্চাৎপদ জনপদ, দুর্গম এলাকা এবং পার্বত্য জেলাগুলোর জন্য কমপক্ষে কতজন শিক্ষার্থী হলে স্কুল পরিচালনা, বেতন ভাতার জন্য আবেদন করতে পারবে তা সরকার নির্ধারণ করবে। প্রতিটি স্কুলে শিক্ষকও শিক্ষার্থীর অনুপাত হবে ১:১০। অর্থাৎ একজন শিক্ষক ১০ জন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে পড়াবেন। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী স্কুলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অনুপাত হবে ১:৮ জন। পেশাজীবী স্কুলে অনুপাত হবে ১ : ২০ জন। স্কুলের আয়া অর্থাৎ সহায়ক হবে ১ : ১০ জন। প্রতি ৫০ জন অনাবাসিক শিক্ষার্থীর জন্য একজন ভ্যান চালক হবেন ১ জন।
ভ্যানে প্রতি ২৫ জনের জন্য একজন ভ্যান চালক থাকবে। নৈশপ্রহরী হবে ২ জন। স্কুলে শিক্ষার্থীদের চাহিদার আলোকে অডিওলজিক্যাল পরীক্ষা, হেয়ারিং এইড, ফিজিওথেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি, বিহেভিওরাল থেরাপি, কাউন্সিলিং এবং শরীর চর্চার ব্যবস্থা থাকবে। শিক্ষকদের জন্য পাঠদান উপকরণ হিসেবে এবকাস ও ট্রেইলর ফ্রেম, টকিংবুক, হুইল চেয়ার, লো ভিশন গ্লাস, পেনসিল গ্রিপস, বুক হোল্ডার, রিডিং স্ট্র্যান্ড, সাইন ল্যাংগুয়েজ উপকরণ, সাদাছড়ি, হেয়ারিং এইড, ক্রাচ, গ্লোব, ম্যাপ, ফাশ কারড, টকিং ক্যালকুলেটর, স্ক্রিন রিডারসহ যাবতীয় শিক্ষা উপকরণ থাকবে। আরও থাকবে ছবির বই, পুঁতি, ডিসপ্লে বোর্ড, পাপেট, কাঠি, ব্লক, পাজেল এবং ফোরমেট।
শিক্ষার্থীদের প্রতিবন্ধিতার ধরন, সক্ষমতা ও বয়স অনুযায়ী প্রাক প্রাথমিক, প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মাধ্যমিক পর্যন্ত লেখাপড়ার ব্যবস্থা থাকবে। ১৫ বছরের অধিক বয়সী প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের বৃত্তিমূলক ও কারিগরি শিক্ষার পাশাপাশি পুনর্বাসন, প্রশিক্ষণ এবং গুরুতর শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশুদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতিটি বিদ্যালয় সহজ, উপযোগী, বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা উপকরণ থেরাপিসংশ্লিষ্ট সরঞ্জামাদির ব্যবস্থা থাকতে হবে।
প্রতিবন্ধিতা বিষয়ে কর্মসংস্থানসহ সব বিষয়ে বাবা-মা যতœকারী বা পরিবারের সদস্যদের বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন বিশেষ দক্ষতা প্রশিক্ষণ দেবে। পাঁচ বছর বয়সী শিক্ষার্থীর প্রাক প্রাথমিক শিক্ষাক্রমে ভাষা বিকাশের জন্য স্পিচ থেরাপি বাধ্যতামূলক। শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধীদের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগ্রহ ও চাহিদার ভিত্তিতে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ বুটিক, সেলাই, সূচিকর্ম, ব্লক বাটিক, বই বাঁধাই, ঠোঙ্গা বানানো, মোম বানানো, হাঁস মুরগি পালন, বেকারি প্রশিক্ষণ, বাগান করা, গৃহস্থালি কাজ, হাটবাজার প্রভৃতি বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে।
এ ছাড়া কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, বিউটিফিকেশন, ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ের বিষয় প্রশিক্ষণ দিয়ে সরকারি বেসরকারি সংস্থার চাহিদা মোতাবেক কাজে লাগানো হবে।

 

আপনার মতামত লিখুন

শিক্ষা বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ